মৌরির ঔষধি গুণ

মৌরির ঔষধি গুণ

ভাষানুযায়ী নাম: বাংলা-মৌরি, মিঠাজিরা, ফারসি- বাদিয়ান, সংস্কৃডু- মাধুরিকা, English: Sweet Fennel. Botanical- Foeniculum vulgare Gaertn (Mill), Family- Umbelliferae.

পরিচিতি: মৌরি বর্ষজীবী উদ্ভিদ। গাছ দুই হাত লম্বা লোমযুক্ত হয়। সাধারণত পাতা হয় না আর হলেও দেখতে অনেকটা সরু ছোট, যা গাছের সাথে লেগে থাকে। পাপড়ি পীতবর্ণের ও ফুল হলুদ বর্ণের এবং ফল গুচ্ছবদ্ধ ছাতার মতো হয়। মৌরি কাঁচা অবস্থায় সবুজ বর্ণের এবং পাকলে হলুদ বর্ণেরহয়। দেখতে অনেকটা জিরার মতো, তাই অনেকে মৌরিকে মিঠাজিরা বলে থাকে। শরৎ ও হেমন্তে বীজ ছড়ানো হয় এবং বসন্তের শেষের দিকে বীজ পাকে।

প্রাপ্তিস্থান: মৌরি বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ হয়।

ব্যবহার্য অংশ: মৌরি মূল, বীজ পাতা ও বীজের তেল ব্যবহার হয়।

মৌরিতে বিদ্যমান রাসায়নিক রেডিকল: মৌরিতে রয়েছে ১.২ উদ্বায়ী তেল, যাতে রয়েছে গিলাইকোসাইডিটি ও সোডিয়াম মিথাইল প্যারাবেন।

বিভিন্ন রোগে মৌরির ব্যবহার মহিলাদের জরায়ুর রোগে: ২০০ গ্রাম মৌরি চূর্ণ, ১০০ গ্রাম বাওআদা, ২৫টি জবা ফুল, ২০ গ্রাম গোলমরিচ, ৫টি শাপলা ফুল, ৫টি পদ্মফুল, ৫০ গ্রাম বাবলার আঠা সহযোগে ৭০০ মিলিগ্রাম আকারের বড়ি প্রস্তুত করে প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে আহারের পর একটি বড়ি সেবনে জরায়ু নিম্নগামী হওয়া, জরায়ু ইনফেকশন ও প্রদাহ, জরায়ু চুলকানোনাশক হিসেবে কার্যকরী।

কিডনি পাথুরি রোগে: ২০০ গ্রাম মৌরি চূর্ণ, ১০০ গ্রাম শোধিত মুলাবীজ চূর্ণ, ২০০ মিলিগ্রাম কাঁচামরিচের রস, ৫০ গ্রাম তরমুজ বীজ চূর্ণ, ৪০ গ্রাম আঙ্গুর বীজ চূর্ণ, ১০০ গ্রাম পাথরকুচি পাতার রস, ১০০ গ্রাম শোধিত গন্ধবিরজা সহযোগে ৫০০ মিলিগ্রাম আকারের ট্যাবলেট প্রস্তুত করে প্রতিদিন সকাল-দুপুর ও রাতে আহারের পর একটি করে ট্যাবলেট সেবনে কিডনি পাথুরি রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়।

সর্বপ্রকার বাতরোগে: ৩০০ গ্রাম মৌরি ও ৫০০ গ্রাম খাঁটি গাওয়া ঘি দ্বারা ভেজে চূর্ণ করতে হবে। ১০০ গ্রাম জায়ফল চূর্ণ, ২৫ গ্রাম জাফরান, ৫০ গ্রাম শোধিত কুচিলা বীজ, ৫০ গ্রাম ওলটকম্বলের বীজ চূর্ণ, ১ লিটার পরিমাণে অশ্বগন্ধার ক্বাথ, ৩ লিটার খাঁটি মধু সহযোগে জ্বাল করে আচার বা হালুয়া প্রস্তুত করে প্রতিদিন সকাল ও রাতে আহারের পর চা চামচের ১ চামচ পরিমাণ সেবনে সর্বপ্রকার বাতরোগ ভালো হয়।

যৌনরোগ: ২০০ গ্রাম মৌরি ও ১৫০ গ্রাম বন জৈন একত্রে মিশিয়ে ১ লিটার দেশী কাগজিলেবুর রসে ভিজিয়ে শুকাতে হবে। এরূপভাবে সাতবার ভেজাতে ও শুকাতে হবে। অতঃপর সেটি মিহি চূর্ণ করে ৬০০ গ্রাম খাঁটি গাওয়া ঘি দ্বারা ভেজে তাতে ৪ লিটার মধু যোগ করে জ্বাল করে হালুয়া প্রস্তুত করে প্রতিদিন সকালে ও রাতে ১ চামচ পরিমাণে সেবনে পুরুষের শুক্রাণু বৃদ্ধিকারক, যৌনশক্তি বর্ধক, বীর্য স্তম্বক, বীর্য ধারক ও রোধক, স্থায়ী যৌনশক্তি বর্ধক, যৌনশক্তি হারানো নিরাশ ব্যক্তিগণও আশার আলো দেখতে পারবে।

হৃদপিণ্ডের রোগে: ২০০ গ্রাম মৌরি ২ লিটার গুলঞ্চের রসে ভিজিয়ে শুকাতে হবে। এইরূপে পাঁচবার এভাবে ভেজাতে ও শুকাতে হবে। অতঃপর ওই মৌরিকে মিহি চূর্ণ করে গাম একাশিয়া রোগ করে ৫০০ মিলিগ্রাম আকারের ট্যাবলেট প্রস্তুত করে একত্রে ২ ট্যাবলেট করে দিনে দু’বার সেবনে হৃদপিণ্ডের ব্লকসহ যাবতীয় দুর্বলতা দূর হয়।

যকৃত বা লিভার রোগে: ৫০ গ্রাম মৌরি চূর্ণ, ২৫ গ্রাম তোপচিনি চূর্ণ, ২৫ গ্রাম চিরতা চূর্ণ, ২০টি শুকনো গোলাপ ফুল চূর্ণ, ২৫ গ্রাম মাজুফল চূর্ণ, ২৫ গ্রাম আদাশুঁঠ চূর্ণ। সবগুলো উপাদান একত্রিত করে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে চা চামচের ১ চামচ পরিমাণে মধুর সাথে গুলিয়ে সেবনে যকৃত বা লিভারের যাবতীয় দুর্বলতাসহ লিভারের পানি আসা, লিভার বৃদ্ধি ও সঙ্কুচিত হওয়া নাশক। এক কথায় লিভারকে স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ফলপ্রদ।

উপরি উক্ত বিষয় ছাড়াও মৌরি পেটব্যথানাশক, রক্ত আমাশয়নাশক, জননেন্দ্রিয়ের রোগে ও শুল ব্যথা নিবারক, শীতলজনিত ও বায়ুজনিত ব্যথা দূর করে। জ্বর, নিউমোনিয়ো ও বমিভাব নিবারক। মৌরির তেল মাথাব্যথা, সন্ধিব্যথা রোগনাশক হিসেবে কার্যকরী।

আরও পড়ুনঃ আনারস সম্পর্কে কিছু মজার তথ্য ও পুষ্টিগুণ।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*