কম শীতে অতিরিক্ত গরমের জামাকাপড় ডেকে আনতে পারে বাত

কম শীতে অতিরিক্ত গরমের জামাকাপড় ডেকে আনতে পারে বাত

বাতকে চিকিৎসাশাস্ত্রে বলে আর্থ্রাইটিস। আর এই আর্থ্রাইটিস বিভিন্ন  ধরনের হয়। যেমন, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অ্যাঙ্কাইলোজিং  স্পন্ডিলাইটস, অস্টিও আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি। ঘাড়ে, কোমরে এক ধরনের বাত হয় তাকে বলে স্পন্ডিলোসিস। আবার মাংসপেশি ও স্নায়ুতেও বাত হয় যেমন ফাইব্রো মায়োলাইটিস ইত্যাদি। পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ঘাড়ে ও কোমরে স্পন্ডিলোসিসের প্রবণতা বেশি।

স্পন্ডিলাইটিস হলে সাধারণত মেরুদন্ডে প্রদাহ থাকে আর স্পন্ডিলোসিস হলে মেরুদন্ডে অবক্ষয়জনিত  বাতের সৃষ্টি হয়।

হাঁটুর বাতে ভোগা মানুষের সংখ্যা কম নয়। বাতে আক্রান্ত রোগীদের শতকরা ৪০ থেকে ৬০ জন মানুষ শুধু হাঁটুর সমস্যায় ভোগেন। বয়ঃবৃদ্ধি, আঘাত ইত্যাদি কারণের জন্য হাঁটুর সন্ধিতে ক্ষয়জনিত বাত ধরে। এ ধরনের বাত বৃদ্ধি পায় হরমোনের প্রভাবে। মহিলাদের  ইস্ট্রোজেনের  অভাবে অস্টিওপোরোসিস হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬০-এর ওপরে  যাদের বয়স তাদের হাঁটুতে  অবক্ষয়ের জন্য বাত বাড়ে।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে হাঁটুর ব্যথা ও সমস্যা অধিকাংশ ব্যক্তির এতটাই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যায় যখন শুধু ওষুধে আর কাজ হয় না। তখন ফিজিওথেরাপি করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না।

তাই দরকার সাবধানতা। প্রথমেই দরকার নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা। যাতে চোট- আঘাত না লাগে। কোনও কারণে ব্যথা শুরু হলেই চিকিৎসকের চটজলদি পরামর্শ নিন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

দেহ খুব  বেশি ভারী যাতে না হয় সেজন্য খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজর দিতে হেব। ভাত, ডাল, মাংস ভাজাভজি যে সমস্ত খাবার দেহের ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে সেগুলো কম খেতে হবে।

বাতের ব্যথায় প্রথমেই দরকার অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি এবং দরকার ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ খাওয়া। প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শে ব্যায়াম করবেন। ঠান্ডা-গরম সেঁক নেবেন, হিট থেরাপি করবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে পারনে। অতিরিক্ত ওজন যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ রেখে সুষম ও ভারসাম্যযুক্ত খাবার খেতে হবে। মাছ, মুরগির মাংস, দুধ, ছানা, শাকসবজি, আপেল, পেয়ারা খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে হাঁটুতে নী-গার্ড বাঁধবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যথা কমাবার ওষুধ খাবেন।

বাতের ব্যথায় কাবু হয়ে লোকে ডাক্তারের কাছে যায় ঠিকই, ওষুধপত্র খায় ঠিকমতো, কিন্তু যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে করা দরকার সেটাতে আদৌ গুরুত্ব দেয় না। সেটা কী? সেটা হল দৈনন্দিন জীবনচর্চা। রোজকার জীবনের সঙ্গে জড়িত যেমন খাওয়া-দাওয়া, ব্যায়াম করা, কাজকর্ম করা, অফিস-আদালত করা, ওঠাবসা করা শক্ত বিছানাতে ঘুমানো-এতসবের কোনোটাই ঠিকমতো করে না বা করে উঠতে পারে না। একটা পালন করে তো অন্যটা বাদ পড়ে। বাতের আজস্র রোগী এই কারণেই ওষুধপত্র ঠিকঠাক খেয়েও বাতের ব্যথায় কাবু হয়ে থাকে জীবনভর। সোজা কথাটা হল নিয়ম ভাঙলে কারোরই বাত থেকে মুক্তি নেই।

আরও পড়ুনঃ ফিজিওথেরাপি ও ফিজিওথেরাপিস্ট সম্পর্কে জানুন।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*