ব্রেস্ট বাঁচিয়ে ক্যানসারের চিকিৎসা

ব্রেস্ট বাঁচিয়ে ক্যানসারের চিকিৎসা

আমাদের মধ্যে অনেকেই নানা কারণে সার্জারির মুখোমুখি হয়েছেন এবং হচ্ছেন। সার্জারি নিয়ে আমাদের মনে একটা ভয়ের জায়গা আজও আছে। সেই কারণে অনেকে অস্ত্রোপচার এড়িয়ে যান আবার কেউবা অহেতুক দেরি করেন অস্ত্রোপচারে। মূলত এর কারণ হল ভীত। একটা সফল অস্ত্রোপচারের জন্য করনীয় কী কী ? সেই নিয়েই এখানে আলোচনা।

বর্তমানে স্পেশালাইজেশনের যুগে জেনারেল সার্জারির গুরুত্ব কি কিছুটা কমছে ?

* কিছু কিছু কেত্রে সার্জারি নানা শাখা-প্রশখার মধ্যে আছে কোলোরাক্টাল এবং আপার জি.আই সার্জারি। সেই কারণেই এখানে জেনারেল সার্জারির গুরুত্ব কমেছে তো বটেই।

সার্জারির কোন কোন ক্ষেত্রে জেনারেল সার্জারি এখনও গুরুত্বপূর্ণ ?

* যেমন হার্নিয়া, যার দু’রকম ভাগ আছে। ইংগুইনাল এবং ইনসিসনাল হার্নিয়া। হাইড্রোসিল অপারেশন, স্ক্রোটামের ওপর সার্জারি জেনারেল সার্জারির আওতায় পড়ে।

সার্জারির আগে রোগীর রুটিন চেক-আপ এর গুরুত্ব কতটা ?

* সার্জারির আগে রোগীর রুটিন চেক-আপের গুরুত্ব অনেক। প্রপার ইনভেস্টিগেশন না করে পেশেন্টকে ওটিতে তোলা হয় না। প্রেসার, সুগার দেখতে হয়। ই.সি.জি মাস্ট। যারা ইনহেলার নেয় তাদের চেস্ট এক্স-রে পি.এফ.টি করাতে হয়। অনেক সময় ই.সি.জি রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে ইকোকার্ডিওগ্রাফি করাতে হয়।

রুটিন চেক-আপ উপেক্ষা করলে কী কী বিপদ আসতে পারে ?

* বর্তমানে এম.সি.আই নিয়মানুযায়ী একজন রোগীকে সার্জারির জন্য রুটিন চেক-আপ না করে ও.টি’তে আনা হয় না।

অপারেশনের আগে কি রোগীর মানসিক দিকটা দেখা হয় ?

খানিকটা মেন্টাল হেলথ বা মানসিক দিক তো অবশ্যই দেখা হয়।

ভীতু রোগীদের ক্ষেত্রে অপারেশনের সময় কী কী জটিলতা দেখা দেয় ?

* প্রপার কাউন্সেলিং দরকার হয় তাদের । পেশেন্টকে সার্জারির ব্যাপারে সব কিছু বলা হয় তাদেরকে ভয় থেকে মুক্ত করার জন্য। এবং তাদেরকে জানানো হয় যে কীভাবে অ্যানাস্থেশিয়া করা হবে। অ্যানাস্থেশিয়া সাধারণত তিন রকমের হয়- জেনারেল (জি.এ) লোকাল (এল.এ) এবং স্পাইনাল অ্যানাস্থেশিয়া (এস.এ)। কোন টাইপের অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হবে এবং সার্জারির মাধ্যমে রোগী কত তাড়াতাড়ি সেরে উঠবেন। এছাড়াও সার্জারির পরে পেশেন্টকে কখন খেতে দেওয়া হবে এবং তারপর কখন তাকে বেডে দেওয়া হবে, এসব বুঝিয়ে বললে রোগী অনেকটাই চাপমুক্ত হয়ে যায়।

অত্যাধিক মানসিক চাপ কি অপারেশনের সময় মৃত্যু ডেকে আনতে পারে ?

* না, তেমন সম্ভাবনা থাকে না। তবে হার্টের পেশেন্টদের নানারকম কমপ্লিকেশনস থাকে, যেমন প্রেসার, সুগার, আবার অনেকের সি.ও.পি.ডি. মানে ক্রনিক অ্যাজমা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতেই পারে।

অপারেশন থেকে সংক্রমণের ঘটনা কীভাবে ঘটে থাকে ?

অপারেমন থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে না। কারণ অপারেশনের পর সেই জায়গাটাকে ভালোভাবে স্টেরিলাইজড করা হয়। ইনফেকশন রেট হচ্ছে নাল অ্যান্ড ভয়েড। তবে অন্য রোগের কারণে ইনফেকশন হতে পারে। যেমন ডায়াবেটিক পেশেন্টদের ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ডায়বোটিসের জন্য , ওটির জন্য কোনো সংক্রমণ বা ইনফেকশন হয় না।

রোগীর অবহেলায় কীভাবে সফল অপারেশন ব্যর্থ হতে পারে ?

আমাদের এখানে অনেক রোগী আসেন যাদের সেলুলাইটিসের কারণে পায়ে ইনফেকশন হয়। কারণ তাদের সুগার থাকে। পা পুরো লাল হয়ে ফুলে ওঠে, অনেক সময় আঙুল কালো হয়ে যায়। যার কারণ হল আনকনট্রোলড সুগার এবং নিওরোপ্যাথি। যাদের লং স্ট্যান্ডিং ডায়াবেটিস থাকে তাদের সেনসেশন কমে যায় হাতে-পায়ে। তখন ইনফেকশন নিয়েই রোগী খুব বাজে অবস্থায় আমাদের কাছে আসেন। কারণ তাদের অনেকেই ঠিকমতো আমাদের নির্দেশ মেনে চলেন না। এমনকী তারা মারাও যেতে পারেন ইনফেকশন থেকে।

অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে, রোগীদের জন্য পরামর্শ ?

অস্ত্রোপাচারের পরে ড্রেসিং এবং কিছু বিষয় নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। জেনে নিতে হবে কতদিন বাদে ড্রেসিং খোলা হবে, সেলাই কাটা হবে, মলম লাগাতে পারবেন কি না, কতদিন বাদে গোসল করবেন ইত্যাদি।

ব্রেস্ট বাঁচিয়ে ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব কি ?

* ব্রেস্ট ক্যানসারের ক্ষেত্রে বর্তমানে ব্রেস্ট যতটা সম্ভব বাঁচিয়ে অপারেশন করা হয়। যাকে বলা হয় ব্রেস্ট কনজারভেশন সার্জারি। এর মাধ্যমে চেষ্টা করা হয় যাতে ব্রেস্টকে বাঁচানো যায়। কারণ ব্রেস্ট বাদ গেলে অনেক মহিলাই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি কি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্র ক্রমেই কমিয়ে দিচ্ছে ?

* হ্যাঁ, সার্জারি আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। যেমন গলস্টোন যদি পিত্তনালিতে চলে যায় তাহলে ই.আর.সি.পি-এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলানজিও প্যাংক্রিয়েটিওগ্রাফির মাধ্যমে স্টোনকে বার করে দেওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে ওপেন অপারেশন না করে ল্যাপারোস্কোপি দিয়ে গলব্লাডার বার হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ Bronchogenic carcinoma / ফুসফুসের ক্যান্সার।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*