হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ জলবাহিত রোগ। এরা ভাইরাসের সংক্রমণে হয়। ভাইরাসগুলো সাধারণত সেল্ফ লিমিটিং। দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতার সাথে লড়াই করে এক সময়ে ভাইরাস মরে যায়। রোগ সাধারণত ক্রনিক হয় না। অর্থাৎ লিভারে ভাইরাস থেকে যায় না এবং তাই প্রাণ সংশয়েরও ভয় থাকে না। এই রোগের পিছনে অপরিশোধিত জল, রাস্তার কাটা ফল, স্যালাড, রঙিন সরবত ভূমিকা থাকে। যাদের মাধ্যমে জলবাহিত হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ হতে দেখা যায়। হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ এর সংক্রমণ হয় রক্তের মাধ্যমে। সংক্রামিত ব্যক্তির ব্যবহার করা সিরিঞ্জ, নিডল, সেভিং ব্লেড যদি কোনও সুস্থ মানুষ ব্যবহার করেন কিংবা আক্রান্ত মানুষের সাথে অসুরক্ষিতভাবে যৌণ সংসর্গ করেন তাহলে ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির দেহরস অন্য সুস্থ মানুষের ত্বকের ক্ষতের সংস্পর্শে আসে বা আক্রান্ত মানষের দেহের রক্ত যদি রোগাক্রান্ত মানুষ নেয়, তবে সেই ব্যক্তির হতে পারে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’-এর সংক্রমন।
অস্বাস্থ্যকরভাবে দেহে ট্যাটু করালে কিংবা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির টুথ ব্রাশ ব্যবহার করলেও এই রোগ হতে পারে।
যারা ড্রাগের নেশা করেন তারা যদি অনেকে মিলে একই নিডল ব্যবহা করেন তাহলেও কংক্রমণ ঘটতে পারে। একাধিক মানুষের সাথে যৌন সংসর্গ থেকে কিংবা নিয়মিত যাদের শরীরে রক্ত দিতে হয় তাদের এই রোগটি হবার খুবই সম্ভাবনা থাকে।
লিভারের সবচেয়ে বড় রোগ হচ্ছে জন্ডিস বা হেপাটাইটিস । আমাদের শরীরে যখন লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায় , রক্তে তৈরি হয় বিলিরুবিন। বিলিরুবিনের রঙ হচ্ছে হলুদ। এই বিলিরুবিন বিপাকীয় কাজে অংশ নেয়। অতিরিক্ত বিলিরুবিন পায়খানার সাথে নির্গত হয়ে যায়। কোনো কারণে লিভারের বিপাকায় কাজ ব্যাঘাত ঘটলে রক্তে বিলিরুবিনে পরিমাণ বেড়ে গিয়ে সেটা ছড়িয়ে যায়। এই অস্বাভাবিক ব্যাপারটাই হল হেপাটাইটিস বা জন্ডিস। বারবার হেপাটাইটিস-বি-এর আক্রমণে হেপাটাইটিস-ডি হতে পারে। আলাদাভাবে হেপাটাইটিস-ডি আক্রমণ করে না। এটা পরজীবী ভাইরাস।
হেপাটাইটিস-বি ও সি থেকে অ্যাকিউট লিভার ড্যামেজ হতে পারে। ক্রনিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। হেপাটাইটিস বি ও সি-এর চিকিৎসার পর আপাতদৃষ্টিতে কমে গেছে মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে আসলে এটি দেহের ভিতরে থেকে যায়। পরবর্তীকালে ক্রনিক হেপাটাইটিস রূপে দেখা যায়। মায়ের থেকে বাচ্চার শরীরে যদি অ্যাকিউট হেপাটাইটিস বি-এর সংক্রমণ ঘটে তাহলে দেখা গেছে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে লিভারের ক্ষতি করে। যদি কেউ অ্যাকিউট হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, সেক্ষেত্রে সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না এবং লিভারের কতটা ক্ষতি হবেএই সবকিছু নির্ভর করে বয়সের ওপর।
চিকিৎসা
কারণ অনুযায়ী আলাদা আলাদা চিকিৎসা করা হয়। ক্রনিক ভাইরাল চিকিৎসায় অনেক ধরনের ওষুধ ও ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হয়। যদিও চিকিৎসা খরচ অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। সাধারণত শিশুর জন্মের পর হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন দিয়ে দেওয়া হয়। যদি কোনো কারণে বাচ্চাকে ভ্যাকসিন না দেওয়া হয় তবে যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন নিয়ে নেওয়া উচিত।
বাকি অংশ পড়ুন পরবর্তী পর্বে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

