যমজদের বুদ্ধিমত্তা কি একই রকম হয়?

আমরা প্রায়ই দেখে থাকি বা শুনে থাকি যে যমজ সন্তান হয়েছে বা তিন জন চার জন সন্তান হয়েছে। যমজ সন্তানরা কি শুধু দেখতেই একরকম? বুদ্ধিতেও তারা কি সমান? গবেষকদের মতে, শুধু জিন নয় বেড়ে ওঠার পরিবেশও তাদের বুদ্ধির উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে৷ রুহান ও রণক – দু’জনেরই বয়স এক৷ দুজনেরই সমান বুদ্ধি৷ সেই বুদ্ধিমত্তা তারা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে৷ এটার মূল কারণ তাদের জিন৷ এখনো পর্যন্ত প্রায় এক হাজার রকমের ‘ইনটেলিজেন্স জিন’ আবিষ্কৃত হয়েছে৷ কিন্তু সম্ভবত আরও এমন জিন রয়েছে যা আবিষ্কৃত হতে পারে৷এখন প্রশ্ন হলো রুহান ও রণক-এর বিকাশ কি একই রকম হবে? স্কুল-কলেজ, পেশা বা বৃহত্তর জীবনে কি বুদ্ধিমত্তার একই রকম প্রতিফলন দেখা যাবে? তিন বছর বয়সে রুহান ও রণক শিশুদের জন্য উপযুক্ত এক আইকিউ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে৷ তাতে রণক রুহানের-এর তুলনায় ভাল ফল করেছে৷ এমনটা কেন হলো? তাহলে কি বলা যায় তাদের ব্যাপারে, চলুন বিস্তারিত জেনে নিই।

রণক-এর বাবা-মা তার সঙ্গে অনেক সময় কাটান৷ তার সঙ্গে খেলেন, কথা বলেন৷ এভাবে তার চিন্তাভাবনায় যুক্তি ও আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কে বোধ অনেক বাড়ছে৷ অন্যদিকে রুহান-এর বাবা-মা নিজেদের স্মার্টফোন নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন৷ ছেলেকে একাই খেলতে হয়৷ এই বয়সেই রণক-এর যথেষ্ট বুদ্ধি হয়েছে৷ জিন শুধু ভিত্তিমাত্র৷ তার বিকাশের জন্য বাস্তব জগতের প্রয়োজন রয়েছে৷ মানুষের জিন ও তার পরিবেশ বুদ্ধির উপর কোন মাত্রায় প্রভাব রাখে,যমজ ভাইবোনদের নিয়ে এক গবেষণায় তা বোঝার চেষ্টা চলছে৷ যমজ সন্তানদের আইকিউ অন্যান্য ভাইবোনদের তুলনায় প্রায় সমান হয়৷

কিন্তু তারা যদি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তখন সেই মিল কমতে থাকে৷ ফলে বোঝা যায়, আইকিউ-এর উপর পরিবেশের কতটা প্রভাব রয়েছে৷ ১০ বছর বয়সে এক আইকিউ পরীক্ষায় রণক রুহান-কে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে৷ কারণ রুহান-এর স্কুলে শিশুদের চাহিদার প্রতি আরও মনোযোগ দেওয়া হয়৷ রুহান-এর ক্ষেত্রে সিলেবাসের কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া হয়৷ সেখানে শিশুদের নিজস্ব আগ্রহ বা ক্ষমতার তেমন গুরুত্ব নেই৷অর্থাৎ বুদ্ধির বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবেশ অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে৷ তারপর পেশাগত শিক্ষার পর্যায়ে এসে রণক ও রুহান নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী অগ্রসর হতে শুরু করে৷ বুদ্ধিমত্তার উপর জিনের প্রভাব সারা জীবন ধরে বাড়তে থাকে৷ ৫০ বছর বয়সে আবার দুই ভাইয়ের দেখা৷ রণক ডাক্তার হয়েছে৷ রুহান আসবাবপত্র তৈরির কাজ করে৷ তারা যে যার আগ্রহ অনুযায়ী জীবনে এগিয়ে গেছে৷ তাদের বুদ্ধিমত্তা একদিকে উত্তরাধিকার, অন্যদিকে পরিবেশের প্রভাবের সংমিশ্রণের প্রভাব ফেলেছে। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে ছেলে মেয়ের সুষ্ঠ স্বাভাবিক বিকাশে শুধু যমজদের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য নয় বরং সকল শিশুদের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য।

ডাঃ এম এম জালাল উদ্দিন
মানসিক রোগ, মাথা ব্যথা ও মৃগীরোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বার: ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাব লি:
(১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
ফোনঃ ০৯৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
সক্ষাতের সময়: রাত ৮টা- রাত ১০ টা
(শনি থেকে বুধবার)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*