
জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, মেডিকেল বিডি প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সড়ক বিহীন কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ থাকার ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু হচ্ছে না। ফলে ১২টি গ্রামের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর এক বছরের বেশী সময় ধরে ক্লিনিকটি চালুর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কোন কার্যকর প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় বাসীন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোব বিরাজ করছে।
উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মুজরাই গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানাযায়,এই গ্রামের রমেন্দ্র বর্মন নামে এক ব্যাক্তির দানকৃত ভূমিতে এইচ,ই,ডি(হেল্থ ইঞ্জিনিয়রীং ডিপাটমেন্ট)তাদের নিয়োগ প্রাপ্ত কন্ট্রাকটারের মাধ্যমে মুজরাই কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ শুরু করে ২০১৬সালে। ক্লিনিকে নিন্ম মানের রড়,বালি,পাথর ব্যবহার করে ক্লিনিকের মূল ভবনের নিমান কাজ সম্পূর্ন হলেও বাকি কাজ না করেই ২০১৭সালের শেষের দিকে অসমাপ্ত রেখে চলে যায়। ফলে বৃষ্টি হলে ছাঁদ দিয়ে পানি পড়ে এছাড়াও অন্যান্য অংশেও খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। মুজরাই কমিউনিটি ক্লিনিকটি চালু না হওয়ায় শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ছিলানী তাহিরপুর,জয়পুর,ইসলামপুর,জয়পুর
নতুনহাটি,গোলাবাড়ি,শ্রীয়ারগাও,মুজরাই,মন্দিয়াতা,মইয়াজুরী,কামালপুর,মন্দিয়াতাকান্দাহাটিসহ ১২টি গ্রামের ৭হাজারের বেশী শিশু,নারী,পুরুষগন স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতি মহিলারা বেশী দূর্ভোগে রয়েছে। নির্মান কাজ এক বছর পূর্বে শেষ করলেও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ক্লিনিকের কার্যক্রম চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেয় নি আজও। স্থানীয় বাসীন্দা মান্নান,এমদাদ,হাদিউজ্জামান জানান,শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে মুজরাই কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ সিএইচসিপি পদে জহিরুল হককে নিয়োগ দেয়। কিন্তু ক্লিনিক চালু না হওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থাকে পাশের বীরেন্দ্র নগড় কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করছেন তিনি।
মুজরাই কমিউনিটি ক্লিনিকটি চালু না হওয়ায় এসব এলাকার গর্ভবতী মহিলাসহ এলাকাবাসীর শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেটে ও বর্ষায় হাওরের বড়বড় ঢেউয়ের মধ্যে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে শ্রীপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও আশ পাশের স্থানীয় বাজারে পল্লীচিকিৎসকের নিকট হতে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। না হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। ক্লিনিকটি চালু হলে এত কষ্ট হত না। কমিউনিটি ক্লিনিক এসোসিয়েশনের সভাপতি বিলাল আমিন জানান,মুজরাই কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল ভবন নির্মান হলেও সড়ক নির্মান হয় নি এক বছরেরও বেশী সময় ধরে। এই ক্লিনিকটি চালু হলে হাওর পাড়ের ১২টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ সহজে চিকিৎসা সেবা পেত। এখন কষ্ট করে হয় শ্রীপুর উত্তর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে না হয় উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অতিরিক্ত সময় ও টাকা ব্যয় করে।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ৯নং ওর্য়াড বর্তমান মেম্বার সাজিনুর জানান,এই কমিউনিটি ক্লিনিটি এই এলাকার লোকজনের উপকার হত। প্রত্যান্ত এলাকায় সর্বস্থরের জনসাধরনের মাঝে সরকারের চিকিৎসা সেবা পৌছে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা তা বাস্থবায়িত হত। কিন্তু এই ক্লিনিকটি চালু না হওয়ায় সরকারে সুনামের পরির্বতিতে দূনার্ম হচ্ছে। বর্তমানে ক্লিনিকটিতে বৃষ্টির সময় ছাঁদ দিয়ে ভিতরে পানি পড়ে,ভিতরে স্যানিটেশনের কোন ব্যবস্থা নাই। ফলে কোন কাজেই আসছে না। আমি নিজেই দেখা শুনা করার জন্য বাশঁ দিয়ে সিড়ি বানিয়েছি।
এই বিষয়ে এইচ,ই,ডি(হেল্থ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপাটমেন্ট) ও তাদের নিয়োগ প্রাপ্ত কন্ট্রাটকারের বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইকবাল হোসেন জানান,মুজরাই ও চিসকা কমিউনিটি ক্লিনিকের বিষয়ে আমরা উর্ধবতন কতৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি খুব শ্রীর্ঘই কাজ শুরু হবে বলে জানতে পেরেছি। এইচইডি(হেল্থ ইঞ্জিনিয়রীং ডিপাটমেন্ট)তাদের নিয়োগ প্রাপ্ত কন্ট্রাটকারের মাধ্যমে কাজ করছে আর করবে। কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো চালু হলে বর্তমান সরকারে প্রত্যান্ত এলাকায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দেবার চেষ্টা তা বাস্থাবিয়ত হয়েছে আরো হবে। এই এলাকার সর্বস্থরের জনসাধারন উপকৃত হবে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
