শিশুদের চুল পড়া নিয়ে কিছু প্রশ্নোত্তর

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 99
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    99
    Shares

শিশুদের চুল পড়া

প্রশ্ন: শিশুদের চুল পড়ার কি কারণ থাকতে পারে ?

উত্তর : এক্ষেত্রে প্রথমেই দেখতে হবে শিশুটির শারীরিক কোন বড় ধরনের অসুখ আছে কিনা। যেমন-থাইরয়েড গ্লান্ডের সমস্যা আছে কিনা, অপুষ্টি ও ভিটামিনের অভাবের শিকার কিনা, বয়স অনুযায়ী পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে কিনা। তাছাড়া ভালো করে অনুসন্ধান করা দরকার যে, শিশুটি পরিবারে কিংবা স্কুলে কোন মানসিক চাপের শিকার কিনা। যার কারণে চুল পড়তে পারে।

প্রশ্ন : রক্তে থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলে বা কমে গেলে কি চুল পড়তে পারে ?

উত্তর : আসলে থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে গেলে যেমন চুল পড়তে পারে,তেমনি পরিমাণ কমে গেলেও চুল পড়তে পারে। হরমোনের পরিমাণ কমে গেলে যে শুধু চুল পড়ে তা নয়, সেই সাথে চুল হয়ে ওঠে শুষ্ক, রুক্ষ, অনুজ্জ্বল ও ভঙ্গুর। চুলে তৈলাক্ত পদার্থ সিরাম নিঃসরণ কমে যাওয়ার ফলেই এমনটি হয়।

প্রশ্ন: দেখা যায় অনেকেই চুলের বৃদ্ধি এবং চুলপাড়া রোধের জন্য মাথায় বিভিন্ন খাবার পদার্থ মেখে থাকেন। এর বাস্তবতা কতটুকু ?

উত্তর : আসলে দই, ডিম, সর, ডাল ইত্যাদি খাবার জিনিস মাথায় মাখা খাবারের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এগুলো ব্যবহারে চুলের উজ্জ্বলতা চুলের পুষ্টি কিন্তু বাড়ে না। কারণ চুলের পুষ্টি আসে দেহের পুষ্টি থেকে। চুল দেহের ত্বকেরই অংশ বিশেষ।

প্রশ্ন : একজন সুস্থ লোকের জন্য দৈনিক কি পরিমাণ চুলপড়া স্বাভাবিক ?

উত্তর : চুল সবারই প্রতিদিন কিছু না কিছু পড়ে থাকে। দৈনিক ৩০টা থেকে ১০০ টা পর্যন্ত চুল এমনি এমনি পড়ে যেতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। এটা কোন রোগ বা সমস্যার জন্য হয় না।

প্রশ্ন : চুলের ডগা ফাঁটা কেন ? করনীয় কি ?

উত্তর : প্রতিটি চুলের অভ্যন্তরস্থ কোষের লেয়ার বা স্তর যদি আলাদা আলাদা হয়ে যায় তাহলে এ রকম হতে পারে। তাই এর তেমন কোন প্রতিকার নেই। তবে চুলের ডগা ছেটে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে কন্ডিশনার ব্যবহারে কিছুটা সুফল পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন : হেয়ার টনিক ব্যবহারের উপকারিতা কতটুকু ?

উত্তর : আসলে হেয়ার টনিক কথাটিকে সত্য নয়। এটি এক ধরনের কন্ডিশনার, সাথে হেনা, অ্যালোভেরা, মধু, ডিম ইত্যাদি মেশানো থাকে। এগুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখা দেয়া চুল বা ত্বক বিশেষঙ্গের পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রশ্ন : টিউবওয়েলের পানিতে গোসল করলে কি চুলের ক্ষতি হয় ?

উত্তর : টিউবওয়েলের পানিতে অতিরিক্ত আয়রণ থাকে। এই আয়রণ চুলে আঠার সৃষ্টি করে। ফলে চুল জট পাকিয়ে যায় । তাই ফিল্টার করা পানিতে চুল ধোয়া উচিত।

প্রশ্ন : চুলে ব্লিচ করা কি ভালো ?

উত্তর : যদিও আজকাল অনেকেই চুলে ব্লিচ করে, তবে ব্লিচ করা ঠিক নয়। ব্লিচে যে কেমিক্যাল থাকে তা চুলের ক্ষতি করে। চুলের স্বাভাবিকত্ব নষ্ট করে দেয়। তাই যতটা পারা যায় কম করা ভালো।

প্রশ্ন : অতিরিক্ত রোদে থাকা কি চুলের জন্য ক্ষতিকর ?

উত্তর : প্রখর সূর্যরশ্মি চুলের ক্ষতি করে। সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রে বা অতি বেগুনি রশ্মি চুলকে শুকিয়ে দেয় ফলে চুল ভেঙ্গে যায়।

প্রশ্ন : চুলে হেয়ার স্প্রে ব্যবহার কতটুকু ভালো বা ক্ষতিকর ।

উত্তর : বেশি হেয়ার স্প্রে কখনই উচিত নয় কারণ এতে চুলের ক্ষতি হয়। তবে হালকাভাবে করা যেতে পারে। সপ্তাহে একদিনের বেশি নয়।

প্রশ্ন : বেশি চুল হওয়ার জন্য কি শিশুদের ন্যাড়া করা উচিত ?

উত্তর : জ্বি না, পূর্ণবয়ষ্কদের চুলের জন্য যে যত্ন নেয়া উচিত শিশুদের ক্ষেত্রেও সেই একই যত্ন নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন : রাতে কি চুল বেঁধে শোয়া উচিত ?

উত্তর : শোবার আগে চুল আলগা করে বেঁধে রাখা ভালো। চুল প্রসঙ্গে বলতে হয় সব সময় বেঁধে রাখা বা সব সময় খুলে রাখা উচিত নয়।

প্রশ্ন : চুল কত রকমের হয় ?

উত্তর : চুলের আড়াআড়িভাবে কর্তিত অংশ বা ক্রস-সেকশন অনুযায়ী এটা নির্ধারিত হয়ে থাকে। ক্রস-সেকশনে চুল সোজা, গোলাকার, কোকড়া বা ফিতার মত হতে পারে। সেই অনুযায়ী আমাদের দেশের মানুষের চুলের আকার সোজা, ইউরোপিয়ানদের কারো কারো চুল ঢেউ খেলানো, কারো কোকড়ানো আর নিগ্রোদের খুব বেশি কোকড়ানো থাকে।

আরও পড়ুনঃ অত্যধিক ফলের রস শিশুর জন্য ক্ষতিকর।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

9 + eighteen =