
মাদকাসক্তি ও তরুণ সমাজ
কারণ ও নিয়ন্ত্রণ
সারাবিশ্বে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যার ম্েযধ একটি অন্যতম সমস্যা হচ্ছে মাদকসক্তি সমস্যা। এটি এমন একটি সমস্যা যা একজন ব্যক্তিকে শারীরিক, মানসিক, আধ্যাতিক দিক দিয়ে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেলে। ব্যক্তির প্রয়োজন থাকুক বা নাই থাকুক, তাকে ড্রাগস বা যে কোনে ধরনের মাদকদ্রব্য গ্রহণ করতেই হয়। ধীরে ধীরৈ সে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।
এই মাদকাসক্তি সমস্যা এমন এক সমস্যা যা শুধু ব্যক্তির নিজের জন্য ক্ষতিকর ও বিপদজ্জনক তাই নয়, বরঞ্জ এর অশুভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপরে পড়ে। এই সর্বনাশা ড্রাগস শুধু নিজেদের জন্য বিপদ ডেকে আনছে তাই নয়। বিপর্যয় ডেকে আনছে পরিবার ও সমাজের জনেও। কাজেই পরিবারিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে এই সামাজিক সমস্যা নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে।
তাই পারিবারিক, সামাজিক বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজের ধনী, দরিদ্র, ছাত্র যুবক, চাকুরিজীবি, ব্যবসায়ী প্রতিটি স্তরে ‘ড্রাগস’ এর প্রতি আসক্তি কমবেশি পরিমাণে পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং এ ব্যাপকতা শহর থেকে সুদূর গ্রাম গঞ্জেও বিস্তার লাভ করছে।
সাাধারণত জীবনের বয়ঃসন্ধিকালে অর্থ্যাৎ বয়সে তরুণ- তরুণীদের মধ্যেই এর প্রবণতা অধিক পরিমাণে দেখা যায়।
মাদকাসক্তির কারণ
এই কারণেই মাদকাসক্তির পেছনে অন্তর্নিহিত কারণসমূহ অনুসন্ধান ও উদঘাটন তা সামাধানের ব্যবসাথা গ্রহণ করা আবশ্যক। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কেন একজন তরুণ বা তরুণী মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে। মাদকাসক্তির পেছনে বহুবিধ বিভিন্ন ধরনের অর্থ্যাৎ পারিবারিক, সামাজিক, মানসিক কারণ এই মাদকাসক্তি বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
সামগ্রিকভাবে মাদকাসক্তির কারণগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা যায় যেমন- প্রাথমিক কারণ ও সহযোগী কারণ। প্রাথমিক কারণ ব্যক্তি নিজেই। তার ব্যক্তিত্বের ধরণ, দেহরসায়ন, মূল্যবোধ, আসক্তিমূলক চিন্তাভাবনা ইত্যাদি এর অন্তভূক্ত।
অপরদিকে সামাজিক, পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার মাদকদ্রব্য গ্রহণের জন্য সহযোগী কারণরূপে কাজ করে। যাহোক, মাদকাসক্তির পিছনে উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হল।
বয়ঃসন্ধিকাল
মানুষের জীবনে বয়ঃসন্ধিকাল অর্থ্যা ‘টিন এজ’ এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তরুণ-তরুণী অর্থ্যাৎ টিনএজারদের মধ্যে প্রচন্ড অস্থিরতা এবং ভাব ও আবেগের প্রাধান্য বেশি দেখা যায়। স্পর্শকারতাও এই বয়সের বিশেষ লক্ষণ। বিকাশের ধারায় বিশেষ সন্ধিক্ষণের এই সময়ে পরিবেশ, জীবন, সমাজ, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ইত্যাদি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে থাকে।
এ সময়টাতে তাই প্রয়োজন সঠিক পথনির্দেশনা। যে শিশু কিশোর সুস্থ ও সঠিক পথে খাপ খাওয়াতে শিখেছে, শিখেছে বিভিন্ন ধরনের শরীরিক, মানসিক ও সামাজিক চাপ ও দ্বন্দের সফল সমাধান করতে- তাকে মাদকদ্রব্য নিরুপণে সমাধান হিসেবে আকৃষ্ট করতে পারে না। অন্যদিকে যারা ব্যক্তিজীবনে ও সমাজ-জীবনে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ তাদের মধ্যে বিকল্প পন্থা হিসেবে মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি জন্মে।
বয়ঃসন্ধির এই লগ্নে তার চারপাশের পরিবেশ ও প্রতিশেী, জীবনের বাস্তবতা ও সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ইত্যাদি সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও পরিমাজন ঘটতে থাকে। তাই এই বয়সের শিশু কিশোরদের জন্য প্রয়োজন সঠিক ও সুষ্ঠু পথনির্দেশনা। এর ফলে তারা বিভিন্ন ধরণের শারীরিক যন্ত্রণা এবং সামাজিক ও মানসিক চাপ ও দ্বন্দের আনন্দ খুঁজে পেতে চেষ্ঠা করে। অর্থ্যাৎ এক কথায় বলা যেতে পারে যে কোমলমতি, উজ্জ্বল তরুণ- তরুণী বয়সের দরুণ অতি সহজেই এই মাদকাসক্তির করাল গ্রাসের শিকার হয়।
কৌতহলপ্রিয়তা
কৌতহল মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু কৌতূহল অনেক সময় ব্যক্তিকে বিপথে নিয়ে যেতে প্রভাবিত করে। কৌতূহল অনেক সময়ে সমূহ ক্ষতির সৃষ্টি করে। কেননা যেখানে নিষেধ সেখানেই দ্বিগুণ কৌতূহল কাজেই যদিও মাদকদ্রব্য গ্রহন ও সেবন ক্ষতিকর তবুও কৌতূহল নিবৃত্তির তাগিদে অনেক পরীক্ষা করার জন্য সেবন করে।
এরপরেও ধীরে ধীরে কখন যে এ দ্রব্যের উপর শরীরিক ও মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তা সে নিজেই উপলব্ধি করতে পারে না। যখন তার ভেতর শুভবুদ্ধি জাগ্রত হয় তখন নিবৃত্ত করার কোনো উপায় থাকে না।
প্রতিকূল পারিবারিক পরিবেশ
কিছু কিছু পরিবেশ কাউকে মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্ত হতে সহায়তা করে থাকে। যে পরিবারের সন্তানেরা কথাবার্তা, আচরণ মানসিক ও শারীরিক শাস্তির মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার তাদের মাদকাসক্তির প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
এছাড়া পিতামাতার অবহেলা, পারিবারিক অশান্তি, কলহবিবাদ, ইত্যাদি ব্যক্তির মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে মানসিক প্রশান্তি লাভের উদ্দেশ্যে ভুল পথে পা দিয়ে মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ ঘনিষ্ট কারও মৃত্যু তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে যা তাকে এই মাদকসক্তির মতো সর্বনাশা পথে ঠেলে দেয়।
দলগত প্রভাব
যেকোনো বয়সেই বিশেষ করে ‘টিএনজার’ ছেলেমেয়েরা তাদের বন্ধুদের সম্পর্কে কে কি ধারণা পোষণ করে সে সম্পর্কে সচেতন। সমবয়সী মানুষের ধ্যান-ধারণা, কার্যকলাপ অনেক সময়ে একজন ছেলে বা মেয়ের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। কথায় আছে ‘সৎ সঙ্গে সর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে নরক বাস’। কাজেই দলগত প্রভাব ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক দুইরকম হতে পারে। ইতিবাচক দলের প্রভাবে লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়া, সুন্দর জীবন-যাপনে ব্রতী হওয়া সম্ভব, অপরদিকে নেতিবাচক দলের প্রভাবে লেখাপড়ায় ফাঁকি দেয়া, ধ্বংসাত্নক কাজ এবং মাদকাসক্তিতে উৎসাহিত হতে পারে। কাজেই দলগত প্রভাবের সাথে মাদকসক্তির একটি যোগাযোগ রয়েছে।
হতাশা
কোনো কোনো ঘটনা, যা ব্যক্তির জীবনে কাম্য নয়, তা তার জীবােন ঘটে গেল অনেক সময় ব্যক্তিকে হতাশাগ্রস্থ বা বিষাদগ্রস্থ করে তোলে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য, প্রেমে ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণেই এরা সাধারণত: হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। অনেক সময় তরুণ-তরুণীর পক্ষে এই হতাশাভাব কাটিয়ে উঠতে বেশ কষ্ট হয়। তখন একটু শান্তির অন্বেষায় তারা মাদকাসক্তির নীল জগতে প্রবেশ করে।
সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব
সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় মাদকাসক্তির পেছনে একটি বিশেষ কারণ। যেসকল ব্যক্তিবর্গ জীবনে সামাজিক মূল্যবোধকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে থাকেন এবং নিয়মিতভাবেব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন তাদের মধ্যে এ প্রবণতা কম দেখা যায়। কেননা তাঁরা জীবনের মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন বলে মন্দ কাজ হতে বিরত থেকে ভালো কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকেন যা তাঁদেরকে এ কু অভ্যাস থেকে নিবৃত্ত করে।
মাদকাসক্তির নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ
এদেশ হতে মাদকাসক্তি দূর করা তথা মাদকাসক্তির ন্যায় সামাজিক সমস্যা হতে দেশ ও জাতিকে রক্ষার জন্য দৃঢ় ও শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। এই প্রেক্ষিতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি সচেনত ব্যক্তিকে যৌথভাবে কাজ করে যেতে হবে। এ ধরণের পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ
অনুকূল পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টি
সুন্দর, সুস্থ মানসিক বিকাশের লক্ষে পারিবারিক পরিবেশ অনুকূর করা প্রয়োজন। এজন্য পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের আচরণে ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও সহমর্মিতার পরিচয় দেয়া একান্ত দরকার। পিতামাতাকে ছেলেমেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালে তাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে এবং সহানুভূতিশীল আচরণ প্রদর্শনের মাধ্যমে সামাজিক পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর ব্যাপারে সহযোগিতা করতে হবে।
তথ্য ও গণমাধ্যম
সংবাপত্র, রেডিও ইত্যাদি গণমাধ্যম বিশেষ করে টেলিভিশন জনগণের নিকট প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও কার্যকর মাধ্যম অতএব, মাদ্রকদ্রব্য সেবনের কুফল সম্পর্কে সচেতন করার ব্যাপারে গণমাধ্যম বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সামাজিক সংগঠন
দেশের বিভিন্ন বেসরকারি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান মাদকদ্রব্য হতে বিরত থাকার ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে এব্যাপারে সহায়তা করতে পারে- যেমন মাদক বিরোধী শীর্ষক কর্মশালা, আলোচনা সভা, প্রদর্শণী, রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন ইত্যাদি। এছাড়া যারা মাদকদ্রব্য গ্রহন ত্যাগ করেছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ পুরষ্কার প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এর ফলে তারা উৎসাহিত হয়ে এ কুঅভ্যাস ত্যাগ করতে সচেষ্ঠ হবে।
শিক্ষা কার্যক্রম
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থ্যাৎ প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সকল শ্রেণীতে মাদকদ্রব্য সেবনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আলোকপাত করে বিশেষ পাঠ্যসূচির অর্ন্তভূক্ত করা যেতে পারে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরামর্শদানের কর্মসূচি ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি চারিত্রিক গুণাবলী প্রস্ফুটিত করার ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
আইনগত ব্যবস্থা
সঠিক ও কার্যকর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের দ্বারা যে কোনো অসামাজিক, অবৈধ ও ক্ষতিকর কার্যকলাপ সহজে বন্ধ করা যায়। কাজেই, মাদকদ্রব্য অপব্যবহারের ন্যায় অসামাজিক ক্রিয়াকলাপ বন্ধের লক্ষ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দেশে মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও সহজলভ্যতা দূরীভূত করার ব্যাপারে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।
মূল্যবোধ ও ধর্মীয় আলোক
মানুষের জীবনে মূল্যবোধ তাকে জীবনে চলার পতে সঠিক পথনির্দেশনা দেয়। এর ফলে সে মন্দকাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং সৎকাজে নিয়োজিত করে।
ধর্মীয় আলোক ও মহান বাণী এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা ধর্মীয় গ্রন্থে উলেখিত, এসকল উপদেশ, ধূমপান, মাদকদ্রব্য সেবন ইত্যাদি যেকোন ধরনের নেশাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কাজেই ধর্মীয় নেতাগণের ওয়াজ এবং জলসায় বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদেরকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলা যেতে পারে।
আজকের কিশোর-কিশোরী ও তরুণ সমাজ দেশ ও সমাজের ভবিষ্যৎ নাগরিক ও কর্ণধার। কাজেই এই কর্মদক্ষম, উজ্জ্বল জনগোষ্ঠীর সুষ্ঠু ব্যক্তিত্ব, চারিত্রিক গুণাবলী মূল্যবোধ দেশ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু মাদকদ্রব্য সেবনের ন্যায় কু অভ্যাস একে বাঁধাগ্রস্থ করে।
যদিও মাদকদ্রব্য সেবনের এই অসুস্থতার নিরাময় ও দূরীকরণ খুবই কষ্টসাধ্য তবু এর নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রতিটি সচেতন ও বিবেকবান ব্যক্তির অবশ্য কিছু করণীয় আছে।
অতএব, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিটি ক্ষেত্রে যে যেখানে অবস্থান করছেন সেখান থেকেই প্রত্যেককে এর করাল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করার জন্য সম্মিলিতভাবে জোর প্রচেষ্ঠা চালাতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, মাদকাসক্তি ব্যক্তির এমন এক অসুস্থতা যা তাকেই শুধু ক্ষতিগ্রস্থ করে তাই নয়, এর প্রভাব তার পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রের উপরও পড়ে যদিও এই অসুস্থতা নিরাময় অনেক কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ তথাপি এর নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে অবশ্যই কিছু করণীয় রয়েছে। এজন্য পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
প্রথমত
ব্যক্তির বয়ঃসন্ধিকালে অবশ্যই পিতামাতাকে ছেলেমেয়েদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর ব্যাপারে সহযোগিতা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত
পারিবারিক পরিবেশ সুন্দর, সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য অনুকূল করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রেও পরিবারের সদস্যগণের ধৈর্য্য, সহনশীলতার পরিচয় দেয়া একান্ত দরকার।
তৃতীয়ত
জীবনের হতাশা হতে মুক্তির একমাত্র পথ মাদকাসক্তি নয় একথা বোঝাতে হবে। কারণ জীবনে বাধাবিঘ্ন, ভালোমন্দ ঘটনা সবই থাকবে যেমন নদীতে ঢেউ থাকে। কাজেই সকল পরিস্থিতে ধৈর্য্য ধরা ও যে কোনো প্রতিকূল ঘটনাকে সহ্য করার মানসিকা দৃঢ়তা অর্জন করতে হবে।
চতুর্থত
ড্রাগ সেবনের কুফল সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে এবং এই প্রেক্ষিতে গণমাধ্যম বিশেষ করে টিভি রেডিও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
সর্বশেষে ড্রাগস অর্থ্যাৎ মাদকদ্রব্য যাতে সহজলভ্য না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
