বকশীগঞ্জের ঘাষিরপাড়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ৬ মাস যাবত তালাবদ্ধ

বকশীগঞ্জের ঘাষিরপাড়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ৬ মাস যাবত তালাবদ্ধ

মাসুদ উল হাসান,বকশীগঞ্জ, জামালপুর ॥  ডাক্তার ও জনবল সংকটের কারনে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের ঘাষিরপাড়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গত প্রায় ৬ মাস যাবত তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফলে গরিব অসহায় রোগীরা সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অসহায় রোগীদের দেখার যেন কেউ নেই।

জানাগেছে,জনসংখ্যার দিক থেকে উপজেলার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন বগারচর। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এই ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। সরকার গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌছেঁ দিতে ১৯৬১ সালে ঘাসিরপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেন। সরকারি সিদ্ধান্ত মতে প্রতিটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার,একজন ফার্মাসিস্ট,একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও একজন অফিস সহায়কের পদ রয়েছে।

কিন্তু ঘাষিরপাড়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার,ফার্মাসিস্ট,উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও অফিস সহায়কসহ সবগুলো পদই শুন্য। এছাড়া এ কেন্দ্রে আধুনিক অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সংযোগ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি কিছুই নেই। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষ। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নতুন নিয়োগকৃত মেডিকেল অফিসারদের প্রথম যোগদান ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হওয়ার কথা। সেখানে দুই বছর বাধ্যতামূলক থাকার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে বদলি হতে পারবে। অথচ উপ-স্বাস্থ্যে কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তাররা তদবির করে ডেপুটেশনে অন্যত্র চাকরি করছেন। ফলে ছয় মাস যাবত বন্ধ থাকায় ওই অঞ্চলের সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বারান্দায় বসে আছেন চিকিৎসার জন্য আসা শিশুসহ কয়েকজন নারী ও পুরুষ । তারা বলেন,ডাক্তার আসবেন বলে বসে আছি কিন্তু ডাক্তারতো আসেনা। প্রায় ছয় মাস ধরেই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।

চিকিৎসা নিতে আসা ঘাসিরপাড়া এলাকার ষাটোর্ধ হাজেরা বেগম বলেন,কয়দিন থেকে জ্বর আর ঠান্ডা। তাই তিন দিন ধরেই আসি কিন্তু হাসপাতাল তালা মারা ডাক্তার নাই। আমরা গরীব মানুষ কোথায় গেলে ঔষুধ পামু।

চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ কালাম মিয়া বলেন, টাকা খরচ করে ডাক্তার দেখানোর ক্ষমতা আমার নেই। তাই এখানে আসি। আগে ডাক্তার থাকতো এখন আর আসেনা। তাই ঔষুধ নিতে পারিনা।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা সমাজসেবক আলহাজ্ব এমদাদুল হক বলেন,হাসপাতালটি অনেক পুরনো। তাই এই এলাকার অনেকেই চিকিৎসার জন্য আসেন। ডাক্তার না থাকায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা দারুনভাবে বিঘিœত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা.নুরুল আলম সমকালকে জানান,জনবল সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবগত করে জনবলের জন্য চাহিদা দেয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এর সমাধান হবে।

আরও পড়ুনঃ বাগেরহাটে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনি ও পুরস্কার বিতরন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*