একটোপিক প্রেগনেন্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারন-একটি জরুরী অবস্থা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 71
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    71
    Shares

একটোপিক প্রেগনেন্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারন-একটি জরুরী অবস্থা

গর্ভধারনের সঠিক স্থান হচ্ছে জরায়ু। এর বাইরে যেকোনো স্থানে গর্ভধারন হলে তাকে একটোপিক প্রেগনেন্সি বলা হয়। সাধারনত এই প্রেগনেন্সি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডিম্বনালীতে হয়ে থাকে। এছাড়া অন্যান্য স্থান গুলো হলো ডিম্বাশয়, সারভিক্স বা পেটের ভিতরস্থ যেকোনো স্থান। প্রতি ১০০০ টি প্রেগনেন্সির মধ্যে ১১ জনের ক্ষেত্রে একটোপিক প্রেগনেন্সি হবার সম্ভাবনা থাকে।

কাদের হয়:
কারো কারো ক্ষেত্রে একটোপিক প্রেগনেন্সি হবার রিস্ক বেশি থাকে, যেমন—

  • যাদের  আগেই একবার একটোপিক প্রেগনেন্সি হয়েছে তাদের পুনরায় হবার সম্ভাবনা প্রায় ১০ গুন বেড়ে যায়।
  • কোন কারনে ডিম্বনালীর স্বাভাবিক এনাটমি ও গঠন নষ্ট হলে, যেমন পেলভিক ইনফেকশনের হিস্ট্রি থাকলে একটোপিক হবার চান্স অনেক গুন বেড়ে যায়।
  • জন্মগত ভাবে ডিম্বনালীর গঠনগত সমস্যা থাকলে।
  • ইন-ভিট্র ফার্টিলাইজেশন বা টেস্ট টিউব বেবি নেবার ক্ষেত্রে অথবা ডিম্বস্ফুটনের ঔষধ খেলে।
  • কপার-টি পরা অবস্থায় প্রেগনেন্সি হলে।

লক্ষন:
ডিম্বনালী রাপচার বা ফেটে যাবার আগ পর্যন্ত এই রোগের কোন লক্ষন থাকে না। টিউব ফেটে যাবার সময় কিছু লক্ষন প্রকাশ পায়। এ সময় রোগী হটাত করে প্রচন্ড পেটে ব্যাথা অনুভব করে,অনেকে জ্ঞান হারিয়েও ফেলতে পারেন।  পেটের ভিতর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে ব্লাড প্রেশার কমে যায়,পালস বেড়ে যায় ইত্যাদি। তবে এই লক্ষন গুলো দিয়ে  একটোপিক প্রেগনেন্সি নিশ্চিত হওয়া যায় না। গর্ভধারনের লক্ষন বোঝার আগেই অর্থাৎ পিরিয়ড মিস হবারআগেবা কিছুদিনের মধ্যে এ ধরনের ব্যাথায় আক্রান্ত হলে অনেকে ভুল করে একে এপেন্ডিসাইটিস বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা মনে করে থাকেন। যার কারনে দেখা যায় প্রথমে মেডিসিন বা সার্জারির ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। যা পরবর্তী পরীক্ষা -নিরীক্ষার মাধ্যমে  একটোপিক প্রেগনেন্সি নির্নয় হয়।

একটোপিক প্রেগনেন্সি নির্নয়ের জন্য রক্ত বা ইউরিনের প্রেগনেন্সি টেস্ট এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম-ই যথেষ্ট। তবে কিছুকিছু  ক্ষেত্রে একটপিক প্রেগনেন্সির অবস্থান খুঁজে বের করতে ল্যাপারোস্কপির সাহায্য নেয়া লাগে।

চিকিৎসা:
এর চিকিৎসা নির্ভর করে রোগী কোন পর্যায়ে আসল তার উপর। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে আলট্রাসাউন্ড করা হলে প্রাথমিক অবস্থায় একটোপিক প্রেগনেন্সির অস্তিত্ব ধরা পরতে পারে। এমনাবস্থায় সার্জারি ছাড়াই ওউষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো যায়। এক্ষেত্রে  টিউব ফেটে যাবার একটা রিস্ক থেকে যায়। তাই রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। অপরদিকে ডায়াগনোসিস এ দেরি হলে কিংবা টিউব ফেটে গেলে বা পেটের মধ্যে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে ঔষধে কাজ হবে না। রোগী কে দ্রুত রক্ত দেয়ার পাশাপাশি অপারেশন করার ব্যাবস্থা করতে হবে। অপারেশন পেট কেটে বা ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে- দুই ভাবেই করা যায়। এটা নির্ভর করে রোগীর অবস্থা, সার্জন এবং ল্যাপারোস্কপির সুবিধা আছে কিনা তার উপর। সঠিক সময়ে একটোপিক প্রেগনেন্সি নির্নয় করা না গেলে এবং চিকিৎসায় বিলম্ব হলে এটা মায়ের মৃত্যুর কারন ঘটাতে পারে। তাই গর্ভকালীন এই জরুরী অবস্থা সম্পর্কে সকলের সচেতন হওয়া উচিত।

ডাঃ নুসরাত জাহান, সহযোগী অধ্যাপক (অবস-গাইনী),
বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে ট্রেনিং প্রাপ্ত (ইন্ডিয়া), ল্যাপারোস্কপিক সার্জন।
চেম্বার: ডিপিআরসি হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব,
(১২/১, রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ-  +8801997702001, +8801997702002,
09666774411,  029101369, 0258154875

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four + eight =