হার্ট সুস্থ ও সচল রাখতে আপনার করণীয়

হৃদযন্ত্রের সঠিক যত্ন নিলে দীর্ঘায়ূ লাভ করা যায় এমনটাই বিশেষজ্ঞদের মতামত। হৃদয় বা হার্ট সুস্থ রাখতে বাড়তি কিছুই করার দরকার নেই, এর জন্য মানুষের সুশৃঙ্খল জীবন যাপনই যথেষ্ট। দেরি না করে চলুন জেনে নিই কিভাবে আপনার হার্ট সুস্থ রাখবেন।

অ্যালকোহল

আমরা কমবেশি সবাই জানি যে অতিরিক্ত অ্যালকোহল হৃদপেশির ক্ষতি করে। রক্তচাপ বাড়ায় এবং পাশাপাশি ওজনও বৃদ্ধি করে। তাই অ্যালকোহল গ্রহণ বাদ দেওয়া শরীরের জন্য ভালো। একবারে বাদ দেওয়া সম্ভব না হলে প্রতিদিন একটু একটু করে কমানোর চেষ্টা করতে হবে। এক সময় এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা সম্ভব।

আপনার স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোন তথ্য জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথেই থাকুন

ধূমপান

ধূমপানের ফলে আয়ু ১৫ থেকে ২৫ বছর কমে যায়। একজন ধূমপায়ীর হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা একজন অধূমপায়ীর তুলনায় দ্বিগুণ। ধূমপান বন্ধ করার মুহূর্ত থেকেই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকে অভাবনীয়ভাবে।

লবণ

বাড়তি লবণ না খেলে যেন আমাদের চলেই না, কিন্তু অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী। এর ফলে হৃদপিণ্ডের রক্তসরবরাহকারী ধমনী সম্পর্কিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

নিয়মিত পরীক্ষা স্বাস্থ্য পরীক্ষা

নিয়মিত শরীর পরীক্ষা করলে দেহের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা করা যায়। তাই রুটিন অনুযায়ী রক্তচাপ, শর্করা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করান।

কর্মচঞ্চল থাকা

প্রতিটি মানুষেরই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করা অত্যাবশক। তাছাড়া কর্মক্ষম থাকা কেবল হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার জন্যই নয় এটি মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

হাসি

হাসি মানব দেহ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। হাসির মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের চাপ কমানো সম্ভব। তাই যতসম্ভব হাসুন, হাসুন প্রাণ খুলে…

ডায়েট

সবসময় সুষম খাবার খাওয়া উচিত। তাজা ফল এবং সবজি, শষ্যজাতীয় খাবার যেমন- শষ্য থেকে তৈরি রুটি ও ভাত ইত্যাদি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। তাই চেষ্টা করুন বেশি বেশি পরিমাণে তাজা ফল বা সবজি খাওয়ার ও সুষম খাবার খাওয়ার।

কোমড়ের মাপ নিয়ন্ত্রণ

রক্তনালীতে কোলেস্টেরল জমে অনেক ক্ষতিসাধন করে থাকে, এতে করে ওজনও বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত ওজন স্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকারক, শুধু ক্ষতিকর নয় বরং হুমকি স্বরূপ। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে নিয়মিত।

ক্লান্তির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ

যদি দেখা যায়, আপনি ঠিক মতো খেতে পারছেন না, ধূমপান বা মদ্য পান বেশি করছেন। তাহলে বুঝতে হবে আপনার ভেতর অবসাদ কাজ করছে। অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্য পান হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই অবসাদ নিয়ন্ত্রণের জন্য যোগ ব্যায়াম বা ধ্যান বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।

উপরোক্ত কাজগুলো খুব বেশি কঠিন কিছু নয় বা ব্যয়বহুলও নয়। তাই হার্ট সুস্থ রাখতে এই কাজগুলো নিয়মিত করুন। সুস্থ সুন্দর থাকুন আর যথাসম্ভত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।

ডা. মেহেদি হাসান (শাওন)
হৃদরোগ ও রক্তনালী অভিজ্ঞ
চেম্বার: ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাব লি:
(১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
ফোনঃ ০৯৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
সক্ষাতের সময়: সন্ধ্যা ৬ টা – রাত ৮টা
(শনি থেকে বুধবার)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*