
গাজরের গুণাগুণ
এখন গাজরের মওসুম। বাজারে প্রচুর গাজরের আমদানি। দাম এখনো সহনীয়। দাম যাই হোক না কেন, এতে রয়েছে অনন্য গুণ, যা অন্য কোনো সবজিতে নেই। এর পাতাও উপকারী শাক। যদিও আমরা এখনো গাজরশাক খেতে অভ্যস্ত নই। গাজরশাক, মুলাশাকের মতোই। গাজরে ভিটামিন ‘এ’ পরিপূর্ণ। শীতকালে আমরা লালশাক, পালংশাক, মুলাশাক, কলমিশাক প্রভৃতি বেশি খাই। কিন্তু পুষ্টিবিদেরা বলেন, শীতের শাকসবজির চেয়ে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ক্যারোটিন’ সমৃদ্ধ গাজর সর্বশ্রেষ্ঠ সবজি। গাজর কাঁচা, রান্না ও সালাদ খাওয়া যায়। গাজরে রাতকানা রোগ ও শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে। মেয়েদের ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। হৃদপিন্ড ও মস্তিষ্কে শক্তিশালী করে। দাঁত ও হাড় গঠনে অত্যন্ত সহায়ক। স্ট্রোক ও হৃদরোগ প্রতিরোধ করে।
হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক বলেছেন, সপ্তাহে পাঁচদিনই প্রতিদিন মধ্যম ও আকারের পাঁচটি গাজর খেলে মহিলাদের ৫ শতাংশ ও পুরুষদের ১০ শতাংশ কোলেস্টেরল কমে যায়। এতে বিদ্যমান প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ড ও বিটাক্যারোটিন, যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধ করে গাজর।বৃদ্ধদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে গাজর। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কেননা, এতে রয়েছে লিউসিন ও অ্যামিনো এসিড। যাদের গ্যাস্টিক-আলসার আছে, তারা কাঁচা গাজর চিবিয়ে খেলে উপকার পাবেন। এতে আরো আছে ক্যালসিয়াম ও আয়রন, যা অন্যান্য সবজির চেয়ে অনেক বেশি। গাজরে রয়েছে নিম্ববর্ণিত পুষ্টি উপাদান।
প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে আছেঃ
জলীয় অংশ: ৮৫.০ গ্রাম, আমিষ: ১.২ গ্রাম, শর্করা: ১২.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম: ২৭.০ গ্রাম, আয়রন: ২.২ গ্রাম, ক্যারোটিন(বিটা-২): ১০৫২০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি-১: ০.০৪ গ্রাম, ভিটামিন সি: ১০ মি.গ্রাম, খনিজ: ০.৯ মি.গ্রাম, খাদ্যশক্তি: ৫৭ কি.ক্যালোরি।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
