অস্থি ভঙ্গে প্লাস্টারকৃত অঙ্গের পুনর্বাসন

অস্থি ভঙ্গে প্লাস্টার অব প্যারিস

অর্থোপেডিক বৈকল্যে প্লাস্টার ব্যান্ডেজের ব্যবহার বহুবিধ। অস্থিভঙ্গে প্লাস্টার ব্যান্ডেজ দ্বারা চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত এবং বিশ্বজুড়ে প্রচলিত। সব রকম অস্থি ভঙ্গের চিকিৎসা প্লাস্টার ব্যান্ডেজ দ্বারা সম্ভব নয় এবং কোনো কোনো সময় প্রয়োজনও নয়। সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা দেয়া হয়ে থাকে। প্লাস্টার অব প্যারিসা (জিপসাম) পাউডার হলো হেমি হাইড্রেটেড ক্যালসিয়াম সালফেট (Co So4)2 H2 O+3 O-2 (Ca so4 2 H2 O) যা ব্যান্ডেজ লাগানো থাকে। পানিতে ভিজানোর পর কয়েক মিনিট পর্যন্ত গলিত সাবানের মতো নরম থাকে। নরম থাকাকালীন অবস্থায় নিপুণ হাতে দ্রুত প্লাস্টার ব্যান্ডেজ সংশ্লিষ্ট অঙ্গে লাগানোর কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

ভিজানোর পর প্লাস্টার যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন কয়েক মিনিটের মধ্যেই শক্ত হয়ে যায়। তা পানির নিচেই হোক বা উপরেই হোক। নরম অবস্থার প্লাস্টার ব্যান্ডেজ যে কোনো অঙ্গে প্রয়োজন মতো যে কোন আকৃতিতে করা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যে শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়। যে আকৃতিতে করা হযেছে সেরূপেই বহুদিন বজায় থাকে। প্লাস্টার না ভিজালে এবং নষ্ট না করলে অনেক দিন শুক্ত তাকে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক দ্বারা প্লাস্টার বদলিয়ে নেওয়া যেতে পারে। সঠিক প্লাস্টার ব্যান্ডেজে ক্ষতি হয় না। তা সুলভ ও সহজ প্রাপ্য। প্লাস্টার সব সময়ই বিশেষজ্ঞ বা অভিজ্ঞ লোক দ্বারা করাতে হবে। তা না হলে সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। যেমন- প্লাস্টারের চাপে ঘা হতে পারে ভগ্ন হাড় জোড়া না লাগতে পারে বাঁকা হয়ে জোড়া লাগাতে পারে রক্ত চলাচলে বিগ্ন ঘটে পচন ধরে অঙ্গহানির মতো জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

অস্থি ভঙ্গে সফল চিকিৎসা ও পূনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তাঃ

১. অস্থিভঙ্গে বিশেষ করে প্লাস্টার দ্বারা চিকিৎসায় দীর্ঘদিন নিশ্চল থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট অংশের অস্থি-সন্ধির অনম্যতা, মাংসপেশির ক্ষয় প্রাপ্ততা, দুর্বলতা, অসময়ন্বয়তা ও অসহযোগিতার সৃষ্টি হয়। মাংসপেশির দুর্বলতার জন্য অস্থি-সন্ধির দৃঢ়তা কমে যায়। প্লাস্টারে দীর্ঘদিন নিশ্চল থাকার জন্য এবং মাংসপেশির নিষ্কিয় ও সক্রিয় ব্যায়ামের অভাবে অস্থি সন্ধির চতুস্পার্শ্বে নরম কলাসমুহের (Soft tissues) মধ্যে সংযুক্তি ঘটে। ফলে কম বেশি স্থায়ী অনম্যতার মতো জটিলতা অস্থি-সন্ধিতে সৃষ্টি হয়। এসব জটিলতা প্রতিরোধ করার জন্য প্লাস্টারকৃত বা প্লাস্টারোত্তর অবস্থায় অঙ্গের কর্মক্ষমতার রক্ষা বা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নির্দিষ্ট ব্যায়ামের অত্যন্ত প্রয়োজন।

২. ব্যায়াম অস্থিভঙ্গে ফোলা প্রশমিত করে।

৩. ব্যায়াম দ্বারা রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং ভগ্ন অস্থির জোড়া লাগাতে সহায়তা করে।

৪. ব্যায়ামে কডুরা (Tendon) সচল থাকে

৫. প্লাস্টারোত্তর অস্থি-সন্ধির অনম্যতার জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত প্রয়োজন।

৬. প্লাস্টারোত্তর ক্ষয়প্রাপ্ত ও দুর্বল মাংসপেশির জন্য প্লাস্টারোত্তর ব্যায়াম অত্যন্ত প্রয়োজন।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*