মল নির্গমণ নিয়মিত রাখার উপায় কি আঁশ?

মল নির্গমণ নিয়মিত রাখার উপায় কি আঁশ?

কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) এর সমস্যা হচ্ছে? অধিক আঁশযুক্ত খাবার এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে কিন্তু খাদ্যের লেবেলে কেবল ‘ডায়েটারি ফাইবার’ দেখলেই তো হবে না।

মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানের অধ্যাপক জোয়ান স্লাভিন বলেন, ১৯৮৫ সালে আমরা কিছু লোককে পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। তাদের খাবারে ৩০ গ্রাম আঁশ থাকত। দেখা গেছে, তরল খাবারের তুলনায় স্বাভাবিক, নিয়মিত খাবার খেলে তাদের মলের ওজন বৃদ্ধি পায়। কাজেই আমরা জানতে পারে যে, ফাইবার ছাড়াও অন্য খাবার মলের ওজনকে প্রভাবিক করে। আর সাধারণত মলের পরিমাণ বেশি হলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না।

শুকনো বড়ই কাজে লাগে এক্ষেত্রে। গবেষখ স্লাভিন বলেন, শুকনো বড়ই যে উপকারী এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। তবে এতে আছে সুগার এলকোহল। অন্যান্য কেমিকেলও থাকতে পারে এতে। সুগার এলকোহল সরবিটল বা ম্যানিটলের ন্যায় সহজে শোষিত হয় না। এগুলো কার্বোহাইড্রেট, এলকোহল নয়। সুগার এলকোহল সবকিছুকে গতিশীল রাখে। কারণ এতে রয়েছে আর্দ্রতা। এটি মলকে নরম রাখে।

গবেষক স্লাভিন বলেন, এগুলো যদি বেশি পরিমাণে খান, তাহলে বৃহদান্ত্রে প্রবেশ করার পর এগুলোকে ব্যাকটেরিয়ায় গাঁজলা উঠাবে। এতে গ্যাস ও ডায়ারিয়া হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ইনসুলিনের ব্যাপারে কী বলা যায়? গবেষখ স্লাভিন বলেন, আপনি যদি মলের ওজন বিবেচনা করেন, তাহলে দেখবেন ইনসুলিনের ভূমিকা এখানে খুবই কম। তাছাড়া ইনসুলিনও গাজায় এবং ফলে অন্ত্রে প্রচুর গ্যাস হয়।

তাহলে পায়খানা পরিষ্কার থাকার জন্য ইনসুলিন কি কোন কাজে লাগে না? গবেষক স্লাভিনের জবাব,‘গাজানোর ফলে অধিক ব্যাকটেরিয়া উৎপনন হয়। কাজেই ইনসুলিন মলকে নরম করে। তবে এ বিষয়ে অধিক সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই।’

তিনি বলেন, আঁশ নিয়ে আমি কাজ করছি ৪০ বছর ধরে। প্রথমে ভেবেছিলাম ৫ বছরের মধ্যেই আমরা কাজ শেষ করতে পারবো কিন্তু এতদিনেও টনকে টন অগ্রগতি সাধন করতে পারিনি এক্ষেত্রে। জরিপও বেশি হয় নি। বেশির ভাগই ক্ষুদ্র। ফলাফলও সমন্বিত নয়।

কী করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে এ প্রশ্নের উত্তরে গবেষক স্লাভেন বলেন, মলের পরিমাণ বাড়াতে চাইলে গমের ভূষি কিংবা সাইলিয়ামই সর্বোত্ত বস্তু। গমের ভূষিই সর্বোত্তম। এক গ্রামে ভূষি মানে ৪ থেকে ৫ গ্রাম মল।

সাইলিয়াম ও যথেষ্ট উপকারী। এটি একটি ভালো জোলাপও বটে। তবে তিনি মনে করেন, লোকদের পূর্ণ দানার খাবার খাওয়া ভালো। অনেকেই জোলাপ খেয়ে কার্যসিদ্ধি করেন। তবে তারা যদি ভূষির হালুয়ার সঙ্গে দুধ ও ব্লুবেরী মিশিয়ে খান, তাহলে ভালো উপকার পাবেন।

তিনি বলেন, হতে পারে বী জবা ত্বক। হতে পারে সুগার এলকোহল, দানার আঁশ, সীম, সবজি কিংবা অন্য কোন উদ্ভিজ্জ খাবার। এর যে কোনটা মলকে গতিশীল রাখতে অবশ্যই সাহায্য করছে।

শেষ কথা: লেবেলের গায়ের ‘ডায়েটরি ফাইবার’ এর উপর পুরোপুরি নির্ভর করবেন না। এর বদলে গমের ভূষি কিংবা সাইলিয়াম খেয়ে দেখুন, নয়তো শুকনো বড়ই খান।

আরও পড়ুনঃ পাইলস রোগীদের রমযান।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*