হৃদপিন্ডের জন্মতগত ত্রুটি চিকিৎসা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

হৃদপিন্ডের জন্মতগত ত্রুটি চিকিৎসা

হৃদপিন্ডের জন্মতগত ত্রুটি চিকিৎসা:

যদিও বেশির ভাগ শিশুর চিকিৎসা লাগে না, তবে অনেকেরই বিশেষ চিকিৎসা লাগে। ডাক্তারের হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটি catheter পদ্ধতি বা সার্জারির দিয়ে মেরামত করেন। জটিল হৃদরোগ চিকিৎসায়, যখন কয়েক রকম ত্রুটি থাকতে পারে ডাক্তারা catheter ও সার্জারি দুই পদ্ধতিরই মিশ্রণ ঘটান।

আপনার শিশুটি কী চিকিৎসা পাবে নির্ভর করে তার ত্রুটির ধরণ ও জটিলতার ওপরে। আরো কিছু বিষয় যেমন: বয়স, আকার, স্বাস্থ্যর অবস্থা। কিছু শিশু যাদের হৃদপিন্ডের জটিল জন্মগত ত্রুটি আছে, তাদের সার্জারি লাগতে পারে বা কয়েক বছর ধরে ওষুধ নেয়া লাগতে পারে।

Catheter পদ্ধতি: 

Catheter – এর ব্যবহার গত ২০ বছরে অনেক বেড়ে গেছে। সাধারণ হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটি যেমন- ASD | Pulmonary valve stenosis এর চিকিৎসায় এটাই এখন অধিকার গ্রহনীয় পদ্ধতি।

Chetheter -কে পথ দেখানোর জন্য ডাক্তারা echocardiography, trans-esophageal echo I coronary angiograph এর সাহায্য নেন। সার্জারি: যদি Catheter পদ্ধতি দিয়ে ত্রুটি ঠিক না করা যায়, শিশুর ওপেন হার্ট সার্জারি লাগতে পারে। কখনো একটি সার্জারি দিয়ে পুরোপুরি ত্রুটি সারানো যায়। এটা সম্ভব না হলে শিশুটির আরো কিছু সার্জারি লাগতে পারে। মাস বা বছরব্যাপী সমস্যা ঠিক করার জন্য। হৃদরোগ সার্জনরা ওপেন হার্ট সার্জারি করে-

১. হার্টের ভাল্বগুলো মেরামত বা বদল করে দিতে পারেন।
২. হার্টের ভাল্বের শিরা বা শিরাগুলো চওড়া করে দিতে পারেন।
৩. জটিল ত্রুটিগুলো ঠিক করে দিতে পারেন। যেমন- রক্তের নালীর হার্টের কাছে অবস্থানগত বা গঠনগত সমস্যা। কিছু কিছু শিশুর একাধিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়, যা মেরামত করা অতিরিক্ত জটিল। এই শিশুদের হার্ট Transplant লাগতে পারে। এই পদ্ধতিতে শিশুটির হার্ট একটি মৃত শিশুর স্বাভাবিক হার্ট দিয়ে বদলানো হয়। হার্টটি মৃত শিশুর পরিবারকে দান করা যেতে পারে।

হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জীবনযাপন:

যে শিশুদের হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটি আছে, তাদের নিয়ে বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি অতীতের তুলনায় বর্তমানে অনেক উন্নত হয়েছে। পরীক্ষা ও চিকিৎসার উন্নত হয়েছে। পরীক্ষা ও চিকিৎসায় উন্নতির ফলে এরা প্রায় সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবং সুস্থ, স্বাভাবিক, সফল জীবনের অধিকারী হতে পারে। এসব শিশুর অনেকেরই কেবল মাঝে মাঝে কিছু চেকআপ লাগে। শিশুদের যাদের জটিল জন্মগত হৃদযন্ত্রের ত্রুটি আছে তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেজ্ঞদের অধীনে দীর্ঘমেয়াদী যত্ন লাগে। যার ফলে তারা দীর্ঘ সময় সুস্থ থেকে জীবনের উচ্চ মাত্রা maintain করতে পারে।

কিশোর ও বয়ঃসন্ধিকাল

নিয়মিত মেডিক্যাল যত্ন আপনার শিশুটির জন্য খুবই জরুরি। এর মধ্যে-
১. আপনার শিশুর হৃদরোগ বিশেজ্ঞদের সাথে পরামর্শ অনুযায়ী চেকআপ।
২. নিয়মিত পরীক্ষার জন্য আপনার শিশুর শিশুরো বিশেষজ্ঞ বা পারিবারিক ডাক্তারকে দেখানো।
৩. পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন।

মেডিক্যাল বা ডেন্টাল পদ্ধতি যেমন- সার্জারি বা দাঁত পরিষ্কারের আগে শিশুকে ডাক্তার বা দন্ডচিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন যেন জীবানু রক্ত-স্রোতে না ঢুকতে পারে। ঝুঁকি কমানোর জন্য কোমলভাবে আপনার শিশুর দাঁত মেঝে নিন।

খাদ্য ও পুষ্টি:

কিছু কিছু শিশু-কিশোর যাদের হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটি আছে, যারা অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে না। শিশুর হৃদস্পন্দন গতি ত্রুটির বেশি হয়, তাহলে খাদ্য গ্রহণের সময় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। ফলে আপনার শিশু যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ না ও করতে পারে। কম খাদ্য গ্রহনের ফলে আপনার শিশু অন্য শিশুদের চেয়ে ছোট, শীর্ণ হতে পারে। তাদের development যেমন- গড়ানো, বসা, হাটা প্রভৃতি অন্য শিশুদের চেয়ে দেরিতে করতে পারে। চিকিৎসা ও সার্জারির পরে, ক্রমবৃদ্ধি growth and development সাধারণত উন্নত হয়। সে ক্ষেত্রে শিশু যেন যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি যুক্ত খাবার পায় তা নিশ্চিত করুন। যেন শিশু সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে।

শারিরীক পরিশ্রম:

শিশুকে শারিরীক পরিশ্রম করালে তাদের মাংপেশি সবল হবে, সুস্থ থাকবে। তবে শিশুর ডাক্তার থেকে জেনে নিতে হবে কী ধরণের ও কতটুকু পরিশ্রম আপনার শিশুর জন্য সঠিক।

মানসিক সমস্যা: 

যেসব শিশু ও কিশোরের জটিল শারিরীক অসুস্থতা আছে, খুব বেশি সময় হাসপাতালে থাকতে হয়- তাদের কিছু মানসিক সমস্যা থাকতে পারে। যেমন- তারা নিজেদের একাকী, অসহায় ভাবতে পারে। আপনার শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
হার্টে জন্মগত ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকতে হলে?

১. মহিলাদের বেশি বয়সে সন্তান ধারণ করা যাবে না।
২. নিকটআত্নিও যেমন- আপনার খালাতো, মামাতো, চাচাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে এড়িয়ে যেতে হবে।
৩. গর্ভবতী অবস্থায় ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৪. গর্ভবতী অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা নেয়া যাবে না।
৫. রুবেলা ইনফেকশনে শিশুর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর টিকা রয়েছে। তাই প্রত্যেক মাকে এ টিকা নিতে হবে।
৬. সন্তান ধারণের আগেই সিফিলিস গনোরিয়া, এইডস ইত্যাদি আছে কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
৭. আগে অ্যাবরশন বা বারবার সন্তান নষ্ট হওয়ার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানাতে হবে।

বাংলাদেশের চিকিৎসা সুবিধা:

গত এক দশকে শিশুদের জন্মগত হৃদযন্ত্রের ত্রুটির চিকিৎসায় বৈপ্লবিক উন্নতি সাধিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে Heart Transplant ছাড়া প্রায় সব রোগের চিকিৎসা সম্ভব।

ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য (বুক কেটে অপারেশন) নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানগুলো সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

১. জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউড, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
২. ঢাকা শিশু হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
৩. ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টার, শাহবাগ-ঢাকা
৪. ইবনে সিনা কার্ডিয়াক সেন্টার,রোড-২৬ ধানমন্ডি, ঢাকা।

ডিভাইস ক্লোজার:

বুক না কেটে হার্টের ছিদ্র বন্ধ করা ও চিকন নালী মোটা করার জন্য নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠান সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

১. জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউড শেরে বাংলা নগর, ঢাকা
২. হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, দারুস সালাম মিরপুর ঢাকা।
৩. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা।
৪. কেন্দ্রীয় মিলিটারী হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকা।
৫. ইবনে সিনা কার্ডিয়াক সেন্টার, রোড- ২৬ ধানমন্ডি, ঢাকা।

আরও পরুণঃ হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটি শনাক্তকরণ।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × 3 =