শিশুদের জন্মগত ভাষা সমস্যা (পর্ব – ২)

ভাষাবৈকল্য

ভাষাবৈকল্য (Language disorder)

ভাষাবৈকল্য হচ্ছে, ভাষা অনুবাধন ও ব্যবহার। বিশেষ করে বাচনিক ও অবাচনিক এ সংক্রান্ত প্রতীকী চিহ্নগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিকারগ্রস্ত একটি বিশেষ অবস্থা। শিশুর ভাষাবৈকল্য সাধারণত তার মস্তিষ্কের কোনো না কোনো অসম্পূর্ণতা বা ক্ষতির কারণে হয়ে থাকে। তবে শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি বা প্রদাহ যদি তার স্বাভাবিক ভাষা বিকাশের পরে হয় এবং এ কারণে ভাষা সমস্যা দেখা দেয়, তখন এ ধরনের ভাষাবৈকল্যকে অর্জিত ভাষাবৈকল্য (Acquired language disorder) বলা হয়। আর মস্তিষ্কের অসম্পূর্ণতা বা অদ্রশ্য ক্ষতি যদি শিশু তার জন্মের সময় নিয়ে আসে এবং তার ফলে শিশুর ভাষা সমস্যা দেখা যায়, তখন তাকে বর্ধনমূলক ভাষাবৈকল্য (Developmental language disorder) বলা হয়।
ওপরে উল্লেখিত মাত্রা দু’টি ভাষা সমস্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধরে নেয়া হয়। নিন্মে কারণগুলোকে বিষয়ভিত্তিক আকরে সাজিয়ে প্রকাশ করা হলো-

 

বংশগত বা জন্মকালীন কারণ
বংশগত বৈকল্য

  •  বাবা-মা থেকে প্রাপ্ত জটিলতা
  •  অপরিপক্ব জন্ম
  • চিকিৎসাবিজ্ঞানগত কারণ-
  •  শ্রবণ সমস্যা
  •  গেলার ক্ষেত্রে সমস্যা
  •  ক্লেপ্ট পেলেট
  •  অটিজম বর্ণালী বৈকল্য
  •  দীর্ঘকালীন শারীরিক সমস্যা
  •  সিসাজনিত বিষ সংক্রমণ

 

পারিবারিক/পরিবেশগত কারণ-

  •  শ্রবণ-বাচন বা ভাসা সমস্যার পারিবারিক ঐতিহ্য।
  •  পিতা-মাতার শ্রবণগত বা জ্ঞানমূলক সীমাবদ্ধতা।
  •  পালক পিতা-মাতা কর্তৃক অবহেলিত শিশু।
  • পরিবারের ভুল চিকিৎসার ইতিহাস।

উপরিউক্ত কোনো কারণে যদি শিশু ভাষা সমস্যায় আক্রান্ত হয়, তাহলে আক্রান্ত শিশু এমন কিছু উপসর্গ প্রদর্শন করে, যা দেখে শিশুটি যে ভাষা সমস্যাগ্রস্ত, তা সহজেই শনাক্ত করা যায়। আপনার শিশুটি ভাষা সমস্যায় আক্রান্ত কি না, তা প্রধান কিছু উপসর্গ দিয়ে সহজেই শনাক্ত করতে পারবেন।

 

নিন্মে উপসর্গগুলো লিপিবদ্ধ করা হলো-

  • মানসিক ও আবেগগত বহিঃপ্রকাশের সমস্যা। (Behavioral problem )
  • সরাসরি বক্তার দিকে মুখ তুলে চোখে চোখে (Eye contact) না তাকানো ।
  •  ভাষা অনুধাবনের ক্ষেত্রে (Reception of language/contact) তাৎপর্যপূর্ণ ঘাটতি।
  •  শিশুর আয়ত্তকৃত শব্দের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বিশেষ করে ‘যাই’ ‘করি’ ‘খাই’ ইত্যাদি পরিচিত ক্রিয়াপদ ছাড়া বৈচিত্রময় ক্রিয়াপদের সংখ্যা নেই বললেই চলে।
  •  সংলাপ(Conversation) চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা।
  •  সমবয়সীদের সাথে অন্তরঙ্গ (Peer relationship) হতে সমস্যা।
  •  কিছু স্বরের পুনঃপুন অনুকরণ (Imitative Babble)
  • প্রতীকী খেলা (Symbolic play) খেলতে অসামর্থ্য।

 

একটি স্বাভাবিক শিশুর চার পাঁচ বছরের মধ্যে মৌলিক ভাষা সমন্বয় ভিত্তি (Basic language development) গঠিত হয়ে যায়, তবে আয়ত্তকরণ শব্দাবলির প্রক্রিয়াটি পূর্ণবয়ষ্ক হওয়র পরও চলতে থাকে। কেননা আমরা ওই সময়কালে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক জ্ঞানগত ধারণা ও বিষয়ের সাথে পরিচিত হই, যেগুলো ক্রমাগত আমাদের শব্দসম্ভারকে (Mental Lexicon) সমৃদ্ধ করতে থাকে। তবে মনে রাখতে হবে, যদি কোনো শিশু চার-পাঁচ বছরের মধ্যে দৈনিক ৫-১০টি শব্দ দিয়ে পরিবেশ (Situation) ও প্রতিবেশ (Context) অনুযায়ী মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারে, তাহলে তা আশঙ্কাজনক বা উদ্বেগজনক লক্ষণ হিসেবে ধরে নেয়া হয়। যখন শিশুদের মধ্যে উপরোক্ত বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হবে, তখন দেরি না করে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

 

বাকি অংশঃ-শিশুদের জন্মগত ভাষা সমস্যা (পর্ব – ১)

 

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*