আলট্রাসনোগ্রাফি কি, কখন করা হয়?

আলট্রাসনোগ্রাফি কি, কখন করা হয়?

মানুষের শ্রবণসীমার বাইরের কম্পাংকের শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে শরীরের ভেতরের ছবি নেয়ার পদ্ধতি হচ্ছে আলট্রাসনোগ্রাফি। সাধারণত ২ থেকে ১৮ মেগাহার্জ কম্পাংকের শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয় আলট্রাসনোগ্রাফিতে। এখন পর্যন্ত আলট্রাসনোগ্রাফিকে একটি নিরাপদ পরীক্ষা বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ এক্স-রে এর মত কোন ক্ষতিকর প্রভাব নেই।

কখন করা হয়

ব্যথা, ফোলা, সংক্রামণ, প্রস্রাবে রক্ত নির্গত হওয়া, গর্ভাবস্থায় ভ্রুণ বা শিশুর অবস্থা পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রাম করা হতে পারে। বায়োপসির জন্য গাইড হিসেবেও আলট্রাসনোগ্রাফির সাহায্য নেয়া হয়। ডপলার আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে রক্তনালীতে ব্লক, সংকোচন, টিউমার বা অন্য কোন সমস্যা থাকলে সেটাও চিহ্নিত করা যায়।

প্রস্তুতি

আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক পরে পরীক্ষার জন্য যাওয়া ভালো। কিছু পরীক্ষার  ১২ ঘন্টা আগে থেকে খেতে বারণ করা হয়। আবার কিছু পরীক্ষার দু’ঘন্টা আগে পর্যাপ্ত পানি পান করে মূত্রথলি পূর্ণ রাখতে বলা হতে পারে। সাধারণত পরীক্ষার স্থান থেকে পোশাক এবং অলংকার অপসারণের প্রয়োজন হয়।

প্রক্রিয়া

রোগীর শরীরের যে অংশে আলট্রাসনোগ্রাম করা হবে সেখানে এক ধরনের জেল লাগানো হয়। একটি ট্রান্সডিউসার একই সাথে শব্দ তরঙ্গ তৈরি করে এবং প্রতিফলিত হয়ে আসা শব্দ গ্রহণ করে। প্রতিধ্বনিত শব্দতরঙ্গ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকার ও দূরত্ব নির্ণয় করা যায়। একটি মনিটরে ছবি প্রদর্শিত হয় এবং প্রয়োজনে প্রিন্ট নেয়া হয়।

৩ডি ও ৪ডি

আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক ছবি নেয়া হলে সেটাকে ৩ডি বলা হয়। আর গতিশীল ছবি অর্থাৎ চতুর্থ মাত্রা হিসেবে সময় থাকলে সেটা ৪ডি আলট্রাসনোগ্রাফি।

ডপলার আলট্রাসাউন্ড

শব্দ তরঙ্গের ডপলার ইফেক্ট ব্যবহার করে রক্তপ্রবাহের দিক এবং গতি নির্ণয় করার পদ্ধতি হচ্ছে ডপলার আলট্রা সাউন্ড। একই ট্রান্সডিউসার ব্যবহারের মাধ্যমে এটি করা হয়।

গর্ভাবস্থায় কখন এবং কতবার আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করতে হবে?

গর্ভধারণ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা হয় আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে। পূর্ববর্তী মাসিকের সাড়ে চার সপ্তাহের মধ্যে গর্ভাশয়ের থলে এবং পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভাশয়ের থলের মধ্যে আরেকটি ক্ষুদ্র থলে (ইয়ক স্যাক) দেখে শনাক্ত করা যায় গর্ভধারণ হয়েছে কি না। আর সাড়ে পাঁচ সপ্তাহ পর ভ্রূণ দেখা যায়। গর্ভাবস্থায় আলট্রাসনোগ্রাফি বা অতিশব্দ পরীক্ষা করার কোনো নির্ধারিত সময়সূচি নেই। কোনো সমস্যা বা সন্দেহ থাকলে পরীক্ষাটা করতে হবে। গর্ভধারণ করার সাত সপ্তাহ পর আলট্রাসনোগ্রাফি করলে গর্ভস্থ শিশুকে দেখা যায় এবং হৃৎপিণ্ডের চলাচল বোঝা যায়। ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে নাকের হাড় এবং ঘাড়ের পেছনের দিকের পানিপূর্ণ থলে দেখা হয়, যার মাধ্যমে মানসিক ও শারীরিক ত্রুটিযুক্ত শিশু প্রসবের আশঙ্কা থাকলে তা বোঝা যায়। ১৮ থেকে ২০ সপ্তাহের দিকে ভ্রূণের গঠনগত ত্রুটিগুলো ভালোবোঝা যায়। ৩২ সপ্তাহের সময় সাধারণত ভ্রূণের বৃদ্ধি, ওজন,বাহ্যিক অবস্থা দেখা হয়।

আগে করা সনোগ্রাফিগুলোতে কোনো ত্রুটি সন্দেহ করলে এ পর্যায়ে তা মিলিয়েদেখা হয়। ২৪ সপ্তাহের পর গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়। তবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিশেষকারণ ছাড়া লিঙ্গ উল্লেখ না করাই ভালো। বিশ্বের অনেক দেশেই গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ উল্লেখ না করার বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এক্স-রে, সিটিস্ক্যান ইত্যাদি পরীক্ষায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রশ্মি ব্যবহার করা হয়, যাশরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু আলট্রাসনোগ্রাফিতে অতিশব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। এই তরঙ্গের উল্লেখ করার মতো ক্ষতিকর দিক এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এটাও বলে রাখা ভালো যে সনোগ্রাফির মাধ্যমে তথ্য পাওয়ায় ক্ষেত্রে একটা ভালো যন্ত্র থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনিভাবে যিনি পরীক্ষাটি করছেন তাঁর দক্ষতাও রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলে গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন আলট্রাসনোগ্রাফি করা ঠিক নয়। নির্দিষ্ট কারণে বা কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলেই চিকিৎসকেরপরামর্শ নিয়ে পরীক্ষাটি করানো উচিত।

সীমাবদ্ধতা

বায়ুর উপস্থিতি আলট্রাসনোগ্রাফিতে বাধা দেয়। এ কারণে সবক্ষেত্রে আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় সম্ভব হয় না। এক্স-রে করতে হয়। হাড়ের ভেতরের চিত্র নেবার জন্য এমআরআই করতে হয়।

আরও পড়ুনঃ শরীরের যেসব স্থানের ব্যথা ভুলেও অবহেলা করবেন না!

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*