
হার্ট অ্যাটাকের কারণগুলোর মধ্যে ঘুম একটি মারাত্নক বিষয়। কম বা বেশি কোনটাই ভালো নয়। প্রতিনিয়তই কম বা বেশি ঘুমানোর জন্য মানবদেহের ধমনী শক্ত হতে থাকে এবং দ্রুত হৃদরোগে আক্রান্ত করে। ৪৭ হাজার নারী-পুরুষের ওপর চালানো নতুন একটি গবেষণা এমনটাই বলছে। গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক তৃতীয়াংশ বা এক চতুর্থাংশ সাধারণ মানুষ অপর্যাপ্ত এবং পরিমাণমত না ঘুমানোর কারণে এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সানকিয়াংকুয়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের কাংবুক স্যামসাং হাসপাতাল এই গকেষণাটি চালান। এ গবেষণার কো- লিডার অধ্যাপক ড. চান ওন কিম বলেন, অপর্যাপ্ত ঘুম হার্ট এ্যাটাক এবং স্ট্রোকের কারণ। তবে বিষন্নতা এবং স্থুলতার কারণেও হার্টে আক্রান্ত হয়ে থাকে। অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে মানুষ দ্রুত হৃদরোগেও আক্রান্ত হয়।
গবেষণাটিতে যে ৪৭ হাজার নারী-পুরুষের ওপর চালানো হয়েছে তাদের গড় বয়স ৪২ বছর। গবেষণার পরীক্ষায় দেখা গেছে যাদের ঘুম পর্যাপ্ত পরিমাণ নয় তাদের ক্যালসিয়ামে ক্ষত বিষয়ক রোগ আছে। এছাড়া পায়ে ধমনীর ও রক্তনালীর কঠিনতা দেখা দেয়। গবেষকদের প্রশ্নাবলি অনুযায়ী, যারা ৫ ঘণ্টা কিংবা তার চেয়ে কম ঘুমান অথবা ৯ ঘন্টা অথবা তার চেয়ে বেশি ঘুমান তাদের তুলনায় যারা প্রতিরাতে ৬.৪ ঘন্টা ঘুমান তারাই ভালো ঘুমের তালিকায় রয়েছেন। আর ৬.৪ ঘুমের তালিকায় রয়েছে ৮৪ শতাংশ লোক।
আরটারিওসক্লেরোসি সের থ্রম্বসিস ও ভ্যাকুলার জীববিজ্ঞানীদের এক ফলাফলে দেখা গেছে, যারা কম ঘুমান তাদের করোনারি আরটারিসে ৫০ শতাংশ ক্যালসিয়াম থাকে। আবার যারা ৯ ঘণ্টা ঘুমান তাদের ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৭০ শতাংশ। অধিক পরিমাণ করোনারি ক্যালসিয়াম হার্টের জন্যে খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান ড. কিম। ২০১৩ সালে এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের উচ্চ রক্তচাপ, হাইকোলেষ্টরেল, ডাইবেটিসের ঝুঁকি বেশি থাকে এবং শারীরিকভাবে মোটা হতে থাকেন। যারা দৈনিক ৭ ঘন্টা ঘুমান তারা ওই সব সমস্যা থেকে ঝুঁকিমুক্ত থাকেন বলে কাংবুক স্যামসাং হাসপাতালের অপর একটি জরিপে তথ্য প্রকাশ করা হয়।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
