প্রতি দিন কমপক্ষে তিনবার পাতলা বা তরল মলত্যাগ হলে ডায়রিয়া বা উদরাময় বিবেচনা করা হয় । এটা প্রায়শ কয়েক দিন স্থায়ী হয় এবং এর ফলস্বরূপ তরল বেরিয়ে যাওয়ার কারণে জলশূন্যতা হতে পারে। এটা আরো তীব্র হয়ে ওঠার সাথে সাথে অগ্রসর হয়ে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে আসে, ত্বকের রঙ ফ্যাকাসে, হৃৎস্পন্দনের দ্রুত হার, এবং সাড়া দেওয়ার সামর্থ্যের হার হ্রাস হতে পারে। তবে যে সমস্ত শিশুকে স্তন্যপান করানো হয়, তাদের পায়খানা জলের মত হওয়া সাভাবিক।
সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল কোনো ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া, পরজীবী, অথবা গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস নামে পরিচিত একটি রোগের কারণে অন্ত্রের একটি সংক্রমণ। এই সংক্রমণগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মল দ্বারা দূষিত খাবার বা জল থেকে হয় অথবা সংক্রামিত অন্য কোনো ব্যক্তির থেকে সরাসরি হয়। এটিকে তিন প্রকারে ভাগ করা যেতে পারে: স্বল্প স্থায়িত্বের জলের মত উদরাময়, স্বল্প স্থায়িত্বের রক্তাক্ত উদরাময়, এবং এটা যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী উদরাময়। স্বল্প স্থায়িত্বের জলের মত উদরাময় কলেরা সংক্রমণের কারণে হতে পারে। যদি রক্ত থাকে, তাহলে এটাকে রক্ত-আমাশাও বলা হয়। সংক্রামক নয় এমন অনেকগুলো কারণেও উদরাময় হতে পারে, যার অন্তর্ভুক্ত হল: হাইপারথাইরয়েডিজম, ল্যাক্টোজ সহ্য করার অক্ষমতা, অন্ত্রের প্রদাহজনক রোগ (Intestinal Inflammation), কিছু ওষুধ, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBD) এবং আরো কিছু। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে জানার জন্য স্টুল কালচার (Stool Culture) বা মল পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।
নিচে ১০টি পয়েন্ট দ্বারা ডায়রিয়ার বর্ণনাঃ
১. ডায়রিয়া হলো শরীরের এমন একটি অবস্থা যেখানে ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হয়ে থাকে।
২. ডায়রিয়াতে পাতলা পায়খানার সাথে রক্ত ও মিউকাস দেখা যায়।
৩. ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে জ্বর (Fever) সাধারণত কম হতে পারে।
৪. ডায়রিয়া দেহের ছোট অন্ত্রকে (Small Intestine) সাধারণত আক্রমন করে থাকে।
৫. ডায়রিয়ায় ইনফেকশন অন্ত্রের উপরের স্থানে এপিথেলিয়াল অংশে হয়ে থাকে।
৬. ডায়রিয়াতে কোন প্রকার দৈহিক কোষ মারা যায় না কিন্তু ইনফেকশন হবার ফলে কিছু টক্সিন (Toxin) নিষ্কাষন হয়।
৭. সাধারণত এন্টি মাইক্রোবিয়াল (Anti-Microbial) থেরাপির মাধ্যমে ডায়রিয়া সেরে যায়।
৮. ডায়রিয়াতে ডিহাইড্রেশন (Dehydration) ছাড়া তেমন কোন শারীরিক লক্ষণ দেখা যায় না।
৯. সাধারণত ডায়রিয়া ভাইরাস (Virus) ধারা সংগঠিত হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে (Bacteria- E.Coli) দ্বারাও হয়ে থাকে।
১০. চিকিৎসা : এন্টি মাইক্রোবিয়ালের (Anti-Microbial) প্রয়োজন পড়ে না, এমনেতেই সেরে যায়।
ওরাল হাইড্রেশন ও ফ্লুইড ব্যবহার করে ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রন করা হয়। যেমন : খাবার স্যালাইন (ORS), ইন্ট্রাভাসকুলার (IV) স্যালাইন ইত্যাদি।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

