ডেঙ্গু এক ধরনের মশাবাহিত রোগ। এডিস মশার মাধ্যমে মানুষের শরীরে আসে এবং এডিস মশাই আক্রান্ত রোগীর রক্ত খাওয়ার মাধ্যমে এই রোগ সুস্থ মানুষের দেহে ছড়ায়। এই প্রজাতিভুক্ত মশা ডেঙ্গুর সাথে চিকুনগুনিয়া ইত্যাদি রোগেরও বাহক। বৃষ্টি, গুমোট গরম এবং খারাপ জল নিকাশ ব্যবস্থা এই মশার বিস্তারের কারণ। বলা হয়ে থাকে, ডেঙ্গু জ্বর মূলত অভিজাত শ্রেণীর মানুষের রোগ। বস্তিতে, ডোবার আশে পাশে বসবাসকারী মানুষের এই রোগ খুব কম হয়। বরং বাড়ির আশেপাশে, বারান্দার টবে গাছ করেন যারা তাদের এই বেশি হতে দেখা যায়। কারণ গাছের টবে বা অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে।
লক্ষন:
ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়, ফেব্রাইল, অ্যাফেব্রাইল এবং ক্রিটিকাল। ফেব্রাইল পর্যায়ে রোগীর প্রচ- জ্বর থাখে। সঙ্গে শরীর, হাত, পা, মাথা ও চোখের চারপাশে ব্যাথা হতে পারে। রোগী প্রচ- দুর্বল অনুভব করবে। সাধারণত ৩-৫ দিন পর্যন্ত এই পর্যায় থাকে। এরপর সেরে যায় এবং শুরু হয় অ্যাফেব্রাইল পর্যায়। এই পর্যায় বেশি বিপজ্জনক। জ্বর সেরে যাওয়ার পর রোগীর রক্তে অনুচক্রিকা এবং শ্বেতকনিকার পরিমাণ কমতে শুরু করে। পাশাপাশি দাঁত মাজার সময় রক্তক্ষরণ, পায়খানার সংগে রক্ত যাওয়া, শরীরে ছোট ছোট লাল রক্তের দানা দেখা দেওয়া, পেটে ব্যাথা, মাথা ঘোরা, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, হঠাৎ করে পারে গোড়ালি চোখের পাতা ফুলে যাওয়া। এমতাবস্থায় রোগিকে অতিসত্ত্বর হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।
চিকিৎসা:
ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত ৫-৭ দিনের মধ্যে সেরে যায়। জ্বর হলে পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পানি, স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের শরবত পান করা উচিত। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে বারবার শরীর মুছে দিতে হবে। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাবে। তবে কোনো অবস্থায় ব্যাথানাশক ঔষধ খাওয়া যাবে না। বাচ্চাদের ডেঙ্গু হলে করণীয় প্রায় একই। শিশুরা নিজেরা বলতে অক্ষম তাই সতর্কতার মাত্রা বাড়াতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাচ্চাদের প্রস্রাবের পরিমাণ নজরে রাখা। ডেঙ্গু হওয়া কোন শিশুর যদি দিনে ৩ বারের কম প্রস্রাব করে তাকে সঙ্গ সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এছাড়া বড়দের মতই বাচ্চাদের ORS গুলে খাওয়াতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে Paracetamol ডোজ গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চাদের Paracetamol ট্যাবলেট না দেওয়ায় ভালো। Paracetamol Syrup দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ওজন অনুযায়ী পরিমাণ মেপে বুঝে খাওয়াবেন। প্রয়োজনে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরপর দেয়া যায়। কিন্তু সারা দিনে মানে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচবারের বেশি না দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।
প্রতিরোধ:
পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতাই এর মূল প্রতিরোধ ব্যবস্থা। বাসার আশে পাশে কোথাও যাতে পানি জমে থাকতে না পারে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত মশার ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। মশার বংশবৃদ্ধি, মশা নিধন ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ঘরের আঙিনা, ফুলের টব, বারান্দা পরিষ্কার রাখতে হবে। দিনের বেলা এডিস মশা কামড়ায় বলে দিনে মশানাশক স্প্রে বা মশারি ব্যবহার করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা বিছানায় মশারির ভিতর রাখতে হবে।
আরও পড়ুনঃ মাইগ্রেনের ব্যথায় করনীয়।
ডাঃ জারিফ
ডিপিআরসি হসপিটাল লিঃ
medicalbd সাস্থের সকল খবর।



