যে লক্ষণগুলো দেখলে বুঝবেন আপনার কিডনী অসুস্থ!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

আমাদের দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে কিডনী একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনি দেহের রেচন প্রক্রিয়াসহ সব ধরনের বর্জ্য পদার্থ নির্গমনের কাজ করে । তবে কিডনীর যেকোন সময় কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই কিডনী সম্পর্কে অন্তত কিছু হালকা ধারণা থাকা জরুরি সকলেরই। কারণ যদি কিডনির সমস্যা লক্ষণ সম্পর্কে আপনার কিছুটা ধারণা থাকে, তাহলে সমস্যা অল্প থাকতেই চিকিৎসার মাধ্যমে তা সমাধান করতে পারবেন।

যেসব উপসর্গ দেখলে বুঝবেন কিডনি অসুস্থ:

আপনার স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোন তথ্য জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথেই থাকুন

শ্বাসকষ্ট হওয়া

কিডনি যখন কাজ করা বন্ধ করতে শুরু করে, ঠিক তখনই শরীরের বর্জ্য পদার্থ রক্তে মিশতে শুরু করে। এই বর্জ্য পদার্থের বেশির ভাগই হচ্ছে অম্লীয় পদার্থ। তাই এই বর্জ্য যখন রক্তের সাথে ফুসফুসে পৌঁছায় তখন ফুসফুস সেই বর্জ্য বের করার জন্য কার্বনডাই অক্সাইড ব্যবহার করা শুরু করে। যার কারণে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ফুসফুসে ঢুকতে পারে না আর এর ফলেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে অনেকাংশে।

শরীরে ব্যথা অনুভব করা

একটি জেনেটিক কন্ডিশনের কারণে শরীরের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে কিডনি এবং লিভারে এক ধরনের ফ্লুইড ভর্তি সিস্ট বা গুটির সৃষ্টি হয়। এই সিস্টের মধ্যে থাকা ফ্লুইড এক ধরনের বিশেষ টক্সিন বহন করে, যা শরীরের শিরা বা ধমনী গুলোতে ক্ষতি করতে পারে। একাধিক শিরার বা ধমনীর ক্ষতি হলে তা শরীরে ব্যথা সৃষ্টি করে। এই ব্যথা সাধারণত ভোঁতা অনুভূতি, খোঁচা কিংবা জ্বলুনির মত হতে পারে।

মানসিক অস্থিরতা অনুভব অথবা চোখে ঝাপসা দেখা

কিডনির সমস্যা আপনার চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা মানসিক অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে। কারণ শরীরের বর্জ্য পদার্থের একটি বড় অংশ হচ্ছে ইউরিয়া। কিডনির সমস্যার কারণে ইউরিয়া শরীর থেকে বের না হয়ে বরং রক্তে মিশে যায়। এই দূষিত রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছে মানসিক অস্থিরতা, ঝাপসা দেখা এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে।

চুলকানির লক্ষণ

শরীরে সাধারণত প্রিউরিটাস দেখা দেয় তখনই যখন কিডনি অক্ষমতা প্রকাশ করে। শরীরের রক্তে যখন বর্জ্য পদার্থ মিশতে শুরু করে তখন চুলকানির উপসর্গ দেখা দেয় কারণ ওই বর্জ্যের মধ্যে ফসফরাস থাকে। ৫.

রক্তক্ষরণ অথবা মূত্রের রং এ পরিবর্তন

মূত্রের রং পরিবর্তন হয়ে যায় কিডনির সমস্যায় । কারণ, কিডনির অক্ষমতায় রেনাল টিউবিউলস এর ক্ষতি হয়, যা পলিইউরিয়ার সৃষ্টি করে। এর মানে হচ্ছে আপনার অধিক পরিমাণে মূত্র তৈরির কাজ করে। তবে কিডনির অক্ষমতা যত বৃদ্ধি পাবে, মূত্রের পরিমাণ ততই কমবে। এবং মূত্রের রং গাঢ় হলুদ কিংবা কমলা রং হয়ে যাবে।

দুর্বলতা অনুভব

কিডনি সমস্যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হচ্ছে দুর্বলতা। আর এই দুর্বলতা আসে রক্তশূন্যতা থেকে। কিডনি যদি ঠিকমত কাজ না করতে পারে তাহলে রক্ত ক্রমাগত দূষিত হতে থাকে। যার কারণে রক্তে নতুন করে ব্লাড সেল উৎপন্ন হয় না। এছাড়াও কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে তা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন এরিথ্রোপ্রোটিন উৎপন্ন করতে পারে না। এই হরমোন বোন ম্যারো থেকে ব্লাড সেল উৎপাদনে সাহায্য করে।

অরুচিভাব

কিডনির অক্ষমতায় শরীর বর্জ্য হিসেবে অ্যামোনিয়া ফিল্টার করতে পারে না। রক্তে অত্যধিক পরিমাণের অ্যামোনিয়া মুখে অরুচি, ওজন হারানোর মত সমস্যার সৃষ্টি করে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে সমস্যা হলে কোন ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। তাই কিডনির নিয়মিত চেক আপ উচিত।

One comment

  1. আপনার লেখাটি পড়ে আমি অনেক নতুন কিছু জানতে পেরেছি।
    এমন জন সচেতনতা মূলক লেখা খুব কমই পাওয়া যায় অনলাইনে।
    আপনার এমন লেখা চালিয়ে যাবেন এমনটাই কামনা করি।
    ভবিষ্যতে আরও ভালো ভালো লেখা চাই।
    ভালো থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eighteen + sixteen =