উপহার হিসেবে চকোলেট বেছে নেবেন কেন?

উপহার হিসেবে চকোলেট বেছে নেবেন কেন?

ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো চকোলেট দিবস।রোজ ডে প্রপোজ ডের পর আসে এই চকোলেট ডে। প্রতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি এই দিনটি উৎযাপন করা হয়। এই পৃথিবীতে এমন লোক খুব কমই আছে যারা চকোলেট খেতে পছন্দ করেন না। তাই ভালোবাসার সপ্তাহে ভালোবাসা আরও বাড়াতে সুস্থ সম্পর্ক গড়তে প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে দিতে পারেন এক প্যাকেট চকোলেট। এত প্রিয়জনের অভিমান তো ভাঙবেই, সেই সাথে চকোলেটের গুণে সম্পর্ক হয়ে উঠবে আরও মধুর।

এনডিটিভি ও ইন্ডিয়াটিভি এক খবরে জানিয়েছে, সেই ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রত্যেকেই উপহার হিসেবে চকোলেট অনেক পছন্দ করেন। এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। চকোলেট খেলে আমাদের মেজাজের ওপর এর প্রভাব পড়ে; যা আমাদের খুশি থাকতে সাহ্যা করে। একই সাথে এটি আমাদের শান্ত থাকতেও সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষখ বলেছে, নিয়মিত চকোলেট খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যায়। যারা নিয়মিত চকোলেট খান তাদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ লোকের স্টোক হওয়ার আশঙ্কা কম। গবেষকরা আরও বলেন, চকোলেট কখনও কখনও উচ্চরক্তচাপের বিরুদ্ধে কাজ করে। চকোলেটে বিদ্যমান পলিফেনলস এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদাগুলো রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় দেখা গেছে, চকোলেট, চকোলেটবার, চকোলেট কুকি এবং বিভিন্ন ধরণের পানীয়তে যে পরিমাণ চিনি থাকে তাতে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। এত ওজনাধিক্যের ফলে হৃদপিন্ডে সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওজন কমানোর জন্য শরীরচর্চা জরুরি। তাই চাকোলেট খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

‘হাফিংটনটন পোস্ট’ ও টেলিগ্রাফ অবলম্বনে জেনে নিন চকোলেটের নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে-

হার্ট ভালো রাখে

দুধ, চিনি ও মাখন থাকার জন্য চাকোলেট খুব ভালো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। একই সাথে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ভূমিকা রাখে চকোলেট।

ওজন কমায়

ভালোবাসার মানুষের স্বাস্থ্য সুন্দর হোক, তাকে দেখতে ভালা লাগুক, এমনটা সকলেই চান। আর চেহারা সুন্দর রাখতে দারুণ উপকরী এই ডার্ক চাকোলেট। ডার্ক চকোলেট খেলে মিষ্টি, নোনতা, ফ্যাটজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। এর ফলে সহজেই ওজন কমে। তাই স্বাস্থ্য সুন্দর রাখতে ডার্ক চকোলেটই জমে উঠুক ভালোবাসা।

গর্ভবতী মা শিশুদের জন্য ভালো

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মহিলারা গর্ভবস্থায় বেশি চকোলেট খান তারা স্ট্রেসমুক্ত থাকেন। তারা বুদ্ধিদীপ্ত, হাসিখুশি সন্তাননের জন্ম দেন। তাই প্রেগন্যান্ট স্ত্রীকে যত খুশি চকোলেপট উপহার দিন। এতে ভালোবাসা বাড়বেই।

স্ট্রেস কমায়

চকোলেট যে স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে তা তো এতক্ষণে জেনেই গেছেন। সম্পর্কে খুশি থাকতে চকোলেট যেমন সাহায্য করে, তেমই ব্রেকআপের পর স্ট্রেস কাটাতেও চকোলেট কিন্তু দারুণ বন্ধু।

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্নি থেকে রক্ষা করে

চকোলেটের ফ্লাভনলের মধ্যে সূর্যরশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে। টানা তিন মাস চকোলেট খেলে ত্বক রোদে পোড়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। তাই ভালোবাসার মানুষকে চকোলেট উপহার দিন। ভালোসার চেহারায় ফুটে উঠবে।

বুদ্ধি বাড়ে

সম্পর্ক সুন্দর রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক আচরণ। বৃদ্ধি করে পরিস্থিতির মোকাবিলা, প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে পার্থক্য গড়ে দেয়। রোজ চকোলেট খেলে বুদ্ধি বাড়ে। ফলে চকোলেট উপহার দিলে সম্পর্কে বোঝাপড়া বাড়তে বাধ্য।

কাশি

ভালোবাসার সম্পর্কের চকোলের্টে মতোই একটা অংশ জুড়ে থাকে আইসক্রিম। আর ভালোবাসা তো রোদ, বৃষ্টি, জল, ঠান্ডা কিছুই মানে না। তাই প্রেম করতে গেলে একটু আধটু সর্দি কাশিতো হবেই। তবে সেই কাশিই যেন প্রেমের পথে বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায়। তাই বয়ফ্রেন্ডে বা গার্লফ্রেন্ডের কাশি হলে চকোলেট ড্রিংক্স খাওয়ান, চকোলেট উপহার দিন।

ডায়রিয়া

প্রেম করতে গেলে ঘোরাঘুরি, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া তো লেগেই থাকে। হঠাৎ পেটের সমস্যা, ডিহাইড্রেশনেও ভালো কাজ করে চকোলেট। তাই ভ্যালেন্টাইনস ডে তে ডিনার প্যান করলে আগে থেকেই সাথে রাখুন চকোলেট।

তবে কোনো চকোলেট ভালো, কালো চকোলেট না দুধসমৃদ্ধ চকোলেট?

এক্ষেত্রে গবেষকরা বলেন, কালো চকোলেট হৃদপিন্ডের জন্য বেশি ভালো। চকোলেট হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ঠিকই, তবে এটি হৃদরোগকে কমিয়ে আনে কি না এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি গবেষণায়। তাই চকোলেট খেতে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। আর আপনার বয়স যদি ১৬ বছরের উপরে হয় তাহলে তো চকোলেট ভেবেচিন্তেই খাওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ মৌরির ঔষধি গুণ।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*