সাবধান! ওষুধের অপব্যবহার হতে পারে হৃদরোগ!

সাবধান! ওষুধের অপব্যবহার হতে পারে হৃদরোগ!

হার্টের অসুখ থেকে শুরুকরে হাঁপানি, ডায়াবেটিস, ডিসলিপিডিয়া- এমন হাজারো রোগে বহু চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে সাপ্লিমেন্টারি মেডিসিন হিসেবে উল্লেখ থাকে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই, বিটা-ক্যারোটিন ইত্যাদিতে সমৃদ্ধ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। লক্ষ্য, শরীরে ঘুরে বেড়ানো ক্ষতিকারক “ফ্রি র্যানডিক্যালস” কে দমন করা!  কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে উল্টো কথা!

গবেষণায় বলা হয়েছে, বেশি মাত্রায় দীর্ঘ দিন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট খাওয়ার অর্থ বাড়তি বিপদ ডেকে আনা। কারণ, তখন এই ওষুধ প্রো-অক্সিডেন্টের ভূমিকা পালন করে ফ্রি র্যা ডিক্যালস এর রমরমায় পরোক্ষে সাহায্যই করে।

শুধু অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টই নয়, ক্রনিক বহু অসুখে ব্যবহৃত অনেক ওষুধই দীর্ঘ ব্যবহারে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে। সেই তালিকায় চিকিৎসকরা সবার উপরে রাখছেন এনএসএআইডি (নন-স্টেরয়ডিয়াল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ) বা চলতি কথায়, পেনকিলার। অস্ট্রিয়ো-আর্থ্রাইটিস, রিউম্যাটয়েড আথ্রাইটিস থেকে শুরু করে যে সব অসুকে ব্যথা যন্ত্রণা নিত্যসঙ্গী, সেই সব রোগের চিকিৎসায় দেদার পেন-কিলারের ব্যবহার লম্বা সময়ে রাগীর হৃদযন্ত্রের প্রভূত ক্ষতি করে। পরিসংখ্যান বলছে, বিভিন্ন এনএসএআইডি-র হাই ডোজে লংটার্মড ব্যবহার ৩২-৫০% ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক ডেকে আনে।

ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধও হার্টের সমস্যা ডেকে আনতে পারে? গ্লিটাজোন (পায়োগ্লিটাজোন, রোসিগ্লিটাজোন), গ্লিপটিন (লিনোগ্লিপটিন), সালফোনিলইউরিয়া (গ্লিবেনক্ল্যামাইড) ইত্যাদি ওষুধের ক্ষেত্রেও কার্ডিয়াক পাশ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে। সোডিায়াম রিটেনশন বেড়ে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ মাথাচাড়া দেওয়া থেকে শুরু করে অ্যাথেরোসেক্লরোসিস (হৃদপেশি মোটা হয়ে যাওয়া), এমনকি হার্ট ফেলিয়োরের মতো নজির রয়েছে এই সব ওষুধগুলির ক্ষেত্রে। বেশ কয়েকটি হার্ট অ্যাটাকের অঘটন ঘটে যাওয়ার পর রোসিগ্লিটাজোন ওষুধটি নিষিদ্ধ পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে সারা পৃথিবীতে।

গ্যাস-অম্বলের ওষুধ হিসেবে জনপ্রিয় প্যান্টোপ্রাজোল দীর্ঘদিন ধরে নিত্য খেয়ে গেলেও অন্যদের চেয়ে হার্ট ফেলিয়োরের আশঙ্কা বাড়ে বলে জানাচ্ছেন ফার্মাকোলজির বিশেষজ্ঞরা। তারা জানাচ্ছেন, ক্রনিক যন্ত্রণা কিংবা শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় দীর্ঘ দিন স্টেরয়েড ব্যবহারেও একই ক্ষতি হতে পারে। ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃদ নানা কোমোথেরাপির ওষুধেও। শুধু ওষুধেই যে ক্ষতি হয়, এমন নয়। জীবনচর্যার পদে পদেও লুকিয়ে রয়েছে এমন নানা শঙ্কা। সেই তালিকার প্রথমেই রয়েছে সিডেন্টারি লাইফ স্টাইল।

অর্থাৎ, কায়িক পরিশ্রম না করে শুয়ে বসে দিন কাটিয়ে দেয়ার অভ্যাস। এই অভ্যাসের জেরে মেদ আর ওজন বাড়ে যার জেরে ডায়াবেটিস আর ডিসলিপিডিয়ার সমস্যা আচমকা হানা দিতে পারে শরীরে। রেড মিট খাওয়ার অভ্যাস এবং শাকসবজি ও ফলমূল না খাওয়ার অভ্যাস নিশ্চিত ভাবেই করোনারি হার্ট ডিজিজ ডেকে আনে অসময়ে।

তবে যৌনতার সঙ্গে মধুর সম্পর্ক রয়েছে হার্টের। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সুস্থ যৌন জীবন হৃদযন্ত্রের পক্ষে ভালো। স্বতস্ফূর্ত ও নিয়মিত যৌন সংসর্গ পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে সকলের হার্টকে সুস্থ রাখে। সেক্সোলজিস্টদের বক্তব্য লিঙ্গশৈথিল্য বা ইরেকটাইল ডিসফাংশন হার্ট অ্যাটাকের জন্য “অ্যাডভান্সড অ্যালার্ম” হিসেবে কাজ করে! কেন না, পুরুষাঙ্গের ক্যাভারনোজার মধ্যে থাকা ধমনী-শিরা-উপশিরা জালিকাগুলিই শরীরের সবচেয়ে সূক্ষতম রক্তবাহিকা।

আরও পড়ুনঃ বক্ষব্যাধি চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*