হজ্বের সময় ডায়াবেটিস এবং অন্য রোগীদের করণীয়

হজ্বের সময় ডায়াবেটিস এবং অন্য রোগীদের করণীয়

হজ্ব পালন করা সৌভাগ্যের বিষয়। আল্লাহ যাকে ডাক দেন, তিনিই হজে যেতে পারেন। কবুল হাজীরা শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। হজ্ব পালনের সময় শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা একান্ত প্রয়োজন। হজ্বের প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতা শ্রমসাধ্য ব্যাপার। পরিবর্তিত পরিস্থিতি জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ধর্মীয় আবেগ, অতিরিক্ত পরিশ্রম, আবহাওয়ার তারতম্য সব মিলে হাজীরা, বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে পারেন। পানিশূন্যতা, সর্দিজ্বর, কাশি, শরীর ব্যথা, ডায়ারিয়া ও সুগার কম-বেশি হতে পারে। পায়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণ রোগ সম্পর্কে (ডায়রিয়া, সর্দিজ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেটে গ্যাস, আমাশয় এবং নিরাময়ের জন্য ওষুধ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নিয়ে এবং অন্য রোগীরো তাদের ডাক্তারের সাথে রোগ সম্পর্কে আগে থেকে পরামর্শ করে প্রস্তুতি নিয়ে এই জটিলতা থেকে রেহাই পেতে পারেন।

রোগীদের হজ্বপূর্ব প্রস্তুতি:

  •  রমজানের আগে থেকে মুয়াল্লিম ও ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে হজ্বের প্রস্তুতি নিন।
  •  প্রতিদিন আধা ঘণ্টা হাঁটার অভ্যাস করুন।
  •  ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অন্যান্য রোগের চিকিৎসা নিন।
  •  বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সুগার ও ব্লাড পেসার কন্ট্রোলের ব্যাপারে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে হাতে-কলমে শিক্ষা নিন। হাইপোগ্লাইসোমিয়া এবং   সিকেডি ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে জেনে নিন।
  •  প্রয়োজনীয় ওষুধ, ইনসুলিন, সিরিঞ্জ, গ্লুকোমিটার, তুলা, ডিপস্টিক প্রভৃতি আলাদা প্লাস্টিকের খালি বাক্সে রাখুন।
  •  সব সময় প্রেসক্রিপশন সাথে রাখবেন, ফটোকপি অন্য ব্যাগে রাখবেন।
  •  গরম জায়গায় ইনসুলিন পানিতে রাখতে পারবেন অথবা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারবেন।

হজ্বের সময় রোগীদের করণীয়:

  •  সব সময় কিছু খাবার (যেমন- গ্লুকোজ, চিনি, বিস্কুট, খেজুর) সাথে রাখবেন।
  •  হাইপোগ্লাইসোমিয়া হলে কিভাবে চিকিৎসা করতে হবে তা সাথীদের শেখাবেন।
  •  পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি (জমজমের) খাবেন।
  •  যারা ইনসুলিন দু-তিনবার নিয়ে থাকেন, তারা ইহরামের আগই গ্লুকোমিটার দিয়ে গ্লুকোজ ও ডিপস্টিক দিয়ে প্রস্রাব কিটোন দেখে নিতে   পারেন।
  •  ইহরামের দিনগুলোতে প্রস্রাবের সুগার দেখে ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ওষুধ ঠিক করতে পারেন।
  •  তাওয়াফের আগে, সায়ির আগে, কঙ্কর নিক্ষেপের আগে, কোরবানি ও অপরাপর অতিরিক্ত পরিশ্রমের জায়গায় আগে কিছু খেয়ে নেয়া ভালো
  •  অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটির সময় পায়ের যত্ন নেবেন।
  •  জমজমের নরমাল পানি বেশি বেশি পান করবেন।
  •  যেকোনো জরুরি অবস্থায় হজ্ব মেডিক্যাল টিমের শরণাপন্ন হবেন।

আল্লাহ আমাদের হজ্ব কবুল করুন। আমিন।

আরও পড়ুনঃ সুস্বস্থ্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নিরাপদ পানি।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*