বিনা অপারেশনে পাইলস এর চিকিৎসা

বিনা অপারেশনে পাইলস এর চিকিৎসা

পাইলস হলে, বা পায়ুপথের কোন রোগ হলে অনেক রোগী সহজে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট যেতে চান না। কারন তারা মনে করেন ডাক্তারের কাছে গেলেই বুঝি অপারেশন করে দেবেন। আর একবার অপারেশন করলে জীবন শেষ, বার বার অপারেশন করতে হবে। পাইলস হলেই অপারেশন করতে হবে কথাটি সঠিক নয়।আর একবার করলে বার বার করতে হবে সেটি পুরোপুরি মিথ্যা।আজ অপারেশন ছাড়া পাইলসএর কি চিকিৎসাআছে তা দেখব-পাইলসকে কয়েক স্থরে ভাগ করাযায়।প্রাথমিক পর্য্যায়ের পাইলস এ শুধু রক্ত যায়। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে একটু একটু করে মাংশ পিন্ড বের হয় এবং চলে যায়,তৃতীয় পর্য্যায়ে মাংশপিন্ডটি যেতে চায় না, ঠেলে ঢুকিয়ে দিতে হয়, আর চতুর্থ পর্য্যায়ে সেটি সবসময় বাইরেই থাকে।

প্রথম দুই পর্য্যায়ে অর্থাৎ যখন শুধু মাত্র রক্ত যায় আর মাংশপিন্ড বের হয়ে চলে যায়, এই সমায়ে সাধারনত: অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে না।অপারেশন ছাড়া চিকিৎসার কয়েকটি পদ্ধতি আছে।এর মধ্যে রিং লাইগেশন সবচাইতে কার্যকর এবং জনপ্রিয়। এ ক্ষেত্রে পাইলস এর গুচ্ছ সূমহের গোড়ায় একটি আংটির মত রিং পড়িয়ে দেওয়া হয়। এই রিং পাইলস এর গুচ্ছ সূমহকে চেপে ধরে রাখে এতে এর রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক দিন পর পাইলসটি পড়ে যায়। এজন্য রোগীকে হাসপাতালে থাকতে হয় না।আর একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে ইনজেকশন স্কে¬রোথেরাপি। এই প্রকৃয়ায় পাইলস এর অভ্যন্তরে এক ধরনের ইনজেকশন দেওয়া হয়, ফলে পাইলসটি আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়। এটিও ব্যাথামুক্ত এবং এর জন্যও রোগীকে হাসপাতালে থাকতে হয়না। আরো কয়েকটি পদ্ধতি আছে , যেমন ইনফ্রারেড কোয়াগুলেশন,লেজার থেরাপি ইত্যাদি। কিন্তু এসবে ফলাফল তেমন সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলি জনপ্রিয় নয়।

অপারেশন ছাড়াই অধিকাংশ পাইলস এর চিকিৎসা সম্ভব, তবে তার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা।রোগীদের প্রাথমিক পর্য্যায়েই চিকিৎসকের নিকট আসতে হবে।কিন্তু আমাদের দেশে অধিকাংশ রোগীই চিকিৎসকের  নিকট আসেন অনেক দেরীতে, অনেক সময় ১৫/২০ বছর রোগে ভোগার পর। এ সব ক্ষেত্রে আসলেই অপারেশন ছাড়া আর কোন গত্যন্তর থাকে না। তাই বলাযেতে পারে চিকিৎসকের কাছে গেলেই অপারেশন করে দেবে একথাটা ঠিক নয়, বরং যথাসময়ে চিকিৎসকের নিকট না যাওয়ার কারনেই পাইলস এর অপারেশন করতে হয়। তাই সচেতন রোগীদের উচিৎ পায়ুপথের এইসব রোগের লক্ষন দেখা দিলে প্রথমেই একজন কোলোরেকটাল সার্জন এর শরনাপন্ন হওয়া। ভাল থাকার এটাই সেরা উপায়।

আরও পড়ুনঃ গ্যাস অম্বল থেকে খাদ্যনালীর ক্যানসার।

অধ্যাপক ডা: এসএমএ এরফান
বাংলাদেশের পাইয়োনিয়ার কোলোরেকটাল সার্জন
চেম্বার:জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হসপিটাল
৫৫,সাতমসজিদ রোড,জিগাতলা বাসষ্ট্যান্ড ধানমন্ডি, ঢাকা
মোবাইল: ০১৬২৬৫৫৫৫১১, ০১৮৬৫৫৫৫৫১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*