
পুরুষের বন্ধ্যাত্ব রোগে চিকিৎসা
যেসব পুরুষ বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভোগেন তাদের অন্তত অর্ধেক পুরুষের সমস্যাগুলো চিকিৎসা দ্বারা নিরাময় সম্ভব। সন্তানের জন্মে প্রতিবন্ধকতার জন্য নারী-পুরুষ দু’জনের সমান দায় থাকতে পারে। তবে নারীর বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণের বিষয়টি নিয়ে সবাই যেমনটা সোচ্চার ও সচেতন পুরুষের বন্ধ্যাত্ব নিয়ে ততটা নয়, কিন্তু বিষয়টি খুবই গুরুতর।
পুরুষের বন্ধ্যাত্বের পিছনে জীবনযাপন ও খাবার-দাবার অনেকাংশে দায়ী। কিছু পদক্ষেপ নিলে এটি প্রতিরোধ সম্ভব। যেমনঃ
১. এসিসটেড রিপ্রোডাকশান (প্রজননে সহায়তা)
২. ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা।
৩. অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা।
এসিসটেড রিপ্রোডাকশানঃ
এই চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে-
ক. পুরুষাঙ্গের সক্ষমতা উন্নয়ন
খ. বীর্যপাত ত্বরান্বিত করা
গ. ডিম্বাণুর সঙ্গে সংযোগ
এগুলো কয়েক ধরনের আছে। যেমনঃ
১. ইলেক্ট্রো ইজাকুলেশান : স্নায়বিক সমস্যা বা অন্যান্য কারণে যদি কোনও রোগীর বীর্যপাত না হয় তখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
২. শুক্রাণু বের করে আনা (মাইক্রো এপিডিডাইমাল স্পার্ম এসপিরেশান)ঃ যেসব সমস্যা থাকলে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ঃ
শুক্রাণু চলাচলের নালী/পথ বন্ধ, বংশগতভাবে ভাস ডিফারেন্স অনুপস্থিত, ভ্যাসেকটমির পর পুনঃ-সংযোগ অপারেশনে ব্যর্থতা, অপর্যাপ্ত শুক্রাণু সংখ্যা।
৩. শুক্রাণু ধৌতকরণঃ এই প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যবান শুক্রাণুগুলোকে পৃথক করে প্রয়োগের জন্যে তৈরি করা হয়।
৪. গ্যামেট (অনুবীজ) জরায়ু-নালীতে স্থাপন (GIFT)
ওষুধ প্রয়োগ যেমনঃ
– টেস্টোস্টেরন হরমোন ইনজেকশন
– ট্যামোক্সিফিন
– প্রজনন ক্ষমতা বিনষ্টকারী অণ্ডকোষ, প্রোস্টেট গ্রন্থি ও রেচনতন্ত্রের প্রদাহ এবং যৌন-বাহিত রোগসমূহ লিভোফ্লক্সাসিন ও ডক্সিসাইক্লিন নামক এন্টিবায়োটিক দ্বারা সফলতার সঙ্গে চিকিৎসা করা সম্ভব।
অপারেশনের মাধ্যমেঃ
– প্রজননতন্ত্রের নালী-পথ বন্ধ হওয়া ও ভেরিকোসিলের চিকিৎসা করা হয়।
– ভাস ডিফারেন্স ও এপিডিডাইমিসের মধ্যে সূক্ষ্ম সার্জারির মাধ্যমে সংযোগ ঘটিয়ে এপিডিডাইমিসের সূক্ষ্ম নালী-পথের বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হয়।
তাছাড়া প্রতিবন্ধকতা এড়াতে আপনি নিচের টিপস সমুহ মেনে চলতে পারেনঃ
নিয়মিত ঘুম ও শরীর চর্চা: গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম হলে শুক্রানুর পরিমাণ স্বাভাবিক থাকলেও তা গুণগতভাবে দুর্বল হয়। তাই নিয়মিত ঘুম ও শরীরচর্চার অভ্যাস থাকতে হবে। ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে।
ধূমপান বন্ধ: ২০টি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণা পর্যবেক্ষণ করে ২০১৬ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায় ধূমপান শুক্রানুর পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
চাপ থেকে দূরে থাকুন: যে কোনো ধরনের মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্নতা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং যতটুকু সম্ভব চাপ থেকে দূরে থাকতে হবে। এজন্য শরীরচর্চা করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা অনুসরণ করুন। প্রয়োজনে চাপ কমাতে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হতে পারেন।
ত্যাগ করতে হবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও মাদকগ্রহণের অভ্যাস: গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালকোহল, মারিজুয়ানা এবং কোকেন শুক্রানুর উৎপাদন কমিয়ে দেয়। সুতরাং এসব থেকে দূরে থাকতে হবে। এগুলো একেবারে বন্ধ করে দিলে শুক্রানুর উৎপাদন স্বাভাবিক হবে।
কথা কথায় ওষুধ নয়: কিছু মেডিসিনও পুরুষের বন্ধ্যাত্বকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই সচেতনভাবে ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। বন্ধ্যাত্ব গুরুতর পর্যায়ে চলে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
