
শিশু মাথা অস্বাভাবিক বড় নয় তো!
চার বছর বয়স নাবিলের (ছদ্মনাম)। এখানো কথা বলে না, তবে কিছু কিছু বঝে। হাটা বা বসা দূরে থাক, একা একা কাতও হতে পারে না। ঘাড়ও খুব একটা শক্ত হয়নি। কারণ কী?
নাবিল মা-বাবার দ্বিতীয় সন্তান। গর্ভাস্থায় প্রথম দিকে তার মায়ের প্রদাহ হয়েছিলো এবং চিকিৎসকের পরামর্শেই দুই সপ্তাহ অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছিলো। নরমাল ডেলিভারিতে নাবিলের জন্ম। জন্মের পরপরই কান্না করেছিলো । কিন্তু বয়স যখন এক সপ্তাহ, তখন তার জ্বর হয়, সাথে খিঁচুনি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সাত দিন অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়েছিল। সম্পূর্ণ সুস্থও হয়ে ওঠে সে। দেড় মাস যখন তার বয়স, খেয়াল করলেন, নাবিলেরর মাথার তালু ফুলে যাচ্ছে। তিনি তখনই চিকিৎসকে দেখান। পরীক্ষা করে দেখা গেল, হাইড্রোসেফালাস বা মাথার মধ্যে পানি জমেছে। চিকিৎসকে বলেন, অস্ত্রোপচার করে ‘ভি-পি সান্টম্ব’ লাগাতে হবে। মা-বাবা বললেন, একটু ভেবে দেখি এবং সবার সাথে একটু আলাপ করে নিই।
দিন যায়, মাস যায়- এভাবে কাটে বছর। মাথা তো বেড়েই চলেছে। এ দিকে নাবিলের শারীরিক ও মানসিক কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এখনো তার ঘাড় শক্ত হয়নি। মা-বাব আবার নিউরো সার্জনের কাছে গেলেন। তিনি বললেন, বড় দেরি করে এসেছেন। এখন অস্ত্রোপচার করলে মাথা বড় হবে না ঠিকই, কিন্তু খুব একটা কমবে না এবং মানসিক ও শারীরিক উন্নতি হবে না।
কারণ, এক মাস বয়সে সেটা করার কথা ছিল সেটা এক বছর পর করা হচ্ছে। মাথার সিটিস্ক্র্যান করা হলো। দেখা গেল, মস্তিষ্কে এত বেশি পানি জমেছে যে এই পানির চাপে মস্তিষ্ক পাতলা হয়ে গেছ এবং মাথার হাড়ের জোড়াগুলো সব ফাঁকা হয়ে গেছে।
যা হোক, অস্ত্রোপচার করা হলো। মাথা আর বাড়ছে না বরং একটু ছোটও হলো। কিন্তু মানসিক বা শারীরিক পরিবর্তন খুব একটা হলো না। কারণ, এক বছর ধরে মাথায় পানি বাড়তে বাড়তে তা মস্তিষ্কের ওপর চাপ দিয়েছে এবং এত মস্তিষ্ক পাতল হয়ে এর কার্যক্ষমতা লোপ পেয়েছে। অথচ এই অস্ত্রোপচার যদি এক মাস বয়সে করা হতো, তাহলে মাথায় ওই অতিরিক্ত পানি জমা হতো না এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা থাকত।
মস্তিষ্কের অতিরিক্ত পানি (হাইড্রোসেফালাস) কী?
হাইড্রো মানে পানি এবং সেফালাস হচ্ছে মস্তিষ্ক। একসাথে হয় মস্তিষ্ক অতিরিক্ত পানি। মাথার মধ্যে একটা ঝরনা আছে। এই ঝরনা থেকে সারাক্ষণ পানি বের হয়ে ভেনট্রিকেলে পড়ছে। এই পানি মস্তিক্ষের চারপাশে ঘুরে রক্তে মিশে যায়। কোন কারণে পানি যে পথে চলাচল করে, তা বাধাপ্রাপ্ত হলে পানি আর রক্তে যেতে পারে না। তখন সেখানে পানি জমতে থাকে এবং ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের ওপর চাপ দিতে থাকে, মাথা বড় হতে থাকে এবং হাড়েরর জোড়াগুলো ফাঁকা হতে থাকে।
কেন এই পানি চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি হয়?
গর্ভাবস্থায় মায়ের যদি জ্বর বা ইনফেকশন হয়, তবে শিুশু জন্মের সময়ই মস্তিষ্কে পানি বা হাইড্রোসেফালাস নিয়ে জন্মাতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জন্মের পরম মস্তিস্ক বা এর আবরণ প্রদাহ (এনকেফালাইটস বা মেনিন জাইটিসস) হলে পানি জমতে পারে। বিশেষ করে নবজাতকের প্রথম মাসে জ্বর হলে আমরা সব সময় মেনিনজাইটিস ধরে নিই। এই মেনিনজাইটিস রোগের মধ্যে ইনজেকশন দিয়ে ঠিক হলেও দু-এক সময় মস্তিষ্কের আবরণে কিছু লোদের মতো পর্দা রেখে যায়, যেটা পরে পানি চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করে, যেমনটি নাবিলের বেলায় হয়েছিলো।
আরও পড়ুনঃ শিশুদের নাভির হার্নিয়া বা কনজাইনেটাল হার্নিয়া
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
