দীনেশ বাবুর বয়স এখন ৩৭ বছর তিনি একটি কর্পোরেট অফিসের বড় কর্মকতা। আগে মাঝে মাঝে পায়ে হালকা ব্যাথা হলেও তিনি অতটা গ্রাহ্য করতেন না। হঠাৎ একদিন রাত্রে দুটো পায়ে প্রচন্ড যন্ত্রণা এবং পরে তার সঙ্গে লক্ষ করলেন পা দুটি সামান্য ফুলে গেছে। দেরী না করে গেলেন একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বাবুর কাছে। ডাক্তার বাবু ওনাকে ভাল করে দেখলেন এবং সমান্য রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যানা গেল তার যে ব্যাথা হচ্ছে তা এক প্রকার গাঁটের ব্যথা। মানে গেঁটে বাত।
গাঁটে ব্যথা বা গাউট হল যন্ত্রণাদায়ক রিউম্যাটিক রোগের মধ্যে অন্যতম। যখন ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টাল আমাদের শরীরের কালেকটিভ টিস্যুর সন্ধিস্থলের মধ্যে তৈরি হয় তখন এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে ওই সমস্ত স্থান ফুলে ওঠে, ব্যথা হয় এবং ত্বক লালচে হয়ে যায়। ধীরে ধীরে আঙুল শক্ত হয়ে যায়। ফলে হাঁটাচলার ক্ষেত্রে রোগী সমস্যার সম্মুখীন হয়।
কারা আক্রান্ত হনঃ
৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী পুরুষ ও মহিলা, উভয়ের মধ্যে দেখা যায়। তবে পুরুষেরা মহিলাদের তুলনায় বেশি আক্রান্ত হয় ।
কী কারণে হয়ঃ
এই অসুখে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ হাইপারইউরিসিমিয়া সৃষ্টি হয়। আর এই অবস্থার জন্য দায়ী কতকগুলো সম্ভাব্য কারণ। যেমন- জেনেটিক ফ্যাক্টর কাজ করে শতকরা ১৮ ভাগ ক্ষেত্রে । অতিরিক্ত মাত্রায় পিউরিন জাতীয় খাদ্য খেলে গাঁটের ব্যথা বাড়ে। অ্যালকোহলও বাড়ায় গাঁটের ব্যথা। অতিরিক্ত ওজনও গাঁটে ব্যথার কারণ। কিছু এনজাইমের কার্যকারিতা ব্যথা বাড়ায়। ফলে গাঁটে ব্যথা হয়। আবার কিছু অসুখের কারণে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়। যেমন লিম্ফোমা, সোরিয়াসিস, রেনাল ফেলিওর।
রোগ লক্ষণঃ
সিরাম ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গিয়ে রক্তে লিউকোসাইটোসিস দেখা যায়। ই.এস.আর বেশি থাকে। এক্স-রে করলে তবেই সন্ধিস্থলের কতটা ক্ষতি হয়েছে বোঝা যায়।
খাদ্য নিষেধঃ
লালমাংস, গরু, খাসি, পাঠা, মহিষ, শুকর, ভেড়া, চিংড়ি এবং সামুদ্রিক মাছ খাওয়া বারণ। এছাড়া শিম, বরবটি, বীন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মাশরুম, টমেটো, অঙ্কুরিত ছোলা, মটর, পালং এবং পুইশাক, অ্যালকোহল ও ফাস্টফুড বন্ধ রাখতে হবে।
শীতে কেন গাঁটের ব্যথা বাড়েঃ
সাধারণত দেখা যায় গাঁটের ব্যথার প্রকোপ শীতে বাড়ে। এর পিছনে যে কারণগুলো কাজ করে তার মধ্যে অন্যতম হল পরিবেশ। প্রাকৃতিক পরিবেশের ব্যারোমেট্রিক প্রেসার নেমে যাওয়ার কারণে আমাদের গাঁটগুলো ফুলতে শুরু করে।
হল শরীরে একটা স্টিফনেস আসে এবং নড়াচড়া (মুভমেন্ট) করতে অসুবিধা হয়। ফলে ব্যথা শুরু হয়। শীতকালে মানুষের মধ্যে সক্রিয়তা কমে যায়। শীতের জন্য লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকে মানুষ। সকালে উঠে যে শারীরিক ব্যায়াম, হাঁটা অন্যসময় করে সেগুলো বন্ধ করে দেয়। বাড়ি থেকে বেরোতে চায় না। ফলে স্টিফনেস কাটিয়ে চলাচল করতে গেলে যন্ত্রনা শুরু হয়।
তৃতীয় কারণ হিসাবে বলা যায় যে বেশিভাগ সময় শীতে বয়স্ক মানুষেরা বাইরে বেরোতে চায় না। এর ফলে মানসিক দিক থেকেও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। মানুষ যত বেশি বাইরে বেরোবে, দোকান-বাজার করবে, মানুষের সাথে মিশবে, তত বেশি ফ্রেস থাকবে মন। কিন্তু ঠান্ডার কারণে বেরোতে ইচ্ছা করে না, বাড়ির মধ্যে একলা থাকেন, তখন মনের মধ্যে একটা ডিপ্রেশন তৈরি হয়। সেটা থেকেও শীতের সময় ব্যথার প্রকোপ বাড়ে। এই কারণে গাঁটে ব্যথা বা বাতের প্রকোপ যাদের মধ্যে দেখা যায় তাদের ভ্যাপসা ড্যাম্প লাগা আর্দ্র পরিবেশ এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়।
ব্যথা মুক্তির উপায়ঃ
শীতের কারণ যে গাঁটের ব্যথা তার থেকে মুক্তি পেতে বাড়ির মধ্যে কিছু ব্যায়ামের অভ্যাস করত হবে। ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ বাড়ির মধ্যে বসেই করা যায়। ফলে অনেকটাই সুস্থ থাকা সম্ভব। গ্রীষ্মের সকালে বাইরে বেরিয়ে হাঁটাচলা আপনি করেন, শীতে সেটা বন্ধ থাকে। শীতে সূর্য ওঠে দেরিতে , ঠান্ডাও থাকে, কুয়াশার কারণে দেখার অসুবিধায় ঘর থেকে বেরোতে খুব একটা ইচ্ছা করে না, বিছানায় বেশি সময় কাটাতে চান। তার ফলে স্টিফনেস বাড়ে। এই কারণে বাড়িতে বসে যদি ফ্রি-হ্যান্ড কিছু ব্যায়াম বা যোগা করে নেন তাহলেও ব্যথা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
শীতকালে আকাশ পরিষ্কার থাকে, সুর্যের আলো পাওয়া যায় প্রচুর। এক্ষেত্রে উচিত হবে সুর্যের আলো কিছুটা শরীরে লাগানো। সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। যাদের গাঁটের ব্যথা আছে, তার সঙ্গে যদি ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি থাকে তাহলে সারা শরীরে ব্যথাটা ছড়িয়ে যায়। সেক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে এক ঘন্টা বাইরে বেরিয়ে শরীরে সূর্যের লাগানো উচিত। যারা বাইরে বেরোতে পারছে না, তারা ছাদে চলে যেতে পারেন। সেখানে সুর্যের আলোয় কিছুটা পায়চারি করে নিতে পারেন। এছাড়া আপনার গাঁটে ব্যথার কারণে যে মেডিসিনগুলো চলছিল সেগুলো তো খেতেই হবে।
এছাড়া রিহেব-ফিজিও থেরাপি, লংওয়েভ থেরাপি, এইচএফএস, ইমমআর, কাপিং ও মেনুপুলেশন চিকিৎসক রোগীর বয়স ও অন্যান্য সমস্যা দেখে দিয়ে থাকেন।
পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

