কোলন বা বৃহদন্ত্র যা আমাদের পরিপাকতন্ত্রের শেষের অংশ সেখানে নানা রকম রোগ হতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে কোলন পলিপ। পলিপ কি ? পলিপ হচ্ছে আঙ্গুরের মত একটি অস্বাভাবিক অংশ। সাধারনত ত্রিশ বছরের পর বৃহদন্ত্রে এই পলিপ দেখা দেয়,অবশ্য ছোট বেলাতেও কিছু কিছু পলিপ দেখা দিতে পারে।প্রশ্ন হচ্ছেএই পলিপ কেন এত গুরুত্বপূর্ন ? কোলন পলিপ গুরুত্বপূর্ন কারন এখান থেকেই কোলন ক্যানসারের সূত্রপাত হয়।
লক্ষন:
কোলন পলিপের লক্ষন কি ? সাধারনত: এই রোগের কোন লক্ষন দেখা যায় না, চুপচাপ শরীরে বেড়ে উঠে, আর যখন লক্ষন দেখা দেয় তখন দেখা যায় মলের সাথে রক্ত, কাল কাল মল হওয়া, রক্ত শুন্যতা হওয়া, পেটে ব্যাথা, ডায়রিয়ার মত লক্ষন হওয়া এবং কোষ্ঠ পরিস্কার না হওয়া।
নির্ণয়:
পাইলস ও পায়ুপথের অন্যান্য রোগের মত পলিপ এও রক্ত যায়, রোগীরা পাইলস বলে ভুল করেন। কোলন পলিপ নির্ণয় এর আধুনিক পরীক্ষা হচ্ছে কোলোনোস্কোপি, বস্তত: একমাত্র এই পরীক্ষার মাধ্যমেই কোলন পলিপ নির্ণয় করা যায়। কোলোনের কোন স্থানে পলিপ দেখা দিলে পুরো কোলন কোলোনোস্কোপির মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হবে, দেখতে হবে আর কোন পলিপ আছে কি না। কোলোনোস্কোপির মাধ্যমে এই পলিপ সরাসরি দেখা যায়, এর ছবি তোলা যায় এমন কি ভিডিও ও করা যায়। ফলে রোগী বা অন্য চিকিৎসক ও সেটি দেখতে পারেন।
চিকিৎসা:
এই পলিপ সম্পর্কে প্রধান সুখবর হচ্ছে ,পলিপ এই কোলোনোস্কোপির মাধ্যমেই অপসারন করা যায়, অর্থাৎএর জন্য কোন বড় অপারেশন এর প্রয়োজন নেই।এর জন্য রোগী কে অজ্ঞান করারও কোন প্রয়োজন নেই। রোগী কয়েকঘন্টা পরেই বাসায় ফিরে যেতে পারেন। পলিপ অপারেশনের পর পরই রোগী স্বাভাবিক খাবার খেতে পারেন। খুব বিরল ক্ষেত্রে সেখানে ক্যানসার নিশ্চিত যেমন FAP বা অনেক পলিপ আছে সেখানে অপারেশনের মাধ্যমে কোলন ফেলে দিতে হয়।
পরবর্তী চিকিৎসা:
কোলন পলিপ অপারেশন এর পর চিকিৎসক প্রায়ই কয়েক বছর পর পর কোলোনোস্কোপির উপদেশ দেন। কারন যাদের পলিপ হয় তাদের পরবর্তীতে আবার হতে পারে। তাই মলে রক্ত গেলে পলিপ আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন এবং ভাল থাকুন।
আরও পড়ুনঃ অন্ত্রচাঞ্চল্য (Irritable Bowel Syndrome)
অধ্যপক ডা: এসএমএ এরফান
বাংলাদেশের পাইয়োনিয়ার কোলোরেকটাল সার্জন
চেম্বার:জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হসপিটাল
৫৫,সাতমসজিদ রোড,জিগাতলা বাসষ্ট্যান্ড,ধানমন্ডি,ঢাকা
মোবাইল: ০১৬২৬৫৫৫৫১১,০১৮৬৫৫৫৫৫১১
medicalbd সাস্থের সকল খবর।


