শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

মোঃ সোহেল রানা, মেডিকেল বিডি প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হওয়ার কারনে এ উপজেলা সহ পাশ্ববর্তী ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার দুই লক্ষাধিক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ মান- সম্মত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের পাশে শিবালয় উপজেলার উথলীতে অবস্থিত এ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। আর এ স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটির অতি সন্ন্যিকটেই অবস্থিত আরিচা ও পাটুরিয়া ফেরিঘাট। এ উপজেলায় ২৩ কিলোমিটার মহাসড়ক ও ২ টি ফেরি ঘাট থাকার কারনে প্রতিনিয়তই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে এছাড়া এ উপজেলার ও পাশ্ববর্তী দুই উপজেলাসহ চরাঞ্চলের নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের চিকিৎসা সেবা গ্রহনের জন্য এখানে কেবল মাত্র এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি রয়েছে।

হাসপাতালটিতে ১৭ চিকিৎসকের পদ থাকলেও গত বছরের এপ্রিল থেকে আরএমওর ও নভেম্বর থেকে কনসালটেন্ট (ডেন্টাল) এর পদটি খালি রয়েছে। এছাড়া এ হাসপাতালের আরও ৭ জন ডাক্তার জেলা শহর ও ঢাকার হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছেন। বর্তমানে ৮ জন ডাক্তার থাকলেও গাইনী বিভাগের ডাক্তার বেশীর ভাগ দিন গুলোতেই অনউপস্থিত থাকেন। এ সমস্যাগুলোর কারনেই মান- সম্মত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়াসহ চিকিৎসা সেবা গ্রহনের ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের।

হেলথ টিপস পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

ভুক্তভোগী রাহেলা আক্তার বলেন, আমি চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা গাইনী ডাক্তারের কাছে এসেছি দেখানোর জন্য। কিন্তু এসে শুনতে পেলাম উনি হাসপাতালে নেই। গত সপ্তাহেও এসেছিলাম সেদিনও উনাকে পাইনি। আমরা গরীব মানুষ ভাই শহরে গিয়ে প্রাইভেট ডাক্তার দেখানোর মতো টাকা- পয়সা আমাদের নাই। আমরা গরীব বলে আমরা চিকিৎসা বিনে কি মারা যাবো ভাই? আরেক ভুক্তভোগী শোভন আহাম্মেদ জানান, প্রচন্ড জ্বর নিয়ে আসছি ডাক্তার দেখাতে। প্রায় ঘন্টা খানিক অপেক্ষার পর ডাক্তার দেখাতে পারলাম। কিন্তু বুঝলাম না ডাক্তার আমাকে দূর থেকে দেখেই ওষুধ লিখে দিলো জ্বরের কথা শোনার আগেই। আমি বুঝলাম না আমার কাছে ভালো ভাবে সমস্যা না জেনেই কিভাবে আমার ওষুধ লিখে দিলেন ডাক্তার।

হাসান নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, হাসপাতালের জরুরী বিভাগের নিয়োজিত মেডিক্যাল অফিসার বেশীর ভাগ সময় দোতলায় তার রুমে ঘুমিয়ে থাকে। আর রোগী দেখার কাজ সাড়েন সহকারী মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট যারা থাকেন। তাছাড়া বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ ও সেলফিম্যানদের ভীড়ে এখানেও ডাক্তার দেখাতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। ডেপুটেশনে থাকা ৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে ডাঃমেহতাব উদ্দিন আহাম্মেদ( মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে) এছাড়া ডাঃ শামসুন নাহার, ডাঃ এ. জেড. এম আহসান উল্লাহ, ডাঃফেরদৌসী আহাম্মেদ, ডাঃ একে. এম সাইফুল ইসলাম ও ডাঃ মাহমুদুল হাসান ( কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মানিকগঞ্জ) এবং ডাঃ ফেরদৌস রায়হান ( শহীদ সহরওয়ার্দী হাসপাতাল) ঢাকায় রয়েছেন।

হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ- শাহ আলমগীর জানান, চিকিৎসক সংকট তো রয়েছেই এছাড়াও আমাদের এখানে পোস্টিং অথচ সেইসব ডাক্তাররা মানিকগঞ্জ সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। ডাঃমোঃআরশ্বাদ উল্লাহ (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা)শিবালয়, জানান, এ হাসপাতালের বর্হির বিভাগে গড়ে প্রতিদিন তিনশোর উপরে রোগীর সেবা দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারনে ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও রোগীদের মান- সম্মত চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তবে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়ে বলে জানান তিনি। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট সমাধানসহ মান- সম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে শিগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ প্রত্যাশা সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

nine − 8 =