
রমজানে মধু সেবনের অপরিহার্য ভূমিকা
মধু প্রায় সবারই প্রিয়। ঠাণ্ডা দূর করে মধু। মধুতে রয়েছে শরীরে তাপ উত্পাদনের তীব্র ক্ষমতা। তাই ঠাণ্ডায় মধু নিয়মিত খেলে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা দূর হবে। মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, যা রক্তশূন্যতা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। চা, কফি ও গরম দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে হাঁচি, কাঁশি, জ্বর জ্বর ভাব, নাক দিয়ে পানি পড়া কমে। তারুণ্য বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য। মধুর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ক্যালসিয়াম। শিশুদের ছয় মাস বয়সের পর থেকে অল্প করে (দুই-তিন ফোঁটা) মধু নিয়মিত খাওয়ানো উচিত। মধু সবার শরীরে উষ্ণতা তৈরি করে। অধিক পুষ্টির আশায় বেশি মধু খেলে ডায়রিয়া হয়ে যাবে। তবে বড়দের তুলনায় বাড়ন্ত শিশুদের জন্য পরিমাণে বেশি মধু প্রয়োজন। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে মধুতে রয়েছে জীবাণুনাশক উপাদান। তবে অতিরিক্ত মিষ্টির জন্য ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য মধু বর্জনীয়।
মধুর উপাদাণঃ
মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ। আরো থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ ভাগ এনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি।
মধুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, আয়োডিন, জিংক ও কপার সহ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান যা আমাদের শুধুমাত্র দেহের বাহ্যিক দিকের জন্যই নয়, দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সুরক্ষায় কাজ করে।
মধু সম্পর্কে মতবাদঃ
আল কোরআনে আছে- আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে আদেশ দিলেন: পর্বতে, গাছে ও উঁচু চালে বাড়ি তৈরী কর, এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে খাও এবং আপন পালনকর্তার উন্মুক্ত পথে চলো। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। (সূরা নাহলের ৬৮ ও ৬৯ নম্বর আয়াত)
পবিত্র হাদীস শরীফে মধু সম্পর্কে প্রচুর রেওয়ায়েত আছে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)- এর মতে সকল পানীয় উপাদানের মধ্যে মধু সর্বোৎকৃষ্ঠ। তিনি বলেন- মধু এবং কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের চিকিৎসা নেয়া উচিৎ। -(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাকেম) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, “রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- যে
ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে তিন দিন ভোরে মধু চেটে খায় তার কোন বড় বিপদ হতে পারে না।” -(ইবনে মাজাহ, বয়হাকী) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) স্বয়ং সকাল বেলা খালি পেটে মধুর শরবত পান করতেন। যারা নিয়মিত ভাবে মধুর শরবত পান করতে না পারবে তাদের জন্য তিনি বলেন- যে ব্যক্তি মাসে তিন দিন সকাল বেলা মধু চেটে সেবন করবে, ঐ মাসে তার কোন কঠিন রোগ ব্যাধি হবে না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- যে কেহ আরোগ্য কামনা করে, তার ভোরের নাস্তা হিসাবে পানি মিশ্রিত মধু পান করা উচিৎ।
বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসক ইবনে সিনা তাঁর বিশ্বখ্যাত- Medical Test book The canon of medicine গ্রন্হে বহু রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মধু ব্যবহারের সুপারিশ করেছেন। তিনি মধুর উপকারিতা সম্পর্কে বলেছেন, মধু আপনাকে সুখী করে, পরিপাকে সহায়তা করে, ঠান্ডার উপশম করে, ক্ষুধা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও তীক্ষ্ম করে, জিহ্বা স্পষ্ট করে এবং যৌবন রক্ষা করে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
