
টিনের দোকানি এখন চিকিৎসক
শফিকুল ইসলাম এখন এফসিপিএস, ডাক্তার সাইদুস জামান সাত রোগের বিশেষজ্ঞ। ডিগ্রি আছে ৬টি। ক্যান্সার থেকে শুরু করে সব জটিল রোগের ব্যবস্থাপত্র লিখছেন দুটি হাসপাতালে বসে। একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিনেছেন এমবিবিএস এর সনদ। অথচ এই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চার বিষয়ে ফেল করেছেন এসএসসিতে।
এই ব্যাক্তির নামের পাশে রয়েছে এমবিবিএস, এমসিএইচ,এফসিপিএস, ডিমএমইউ, এমপিএইচ, বিসিএস হেলথ। হেলথ হতে শুরু করে সব ধরণের ডিগ্রি। তার দাবি হৃদরোগ মেডিসিন, নাক, কান গলা, মা-শিশু, চর্ম যৌন ও সার্জারিতে বিশেষজ্ঞ। সাংবাদিক যখন জিজ্ঞাসা করলেন আপনি তো সব বিষয়ে এক্সপার্ট, দুনিয়ার কোন কিছু তো বাকি থাকলো না। তখন তিনি উত্তরে বললেন, এগুলো আমি করিনি, আমি এগুলো লিখিনি।
নিয়মিত রোগী দেখেন টাঙ্গাইলের আল শেফা ক্লিনিক, এ্যালেঙ্গার মদিনা ক্লিনিক। কাশি ও ক্যান্সার রোগে ওর কাছে গেলে দুই অসুখের দিলেন একই পরামর্শ পত্র, বলতে পারেন না বিএমডিসির কোড, এসসিপিএস এর অর্থ। বিসিএস এর পূর্ণরূপ জিজ্ঞাসা করা হলে অনেকক্ষণ ভেবেচিন্তে দুটি শব্দ ওনার মুখে শোনা গেলে। শব্দটি দুটি বাংলাদেশ ও ক্যাডেট। এমবিবিএস এর পূর্ণরূপ জিজ্ঞাসা করা হলে ওনি বলেন, “মেডিসিন অব সার্জারি, ব্যাচেলর অব সার্জারি”। যখন এফসিপিএস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তার উত্তর দিলেন তিনি এফসিপিএস করেন নি।
প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে এক পর্যায়ে তিনি চেম্বার হতে পালিয়ে যান সাইদুস জামান শফিকুল। পালিয়ে যায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষও। শফিকুলের দেওয়া সনদ বলছে, তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন প্রথম শ্রেণীতে। তবে সনদ যাচাইয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক এ চার বিষয়ে ফেল।
শফিকুল এমবিবিএস ডিগ্রিও কিনেছেন অবৈধ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পিচব্লেনডি থেকে। শফিকুলের মাকে পড়াশুনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি উত্তরে জানান তিনি পড়াশুনা করেছেন ঢাকায়। অভিযোগের জবাবে শফিকুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন অফিস। তবে শফিকুলের দাবি তার সকল সনদ বৈধ??
বিস্তারিত ভিডিওতে দেখুন ও আপনার মন্তব্য জানান কমেন্টে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
