আমরা অনেকে ভাবি যে, বিভিন্ন ধরনের ফলের রস (Juice) একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়। ডা. লাস্টিগ বলেন, ফলের রস যদি ১০০% প্রাকৃতিকও হয় তবুও তা সোডা পান করার চেয়ে কোন অংশ কম ক্ষতিকর নয়। ফলের রস স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি এই প্রচলিত ধারণা স্থূলতার আগ্রহতে ঘৃতাহুতি দিচ্ছে। ফলের রস ও সোডাতে যেহেতু একই পরিমাণ শর্করা থাকে কাজেই শরীর একই ভাবে সাড়া দেয়। ফলের রসে যেমন গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ ও সুক্রোজ আছে সোডাতেও আছে উচ্চ ফ্রকটোজ আর ৪৫% গ্লুকোজ।
ডা. লাস্টিক আরো বলেন, সোডার চেয়ে ফলের রস আরো বেশি ক্ষতিকর কারণ এর প্রতি আউন্সে উচ্চতর ক্যালরি রয়েছে। ১২ আউন্স সোডাতে যেখানে ১৪০ ক্যালরি শক্তি আছে সেখানে সমপরিমাণ ফলের রসে আছে ১৭০ ক্যালরি। টাটকা ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি কারণ এতে মানব দেহের জন্য উপকারি আঁশ আছে। ফলের আঁশ অংশটুকু মূলত উপকারি। অন্যদিকে ফলের রস আরেকটি কারণে ক্ষতিকর- সেটা হল ফ্রুকটোজ। চিনির মাত্রায় ফ্রুকটোজ সবচেয়ে বেশি। তালিকায় সুক্রোজ, ল্যাকটোজ বা গ্লুকোজের স্থান এর অনেক নিচে। ফ্রুকটোজ শরীরের দু’ভাবে ক্ষতি করে। প্রথমত পাকস্থলী নিঃসৃত ক্ষুধাবর্ধক হরমোন ঘ্রেলিনকে দমিয়ে রাখতে পারে না। যখন পাকস্থলী খালি থাকে তখন ঘ্রেলিন নিঃসরণ মাত্রা বেড়ে ক্ষুধার অনুভূতি তৈরি করে। খাবার পর ঘ্রেলিন নিঃসরণ বন্ধ থাকে(প্রায় আধঘন্টার উপর)। যেহেতু ফ্রুকটোজ ঘ্রেলিনকে দমিয়ে রাখতে পারে না কাজেই তা ক্ষুধা দমানোর উপরও কোন প্রভাব ফেলতে পারে না।
অন্য কথায় বলা যায় ১৮০ ক্যালরির একটা ফ্রুকটোজ বেভারেজ খাওয়ার পরও এই ক্যালরি ক্ষুধা উদ্রেককারী হরমোনের উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারে না। এই অজানা ক্যালরি ওজন বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয়ত, ফ্রুকটোজ যকৃতের ক্ষতি করে। যদিও আণবিক গঠনের দিক থেকে ফ্রুকটোজ একটি শর্করা বিপাকের পর এটি ফ্যাটের মত কাজ করে। ফ্যাট আর ইনসুলিন দু’টোই সরাসরি রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। এটা গ্লুকোজজেনে পরিবর্তিত করে যা মোটেই দেহের জন্য ক্ষতিকর হয়। কাজেই এই রক্তে মিশে যাওয়া ফ্রুকটোজ দেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে।
এই ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য জনসচেতনতা বাড়তে হবে। ডা: লাস্টিগ বলেন, ‘তামাক শিল্পের সাথে সাথে জুস আর সোডার ক্ষতিকর প্রভাবের কথা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে’
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

