কিডনির নালীতে পাথর হলে

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 562
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    562
    Shares

কিডনির নালীতে পাথর হলে

কিডনি মানুষের শরীরের পিছন দিকে মেরুদন্ডের কাছে সীমার বিচির আকৃতির দু’টি অঙ্গ। কিডনির সাথে মূত্রথলির সংযোগকারী নালী রয়েছে যাকে ইউরেটার বা কিডনি নালী বলে। এই কিডনি নালী ২৫ সে:মি: এর মত লম্বা। এর তিনটি জায়গায় একটু পাচা রয়েছে। প্রথমটি হল কিডনির পেলভিসের সাথে ইউরেটারের সংযোগ স্থল, দ্বিতীয়টি যখন পেলভিক ব্রীজ ক্রস করে এবং তৃতীয়টি যখন মূত্রনালী প্রস্রাবের থলিতে প্রবেশ করে। কিডনি থেকে যখন পাথর কিডনি নালীতে নেমে আসে তখন এই জায়গাগুলোতে পাথর আটকানোর সম্ভবনা থাকে। এখানে উল্লেখ্য যে, মূত্রনালীর পাথর মূত্রনালীতে উৎপন্ন হয় না এটি কিডনিতে উৎপন্ন হয়ে কিডনি নালীর দিকে নেমে আসে। কিডনি নালীতে নেমে আসার সময় এটি কিডনি নালীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে কিডনির ভিতর প্রস্রাব জমে কিডনি আকারে বড় হতে পারে যাকে বলা হয় হাইড্রোনেফ্রোসিস।

দীর্ঘদিন এই অবস্থা বিরাজমান থাকলে কিডনি ধীরে ধীরে নষ্ট হতে পারে। কিডনির পাথর ইউরেটারে নেমে আসলে দেহের পিছনে বক্ষ খাঁচার নীচে তীব্র ব্যথা অনুভ’ত হতে পারে। এই ব্যথা ক্রমশ নীচের দিকে যেমন তলপেট বা উরুর দিকে অনুভ’তা হতে পারে। ব্যথা ক্রমশ তীব্র হতেত থাকে এবং আবার কমে আসে, এইভাবে পুনঃ পৌণিকভাবে ব্যথা চলতে থাকে।প্রস্রাব করার সময় ব্যথা হতে পারে। প্রস্রাব রক্তবর্ণ, ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে। কষনও কষনও কিছুক্ষণ পর পর প্রস্রাবের বেগ হতে পারে। যদি সংক্রমণ থাকে তবে বমি বমি ভাব, কাঁপুনি দিয়ে তীব্র জ্বর আসতে পারে। ইউরেটারে পাথরের অবস্থান পরিবর্তন হয়। কিডনি পাথরের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পারিবারিক ইতিহাস। পরিবারের একজনের পাথুরে রোগ হলে অন্যদের হবার সম্ভাবনা বেশি। বয়স্ক অর্থাৎ, যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি তাদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। তবে অল্প বয়স্কদের মধ্যেও এই রোগ দেখা যায়। মহিলাদের চেয়ে পুরুষরা এই রোগে আক্রান্ত বেশী হয়ে থাকেন।

যারা গরম আবহাওয়াতে বসবাস করেন এবং পানি কম খান তাদের পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এই পানি শূন্যতা কিডনিতে পাথর রোগের প্রকোপ বাড়ায়। কিছু কিছু খাদ্য দ্রব্য যেমন অতিরিক্ত প্রোটিন, চিনি ও লবণ কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। মোটা মানুষের ক্ষেত্রে এই পাথুরে রোগের প্রকোপ বেশী দেখা দেয়। কিছু কিছু রোগ যেমন গ্যাষ্ট্রিক, বাইপাস সার্জারী, ইনফ্লমেটরি বাউল ডিজিস, ক্রণিক ডায়রিয়া, হাইপার প্যারাথাইরয়েড, মূত্রনালীর সংক্রমণ ইত্যাদি কিডনি পাথর রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে মূত্রনালীতে পাথরের অবস্থান, আকার ও কি ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে তা বিবেচ্য। সাধারণত ৫ মি:মি: আয়তনের পাথর পানি বেশী খেলে নিজে নিজে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যেতে পারে। ৭ মি:মি: আয়তন পর্যন্ত পাথরের ক্ষেত্রে কিছু চিকিৎসা দিয়ে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি অর্থৎ ২ থেকে ২.৫ লিটার পানি পান করা উচিত।

যেসব খাদ্যে অক্সলেট বেশী

আছে যেমন বীট, মিষ্টি আলু, বাদাম, চা, চকলেট ইত্যাদি কম খাওয়া প্রয়োজন। যদি কিডনিতে পাথর পতে পারে এমন কোন রোগ শরীরে থাকে তার যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে যার এশবার কিডনি পাথর রোগ হয় তার বার বারই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরও পড়ুনঃ কিডনি ডায়ালাইসিস ও ফিস্টুলা।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

nineteen − 17 =