
গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্নগুলো জেনে রাখুন
সব মায়েরাই চান সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় সন্তান জন্ম দিতে। কিন্তু বিভিন্ন কারনে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিতে পারে। যা মা ও গর্ভস্ত শিশুর জন্য বিপদের কারন হয়। তাই সব মায়েদের উচিত গর্ভাবস্থায় এই সব বিপদ চিহ্নগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা। এমন কিছু পরিচিত বিপদ চিহ্ন হচ্ছে:
অধিক মাত্রায় বমি হওয়া: গর্ভের প্রথম তিন মাসে সব মায়েদেরই কম বেশি বমি হয়ে থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত বমি মায়ের জন্য ক্ষতিকর, কারন এটি মায়ের দেহে পানি শূন্যতা, শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসম্যহীনতা, কিডনি ফেইলর, জন্ডিস, খিচুনিসহ অনেক জটিলতার কারণ হতে পারে।
রক্তস্রাব: গর্ভধারনের পর বিভিন্ন কারণে রক্তস্রাব হতে পারে। গর্ভের প্রথম তিন মাসে এটি সাধারণত গর্ভপাতের লক্ষণ নির্দেশ করে। এছাড়া একটোপিক প্রেগনেনসিতেও (জরায়ুর বাইরে গর্ভ ধারন) রক্তস্রাব হতে পারে, যা গর্ভাবস্থায় একটি জরুরী অবস্থা। রক্তপাতের সাথে তীব্র পেটে ব্যাথা ও রোগীর অচেতন হয়ে যাওয়া একটোপিক প্রেগনেনসির লক্ষন। প্রেগনেনসির শেষ দিকে প্লাসেন্টা নিচেথাকলে(প্লাসেটা প্রিভিয়া) বা প্লাসেন্টা সেপারেশন হয়ে রক্তপাতের কারন ঘটায়।
উচ্চ রক্তচাপ: গর্ভবতী মায়ের উচ্চ রক্তচাপ মা ও গর্ভস্থ শিশুর জন্য একটি ঝুকিপুর্ন অবস্থা। কম ওজনের শিশু জন্মদান, অপরিণত অবস্থায় শিশুর জন্ম, সিজারের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া সহ নানা ধরনের জটিলতা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের সাথে ইউরিনে প্রোটিন / এলবুমিন পাওয়া গেলে বুঝতে হবে তিনিপ্রি-এক্লাম্পসিয়ায় ভুগছেন। এর জটিলতা থেকে খিচুনি বা এক্লাম্পসিয়া হতে পারে যা মা ও শিশু মৃত্যুর একটি বড় কারন।
তীব্র মাথাব্যাথা ও চোখে ঝাপসা দেখা: গর্ভাবস্থায় যারা প্রি-এক্লাপ্সিয়া ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের জটিলতা এক্লাম্পসিয়া হবার পূর্ব লক্ষন নির্দেশ করে। কাজেই এই লক্ষন দেখা দিলে অতিস্বত্বর নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে।
পেটে ব্যাথা: গর্ভাবস্থায় পেটে ব্যাথার নানাবিধ কারন রয়েছে, তবে ব্যাথা তীব্র হলে তা মায়ের জন্য একটি বিপদ সংকেত। গর্ভের প্রথম দিকে গর্ভপাত বা একটোপিক প্রেগনেনসির কারনে ব্যাথা হয়। গর্ভের শেষের দিকে প্রি-মেচিউর লেবার পেইন পেটে ব্যাথার একটি বড় কারন, যা থেকে অপরিণত অবস্থায় শিশুর জন্ম হতে পারে।
পেটের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় বা ছোট হলে: পেটের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হবার কারনগুলো হলো একের অধিক বাচ্চা গর্ভধারণ, পলি-হাইড্রামনিওস (অ্যামনিওটিক ফ্লুইড স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়া)। তেমনি ওলিগোহাইড্রামনিওস (অ্যামনিওটিক ফ্লুইড স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়া), গর্ভে বাচ্চার সঠিক গ্রোথ না হলে (Intra uterine growth retardation) পেটের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হবে।
দীর্ঘ সময় লেবার পেইন থাকলে: লেবার পেইন ১৮ ঘন্টার বেশি থাকলে তাকে প্রলং লেবার বলে। লেবার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক না হলেই লেবার প্রলং বা দীর্ঘ হয়। কাজেই ১২ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চা প্রসব না হলে অভিজ্ঞ গাইনী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
বাচ্চার নড়া চড়া কম মনে হলে: গর্ভের শেষ দিকে একটি সুস্থ স্বাভাবিক বাচ্চা দিনে কমপক্ষে দশ বা এর অধিক বার নড়া চড়া করবে। বাচ্চার নড়া চড়া এর কম মনে হলে তা চিকিৎসককে জানানো উচিত।
ডাঃ নুসরাত জাহান, সহযোগী অধ্যাপক (অবস-গাইনী),
বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে ট্রেনিং প্রাপ্ত (ইন্ডিয়া), ল্যাপারোস্কপিক সার্জন।
চেম্বার: ডিপিআরসি হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব,
(১২/১, রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ- +8801997702001, +8801997702002,
09666774411, 029101369, 0258154875
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
