প্রতিদিন কিছু সাধারণ সমস্যা নিয়ে রোগী বা তাদের আত্মীয়স্বজন চিকিৎসকের কাছে আসেন। যেসব সমস্যা সমাধানে কোনো ওষুধ প্রয়োজন হয় না, উপদেশই যথেষ্ট।
১. নবজাতক ও শিশু:
Physiological Jaundice
- বারবার পায়খানা তবে শিশু সুস্থ।
- বেশি খাওয়ার কারণে বমি।
- সাধারণ সর্দিকাশি।
- পেট ব্যথা, খাবার বেশি হলে বা নতুন খাবার খেলে পেটে ব্যাথা।
- মেয়ে নবজাতক শিশুর স্ত্রী-অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ।
- ছোট শিশুদের নেত্রনালী ঠিকমতো তৈরি না হওয়ায় পানি পড়ে। সেরে যায়।
- Sternocleidomastoid Tumor নবজাতকের ঘাড়ে (Neck) গোলাকার টিউমার দেখা।
Caput: নবজাতকের মাথার উপরিভাগ ফোলা থাকে। ধীরে ধীরে চয়ে যায়।
২. Hemangioma: জন্মগতভাবে রক্তনালীর গোটা।
৩. Subconjunctival Hemorrhage: চোখের সাদা অংশে ছোট রক্তবিন্দু দেখা যায়। অন্য সমস্যা না থাকলে এমনিতেই চলে যায়।
৪. Gynecomastia: নবজাতকের দুই স্তন বড় হয়। নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা না থাকলে ওষুধের প্রয়োজন হয় না।
৫. Epiphora: ছোট শিশুদের চোখ থেকে পানি পড়ে।
৬. খায় না: শিশুদের বেলায় পরিবারের অভিযোগ- শিশু খায় না, বয়সের সাথে যদি ওজন ঠিক থাকে এবং নিয়মমাফিক বৃদ্ধি হয় তাহলে কোনো সমস্যা নেই।
৭. Rash: জ্বর, কিছু লাগলে গায়ে লাল লাল দেখা দেয়, কয়েক দিনের মধ্যে সাধারণত চলে য়ায়।
৮. Goiter: কশোর-কিশোরীদের বেলায় স্বাভাবিকভাবে গলায় থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়।
৯. Nocturia: শিশুদের বেলায় সাত-আট বছর বয়স পর্যন্ত বিছানায় পেশাব করা স্বাভাবিক।
১০. মায়ের দুধের বাঁট ছোট বা বেশি বড় হলে শিশু দুধ খাওয়ার সময় বাতাস বেশি ঢোকে এবং পেট বড় হয়ে যায়। বড় হওয়ার সাথে সাথে ঠিক হয়ে যায়।
১১. মাথাব্যথা: ঠিকমতো ঘুম না হলে ক্ষধা লাগলে মাথাব্যথা করে। দেরিতে ঘুমালে, সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য জোর করে উঠালে মাথাব্যথা করে।
১২. Asymmetry of Ribs: বুক বা Rib একপাশের তুলনায় অন্য পাশে একটু উঁচু দেখা দিতে পারে।
১৩. Umbilical Hernia: শিশুদের নাভি অনেক ক্ষেত্রে বড় দেখায় পরবর্তীকালে আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়।
১৪. Noisy Respiration: ছোট শিশুর শ্বাসনালী ছোট হওয়ার কারণে গলায় শব্দ হয়, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠিক থাকলে পরবর্র্তীকালে চলে যায়।
১৫. Lactose Intolerance: অপুষ্টির কারণে এবং ডায়রিয়া দীর্ঘ সময়ের জন্য হলে Lactose Intolerance হতে পারে। Lactose যুক্ত খাবার (যেমন দুধ) বাদ দিয়ে অন্যান্য খাবার খেলে ঠিক হয়ে যায়, মায়ের বুকের দুধ বন্ধ করার প্রয়োজন হয় না।
১৬. Bulged Fontanelle: কিছু ওষুধ বেশি পরিমাণ যেমন- ভিটামিন A, Nalidixic Acid খেলে শিশুদের মাথায় Fontanelle (মাথার উপরিভাগের হাড় সন্ধিস্থলে) ফুলে ওঠে, ওষুধ বন্ধ করলে ঠিক হয়ে যায়।
১৭. Carotenemia: অতিরিক্ত রঙিন তরকারি বা ফল খেলে শরীর হলুদ বর্ণের হয়। কম দিলে ঠিক হয়ে যায়।
১৮. Geographical tongue: জিহ্বার এক জায়গায় ক্ষতের মতো দেখা দেয় আবার ভালো হয়, আরেক জায়গায় হয়, শিশুদের বেলায় বেশি হয়। কোনো ওষুধ লাগে না।
১৯. Anuria: সুস্থ নবজাতক শিশু জন্মের ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পেশাব না করলে এবং ডায়রিয়া, পানি কম খেলে, বেশি ঘামলে কয়েক ঘণ্টার জন্য পেশাব না-ও হতে পারে। স্যালাইন ও তরল খেলে ঠিক হয়ে যায়।
২০. Breath Holding Attack: কিছু শিমু কাঁদার সময় নীল হয়ে যায়। হাত-পা সোজা করে ফেলে, বড় হলে চলে যায়।
২১. Pain Limb: বাড়ন্ত শিশু বিশেষ করে রাতে পায়ে ব্যথা করে, হাঁটাচলা বেশি হলে বাড়ে, বড় হলে চলে যায়।
২২. Hematoma: শরীরে কোথাও আঘাতে সামান্য রক্ত জমে ফুলে ওঠে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
২৩. হাড়ভাঙা (Fracture Of Bones)দুই অংশ মুখোমুখি থাকে এবং সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, যেমন- মাথার হাড়, Clavicle, Rib, Metacarpal Bone (হাতে) Metatarsal (পায়ের পাতা)।
২৪. Drug poisoning: বেশির ভাগ ওষুধ অতিরিক্তক মাত্রায় বেশি না খেলে তেমন সমস্যা হয় না। পানি বেশি খেলে পেশাবের সাথে বের হয়ে যায়। স্বাভাবিক থাকলে তেমন সমস্যা হয় না।
২৫. Snake Bite: সব সাপে বিষ নেই, কামড়ের পরও স্বাভাবিক অবস্থায়, অর্থাৎ Pulse, Blood Pressure, Respiration ঠিক থাকে ও জ্ঞান থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা হয় না।
২৬. Dog Bite: কুকুর রোগাক্রন্ত না হলে কুকুরের কামড়ে সমস্যা হয় না। কুকুর রোগাক্রান্ত হলে কুকুরের মুখ থেকে লালা পড়বে। অনেককে আক্রমণ করবে, কামড়াবে ও কয়েক দিনের মধ্যে কুকুর মারা যাবে।
২৭. Drowning: পানিতে ওঠার পর শ্বাস-প্রশ্বাস বা Respiration, Pulse, Blood Pressure শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে বা অল্প সময়ে জ্ঞান ফিরে আসে তাহলে তেমন সমস্যা হয় না।
২৮. Gland: গলায় (Neck) বগলে (Axilla) রাগের গোড়া (Inguinal Region) লসিকাগ্রন্থি (Lymph Gland) সাধারণত বিভিন্ন এর ফলে বড় হয়, কিছুদিন থাকে, গ্রন্থিগুলোর আকার আরো বড় হলে নতুন বড় গ্রন্থি যোগ হলে এবং জ্বর, ওজন কমা ইত্যাদি অন্যান্য উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করার প্রয়োজন হয়। সুস্থ থাকলে দু-একটা সমস্যা হয় না।
২৯. পাতলা পায়খানা: বুকের দুধ খাওয়া শিশুর বারবার পাতলা পায়খানা হতে পারে। বিভিন্ন বর্ণ ও আকৃতির হয়। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি থাকলে কোনো ওষুধ লাগে না।
৩০. বমি: যেকোনো বয়সের মানুষ বিশেষ করে খাওয়ার অনিয়ম, ভ্রমণ, দুর্গন্ধ ইত্যাদি কারণে দু-একবার বমি করতে পারে। ছোট শিশু একটু বেশি খেলে বমি করে, এমনকি মায়ের দুধও।
৩১. কিছু Virus সংক্রমণের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। বিশ্রাম ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসায় ভালো হয়। যেমন-
- Mumps
- Chicken Pox
- Dengue
- Influenza
- Viral Hepatitis বা জন্ডিস
- Chikun Guniya
৩২. কিছু রোগ আপনাআপনি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনিতে ভালো না হলে মূল চিকিৎসা কয়েক দিন পর শুরু করা হয়, যেমন-
- Nephrotic Syndrome
- ITP
- Conjunctivitis
৩৩. জন্মগত কিছু রোগের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, যেমন-
- Myopathies
- Down’s Syndrome
- Turner’s Syndrome
- Thalassemia ও অন্যান্য জন্মগত Congenital Hemolytic Anemia
- অন্যান্য জন্মগত সমস্যা।
৩৪. অল্প উচ্চ রক্তচাপকে (Mild Hypertension) জীবনপদ্ধতি পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যেমন-
- চিন্তাহীন
- ধূমপানমুক্ত
- লবণ না খাওয়া
- শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা।
৩৫. অনুরূপ Diabetes Mellitus -এর ক্ষেত্রে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম ও হাঁটার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
৩৬. Head Injury: মাথায় বিভিন্ন কারণে আঘাত পেতে পারে। জ্ঞান থাকলে বা অল্প সময়ের জন্য জ্ঞান হারানোর পর পরীক্ষা করে কোনো উপসর্গ বা কোনো সমস্য না থাকলে ওষুধের প্রয়োজন হয় না।
৩৭. ঘাড়ে বা পিঠে ব্যথা: সাধারণত ছাত্রছাত্রীদের ভারী ব্যাগ বহনের কারণে পিঠ ও ঘাড়ে ব্যথা হয়। স্কুল বন্ধের সময়ে ব্যথা কম থাকে বা থাকে না।
৩৮. শিশুদের ECG: সাধারণত ১২ থেকে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত ECG তে T inversion পওয়া যায়, এটা স্বাভাবিক।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

