অপনার অজান্তেই ক্যান্সারের সাথে বসবাস করছেন না তো?

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

মানুষকে যে রোগগুলো বেশি ভোগায়, তার মধ্যে ক্যান্সার সবচেয়ে ভীতিকর। ক্যান্সার শরীরে একবার বাসা বেঁধে ফেললে রোগীকে বাঁচিয়ে ফেরানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। ক্যান্সার হয়ে গেলে আরও অনেক রোগ চেপে বসে শরীরে। তখন রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা একেবারে দুঃসাধ্যই হয়ে যায়। তবে কেউ যদি প্রাথমিক পর্যায়েই এই মরণব্যাধি শনাক্ত করে ফেলতে পারে, তার বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানিই উজ্জ্বল থাকে।

আমাদের দেশে মুখ, কন্ঠ, গলনালি, খাদ্যনালি ও ফুসফুসের ক্যান্সার বেশি। এ জন্য মূলত দায়ী তামাকপাতা ও তামাকপাতায় তৈরী দ্রব্য সেবন ও ধুমপানের অভ্যাস। তামাকপাতা চিবানোর কারণে শুধু মুখের ক্যান্সারই এ দেশে 20 শতাংশ। পক্ষান্তরে যেসব দেশে এ কুঅভ্যাস নেই, সেখানে মুখের ক্যান্সারের 80 শতাংশেরও বেশি হয় ধুমপানের জন্য। অধুমপায়ীর তুলনায় ধুমপায়ীর মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার 20 গুণ বেশি। এটা 60 গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সেবন করা থেকে বিরত থাকলে বাংলাদেশে 40 শতাংশ ক্যান্সার কামানো সম্ভব। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ডায়াগনোসিসও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রাথমিক পর্যয়ে ক্যান্সার ডায়াগনোসিস করতে পারলেও অনেক রোগী সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

ক্যান্সারের লক্ষণ সমূহ:

  • অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড: আপনি যদি শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক কোনো মাংসপিণ্ড দেখতে পান অথবা মাংস জমাট হতে দেখেন কিংবা এ ধরনের পরিবর্তন বুঝতে পারেন, তবে এটা তেমন কিছুরই লক্ষণ, যা আপনার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত। এমনকি আপনার শরীরে কোনো পরিবর্তন স্বাভাবিক মনে হলেও পর্যবেক্ষণ করুন, এরপর অন্তত চিকিৎসককে জানান।
  • ঘন ঘন জ্বর: ক্যান্সার শরীরে জেঁকে বসলে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এতে ঘন ঘন জ্বর দেখা দেয়। দুর্ভাবনার ব্যাপার হলো, কিছু ক্যান্সারের শেষ পর্যায়েরই উপসর্গ ঘন ঘন জ্বর। তবে ব্ল্যাড ক্যান্সারসহ এ ধরনের কিছু ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়েই ঘন ঘন জ্বর দেখা দেয় শরীরে।
  • স্তন ক্যান্সার: স্তনের মধ্যে পিন্ড বা চাকা এবং স্তনের বোটায় নোনো ঘা বা সেখান থেকে রক্ত বা রক্ত মেশানো কিছু বের হওয়া, সাথে ব্যথাও থাকতে পারে।
  • ঘনঘন অপ্রত্যাশিত ব্যথা: অধিকাংশ ব্যথাই ক্যান্সারের লক্ষণ নয়, তবে ঘন ঘন ব্যথা হলে তা চিন্তার বিষয়৷ তবে ক্রমাগত মাথাব্যথা হলে আবার এটা ভাবার কারণ নেই যে, কারো বুঝি ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে। কিন্তু বুকে ক্রমাগত এবং নিয়মিত ব্যথা ফুসফুসের ক্যান্সার কিংবা তলপেটে ক্রমাগত ব্যথা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
  • অন্ত্র ও রেকটাম: পায়খানার অভ্যাসের পরিবর্তন। কখনো পাতলা বা কখনো শক্ত পায়খানা, পায়ুপথে রক্তপাত।
  • ফুসফুস: অনেক দিন ধরে কাশি, কাশির সাথে রক্ত যাওয়া, বুকে ব্যথা, স্বাস্থ্য ক্রমশ খারাপ হয়ে যাওয়া।
  • দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি: আপনি যদি দীর্ঘ সময় ধরে ক্লান্তিবোধ করেন অথবা অবসাদে ভোগেন তবে সেটা অনেক রোগের কারণই হতে পারে, হতে পারে ক্যান্সারও। মলাশয়ের ক্যান্সার বা রক্তে ক্যান্সার হলে সাধারণত এমন উপসর্গ দেখা যায়। তাই এরকম হলে দ্রুত পরামর্শ নিন চিকিৎসকের।
  • মুখ, গলা ও শ্বাসযন্ত্রের: অনেক দিন ধরে ঘা যা সারছে না। খাবার গিলতে কষ্ট, গলার স্বরের পরিবর্তন হওয়া ও ভাঙ্গা কণ্ঠস্বর।
  • ক্ষতস্থান: আপনার শরীরে কোনো ক্ষত যদি তিন সপ্তাহেও না শুকায়, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ থাকতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাই দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

  • ত্বকের: অনেক দিন ধরে ঘা যা সারছে না। আঁচিল বা তিলের আকৃতিতে পরিবর্তন এবং তা থেকে রক্তপাত ও ব্যথা।
  • টিউমার: শরীরের কোনো টিউমার হঠাৎ করে ব্যথা হতে শুরু করা বা আগের তুলনায় হঠাৎ করে বড় হওয়া।
  • অপ্রত্যাশিতভাবে ওজন কমা: অনেকেই ওজন কমানোর জন্য নানারকম চেষ্টা করেন। কিন্তু যদি কোনোরকম চেষ্টা ছাড়াই কারো ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে, তাহলে সেটা বিপদের লক্ষণ।
  • জরায়ু এবং জরায়ুমুখ: স্বাভাবিক মাসিকের মধ্যে রক্তপাত অথবা মাসিক বন্ধ হওয়ার পরবর্তী বয়সে বা যে কোনো সময় রক্তপাত বা অতিরিক্ত সাদা স্রাব।
  • বৃক্ক ও প্রসাবের থলি: ব্যথা ও প্রসাব করতে কষ্ট এবং প্রসাবের সাথে রক্ত যাওয়া।
  • পাকস্থলি: বদহজম, গিলতে কষ্ট এবং অতিরিক্ত বমি হওয়া।
  • অন্যান্য উপসর্গ:বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলোকে ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ মনে করা হয়। তবে এর বাইরেও অনেক লক্ষণ আছে ক্যান্সারের। এগুলোর মধ্যে আছে পা ফুলে যাওয়া, শরীরের আকারে বা অনুভূতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ইত্যাদি।

সবশেষ কথা হলো, ক্যান্সারের অনেক কারণ বোঝাও যায় না, এমনকি অন্য ক্যান্সারের চিকিৎসার পরবর্তী পরিণতি হিসেবে আরেক ক্যান্সার দেখা দেয়। তাই শরীরের যেকোনো অসুস্থতাকেই গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। বিশেষ করে বয়স ৩০-৪০ বছর পেরিয়ে গেলে অবশ্যই প্রতি অর্ধবছর বা প্রতিবছর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।

আশার কথা এই যে, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারলে বেশিরভাগ ক্যান্সারেরই চিকিৎসা সম্ভব। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, বলিউড অভিনেত্রী মনিষা কৈরালা বা ভারতের ক্রিকেটার যুবরাজ সিংরা কিন্তু ক্যান্সার জয় করে দাপটের সঙ্গেই ফিরেছেন স্ব স্ব অঙ্গনে।

দুঃখ করার চেয়ে নিজেকে সুস্থ রাখাই দরকার বেশি। তাই শরীরে কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে, বিশেষত উদ্বেগজনক কোনো উপসর্গ বোঝা গেলে, অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

মেডিকেলবিডি/আরএম/ ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

14 − 3 =