বদহজমের চিকিৎসায় প্রাকৃতিক উপায়

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

পরিপাকতন্ত্রের দুর্বলতা কিংবা হজমক্রিয়ার কোনো রূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে অজীর্ণ বা বদহজম দেখা দেয়। বর্তমানে আমাদের দেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। বিশেষ করে শহরবাসীই বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার খাই, তা পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে হজমক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এর সারাংশ সারা শরীরের কোষকলায় পৌঁছে দেহকে পুষ্টি সাধন করে। দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বহাল রাখে, দেহযন্ত্রকে সুচারুরূপে চালু রাখে এবং দেহের অঙ্গপ্রতঙ্গকে ক্রমবিকাশে সাহায্য করে।

খাদ্য পরিপাকতন্ত্রের প্রথম পর্যায মুখে দেয়ার সাথে সাথেই কাজ শুরু হয়ে যায়। খাদ্যবস্তু দাঁতের সাহায্যে টুকরায় পরিণত হয় এবং মুখগহ্বরের লালাগ্রন্থি হতে লালা রস ক্ষরিত হয়ে খাদ্যবস্তুকে জারিত করে। অত:পর তা গলাধ:করণের উপযোগী হয়। বিশেষত ক্ষুধা লাগলে কিংবা কোনো খাদ্যবস্তু দেখলে স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়ে অধিক পরিমাণে লালা রস নি:সৃত হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার আলোকে জানতে পেরেছেন, ক্ষুধা লাগার ব্যাপারে আমাদের শরীরবৃত্তীয় কার্যাবলি দায়ী। বিশেষত শরীরে খাদ্যের চাহিদা দেখা দিলে মস্তিষ্কের হাইপো থ্যালামাস অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে খাদ্য গ্রহণের প্রতি আগ্রহ ও ক্ষুধা জাগে। মুসলিম মনীষি ইবনে সিনার জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আলকানুন- ফিততিব্ব’- এ সওদা তথা অম্লরসের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন, সওদার কিয়দংশ প্রয়োজনের সময় যখন পাকস্থলীর মুখভাগে গিয়ে পড়ে, তখনই ক্ষুধার উদ্রেক হয়ে খাদ্য গ্রহণের বাসনা জাগ্রত হয়।

অজীর্ণ বা বদহজমের কারণ

অপরিমিত তৈলাক্ত দ্রব্য, ঘি, মাখন, গোশত, ডিম, চা, কফি ও গুরুপাক খাদ্য অধিক পরিমাণে খাওয়া। পাচক রসের অভাব অভাব, পাকস্থলী ও যকৃতের ক্রিয়াশক্তির অভা, অতিরিক্ত মদপান, বেশি রাত্রি জাগরণে থাকা, অতিরিক্ত ঝাল, মসলাযুক্ত খাবার ও ধুমপান গ্রহণ, শরীরিক ও মানসিক পরিশ্রম বেশি করা, অস্বাস্থ্যকর স্যাঁতসেঁতে ঘরে বসবাস করা প্রভৃতি বদহজম করা প্রভৃতি কারণেল হদজ হয়ে থাকে।

অজীর্ণ বা বদহজমের লক্ষণ

পেট ফাঁপা, গলা ও বুক জ্বালা, কোষ্ঠবদ্ধতা, পেট ডাকা, পেট ভারবোধ, মুখে দুর্গন্ধ বা দুর্গন্ধযুক্ত ঢেঁকুর ওঠা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, পেটে অতিরিক্ত বায়ু হওয়া, মুখ দিয়ে থুথু ওঠা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। তাছাড়া, অজীণ বা বদজম দীর্ঘ দিন লেগে থাকলে দেহ- মনে অবস্বাভাবিক, শারীরিক দুর্বলতা, মাথাধরা, মাথাব্যথা, উদরাময় প্রভৃতি দেখা দিয়ে থাকে।

চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ

সঠিক কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা করলে অল্প দিনের মধ্যেই অর্জীণ বা বদজম সেরে যায়।

  • লঘু পাক দ্রব্য আহার করা বাঞ্চনীয়, তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার অনুচিত।
  • সরু চালের ভাত, সাগু, বার্লি, যবের মন্ড, তরকারির ঝোল, কাঁচকলা সিদ্ধ, করলা, পেঁপে, ঝিঙ্গা প্রভৃতি খাওয়া উপকারী।
  • আহারের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে, তাড়াতাড়ি করে আহার করবেন না।
  • অধিক রাত্রি জাগরণ ও মাদকদ্রব্য পরিহার করে চলতে হবে।
  • অতি ভোজন, বাসি খাবার, অতিরিক্ত চা, কফি, ঝাল, সফট ড্রিংক, ফাস্টফুড, ঘি, ক্ষীর, ছানা প্রভৃতি বর্জনীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four + five =