ম্যালেরিয়া রোগে করণীয়

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 30
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    30
    Shares

ম্যালেরিয়া রোগে করণীয়

মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই ম্যালেরিয়া রোগ ছিল বলে জানা গেছে। আমাদের দেশে অতীতে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে, বহু লোক মারা যায়। যদিও ১৭৫৩ সালে এই রোগ আবিষ্কৃত হয়, কিন্তু অনেক দিন পর্যন্ত অজ্ঞাত ছিল। ১৮৮০ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী চালর্স ল্যাভেরন মানুষের রক্তে সর্বপ্রথম ম্যালেরিয়া জীবাণু আবিষ্কার করেন এবং ম্যালেরিয়া রোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে পান। ১৮৮৮ সালে রোনাল্ড রস কলকাতায় অ্যানোফিলিস জাতীয় মশকী আবিস্কার করেন। ১৮৮৯ সালে রোনাল্ড রস দেখেন, ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত অসুস্থ ব্যক্তি থেকে এই জীবাণু সুস্থ ব্যক্তিতে মশকী বহন করে। গ্লাসি ১৮৯০ সালে অ্যানোফিলিস এবং মানুষের মধ্যে ম্যালেরিয়া জীবাণু সম্পর্কতা নির্ধারণ করেন। ১৯০০ সালে প্যাট্রিক ম্যানসন অ্যানোফিলিস মশকীই যে ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহন করে তা প্রমাণ করেন। ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট রক্তের লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে বংশ বৃদ্ধি করে এবং লোহিত কণিকা ধ্বংস করে। ম্যালেরিয়া জীবাণু প্রটোজোয়া পর্বের অনুর্ভূক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম প্লাজমোডিয়াম। প্লাজমোডিয়াম-জাতীয় চার প্রকার জীবাণু ম্যালেরিয়া রোগের মৃল কারণ, যেমন- (1) Plasmodium Vivax. (2) Plasmodium Malariae (3) Plasmodium Falciparum (4) Plasmodium Ovali.

ম্যালেরিয়া জীবাণু বহনকারী মশকী কোনো সুস্থ মানুষকে দংশন করলে এর লালাগ্রন্থিতে অবস্থিত প্লাজমোডিয়ামের Sporozoit-এর লালার সাথে মানবদেহের রক্তে মিশে যায়। Sporozoit দেখতে কাঁস্তের মতো। লম্বায় ১৫ মাইক্রোন এবং প্রস্থে ১ মাইক্রোন। রক্তে জীবাণু প্রবেশ করার ৩০ মিনিটের মধ্যেই Sporozoit যকৃতের প্যারেনকাইমা কোষে প্রবেশ করে।

ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর ১-৩ মিলিয়ন মানুষ মারা যাচ্ছে। অ্যানোফিলিস নাম স্ত্রী- জাতীয় মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়ে থাকে। প্লাজমোয়িাম ফ্যালসিপেরাম হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্নক। এটিতে সেরিব্রাল ম্যালেরিয়া বা ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া হয়ে রোগী মারাও যেতে পারে।

লক্ষণ: মাথা ধরা, পেশির ব্যথা, তলপেটে ব্যথা এবং সাথে জ্বর হয়। শীতে শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসে। কিছুক্ষণ পর ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যায়। একদিন অন্তর জ্বর আসতে পারে। পানির পিপাসা থাকে। শুধু রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায় ম্যালেরিয়া কি না।

চিকিৎসা: ম্যালেরিয়া নিশ্চিত হয়ে সাথে সাথে চিকিৎসা শুরু করা উচিত। সাধারণত ক্লোরোকুইন দিয়ে এই চিকিৎসা করা হয়। এ ছাড়া প্রিমাকুইন, কুইনাইন এবং মেফ্লোকুইনও প্রয়োগ করা হয়। তবে বর্তমানে উন্নতমানের নুতন ইনজেকশন আর্টিমিথার, যার বাজারজাতকরণ নাম Paluther আবিষ্কৃত হয়েছে, যা ব্যবহারে রোগী সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ হয়।

সতর্কতা: ঘরের দরজায় মশক নিরোধক জাল ব্যবহার করা যায়। ঘরের আশেপাশে যেন কোথাও পানি জমে না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ, সেখানে মশা বংশ বিস্তার করতে পারে। শোয়ার সময় অবশ্যই মশারি টানাতে হবে।

আরও পরুনঃ কৃমির ওষুধ কখন খাব?

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × five =