“যেসকল খাবারগুলো ধুমপান-মদ্যপানের চেয়েও মারাত্বক”

বাঁচার জন্যই খাবার খেতে হয়। কিন্তু সেই খাবারই যদি আমাদের মৃত্যুর কারণ হয়, তাহলে কি করবেন? হ্যাঁ এরও সমাধান আছে। সেটা হচ্ছে আপনাকে দেখে শুনে বেছে বেছে নিরাপদ খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। আবার শুধুমাত্র ডায়েটের কারণেই প্রতি পাঁচ জনে একজনের জীবনের আয়ু কমে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর এক কোটিরও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে শুধু খাবারের কারণেই। দৈনন্দিন যে খাদ্য তালিকা সেটিই ধূমপানের চেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটায় এবং বিশ্বব্যাপী প্রতি পাঁচটি মৃত্যুর মধ্যে একটির জন্য এই ডায়েট বা খাবারই দায়ী। লবণ-তা রুটি, সস বা মাংস-যেটার সঙ্গেই দেয়া হোক না কেন-এটিই জীবনের আয়ু কমিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। দ্য গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজেস স্টাডি হলো গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যবেক্ষণ যেখানে দেখা হয়েছে কীভাবে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে মানুষ মারা যাচ্ছে। এতে বিপদজনক খাদ্য হিসেবে যেসব উপাদানের কথা বলা হচ্ছে তা হলো-

  • অতিরিক্ত লবণ- ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ
  • কম দানাদার শস্য খাওয়া- ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ
  • ফলমূল কম খাওয়া- ২০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ

অধ্যাপক ক্রিস্টোফার মুরে বলছেন, ‘ডায়েটকেই আমরা স্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান পরিচালক হিসেবে পেয়েছি। এটা সত্যিই অনেক গভীর। আমরা কি সঠিক খাবার সঠিক পরিমাণে খাচ্ছি?-এটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন, বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার দিনে ২৫ গ্রাম খাওয়ার কথা বলা হলেও গড়ে মানুষ খাচ্ছে মাত্র ৩ গ্রাম। আবার দুধ খাওয়া উচিত ৪৪৩ গ্রাম অথচ মানুষ গ্রহণ করছে ৭১ গ্রাম। একইভাবে দানাদার শস্য জাতীয় খাবার ১২৬ গ্রামের জায়গায় ২৯ গ্রাম খাচ্ছে। অথচ লাল মাংস ২২ গ্রাম খাওয়া উচিত হলেও সেটি খাচ্ছে ২৭ গ্রাম, লবণ ৩.২ গ্রামের ওপর খাওয়া উচিত নয় কিন্তু সেটি গ্রহণ করছে ৬ গ্রাম আর প্রক্রিয়াজাত মাংস ২.১ গ্রামের স্থানে ৪ গ্রাম। প্রফেসর নিতা ফরোউহি বলছেন, ধারণা করা হয় যে এসব খাবারের ছোট একটি প্যাকেটে একজনকে মোটা বানাতে পারে অথচ এগুলো সব ভালো ফ্যাটে ভর্তি। আর বেশিরভাগ লোকই এটাকে প্রধান খাবার ভাবতে পারে না।

খারাপ ডায়েট মানুষের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে-বিশ্বজুড়ে এটি এখন গবেষণায় পাওয়া যাচ্ছে বলে বলছেন গবেষকরা। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইসরায়েলের মতো কিছু দেশ ডায়েট সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। তবে দক্ষিণ পূর্ব, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার চিত্র ঠিক উল্টো। ইসরায়েলে যেখানে প্রতি এক লাখে এ ধরনের মৃত্যুর হার মাত্র ৮৯, সেখানে উজবেকিস্তানে ৪৯২ জন। চীনারা প্রচুর পরিমাণে লবণ খায় এবং খাদ্য তালিকায় লবণ দিয়ে সস বেশি পছন্দ করে তারা। আর যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে এখনো ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও বেলজিয়ামের পেছনে আছে। তবে ফ্যাট, সুগার বা সল্ট এসব চিন্তা বাদ দিয়ে সকলের উচিত ভালো খাবারের দিকে মনোযোগী হওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*