মলত্যাগের ব্যাথা-এনাল ফিসার থেকে প্রতিকার

মলত্যাগের ব্যাথা-এনাল ফিসার

এনাল ফিসার -মলত্যাগের ব্যাথা

রওশন সাহেব অফিসে এসেই খুব সমস্যায় পরেছেন। এই সমস্যার কথা তিনি না কাউকে বলতে পারছেন না সহ্য করতে পারছেন। সেটি হচ্ছে তার পায়ুপথের ব্যাথা। বেশ কিছিুদিন ধরে তার কোষ্ট কাঠিন্য  হলেই মলত্যাগের পর তার পায়ুপথে তীব্র ব্যাথা শুরু হয়,আর এই ব্যাথা থাকে সারাদিন। এর সাথে যায় মলে রক্ত। এতে তিনি না কাজে মনোযোগ দিতে পারেন, না পারেন ঠিকমত বসতে। অথচ বিষিয়িটি এমন যে কারও সাথে আলোচনাও করা যায়না। আর এভাবে রওশন সাহেবের রোগ আরও বাড়তে থাকে।

 

রওশন সাহেব পায়ুপথের যে সমস্যা হয়েছে এর নাম হচ্ছে এনাল ফিসার, সহজ বাংলায় গেজ। এই এনাল ফিসার কি? খুব সহজ বাংলায় এনাল ফিসার হচ্ছে পায়ুপথ ছিরে যাওয়া, কোষ্ট অস্বাভাবিক কঠিন হলে, তাড়াহুরা করে টয়লেট করতে গেলে, কিংবা টয়লেটের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে পায়ুপথ ছিড়ে যাওয়ার পর ব্যাথা হয়। এই ব্যাথা কারও তীব্র কারও হালকা হয়। এই ব্যাথা পিনের খোঁচার মত, ব্লেড দিয়ে কাঁটার মত হয়। এর সাথে মলের সাথে রক্ত। আবার কারও  পায়ুপথে জ্বালা করতে থাকে। কখনও কখনও চুক্লানি হয় মনে হয় ক্রিমি হয়েছে। এই ব্যাথার জন্যে রোগী টয়লেট করতে ভয় পান। ফলে কোষ্ট আরও বেড়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে টয়লেট করতে গেলে আবার তীব্র ব্যাথা, রক্তপাত হয়। চক্রাকারে এই সমস্যা  চলতে থাকে। পায়ুপথ যখন যখন একবার ছিঁড়ে যায় তখন ঔষদ দিলে বা মল নরম থাকলে ক্রমান্বয়ে তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু সেই ঠিক হয়ে যাওয়ার কারণেই পায়ুপথ বেশ সঙ্কুচিত হয়ে যায়, তখন মলত্যাগের সময় তেমন আর ব্যাথা করেনা, কিন্তু কোষ্টকাঠিন্য অনেক বেড়ে যায়, অনেকক্ষণ টয়লেটে বসে থাকতে হয় আর কোষ্ট পরিষ্কার এর জন্যে; অনেক বেশী চাপ প্রয়োগ করতে হয়।

 

এই ‘টয়লেট বিড়ম্বনার’ কারনে অনেকের চাকরীতে পর্যন্ত সমস্যার তৈরী হয়। বিয়ে বাড়ীতে দাওয়াত ইত্যাদি এড়ানোর চেষ্টা করেন। এই রোগের সম্মানিত রোগীদের এই বলে আস্বাস্থ করতে চাই যে, এই রোগ নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটি শরীরের অন্য একটি সাধারণ রোগের মতই একটি রোগ। আমাদের যেমন জ্বর সর্দি হতে পারে তেমনি পায়ুপথের রোগ ও হতে পারে।

 

এনাল ফিসার রোগের চমৎকার চিকিৎসা আছে এবং সেই চিকিৎসা নিয়ে সারাজীবনে সুস্থ থাকা যায়। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু স্থানিক ঔষধ বা মলম জাতীয় ঔষদ দিয়ে এই রোগ ভঅল করা যায়।

 

আর রোগ যদি অগ্রসর হয়ে যায় বা পুরোনো হয়ে যায় তাহলে একটি অপারেশন করতে হয়। এখানে অপারেশন শুনে ভয় পাবার কিছু নেই। বর্তমানে এই অপারেশন এত সহজ হয়ে গেছে যে রোগী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাসায় ফিরে যান। স্বাভাবিক কাজ-কর্ম করেন  ্এবং একদম স্বাভাবিক ভাল টায়লেট করেন।

তাই যথাসময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ থাকা সকল রোগীর জন্যে জরুরী। কারণ কে না জানে “সময়ের এক ফোড় আর অসময়ের দশ ফোড়” ? ধন্যবাদ।

 

 

অধ্যাপক ডাঃএসএমএ এরফান 

বাংলাদেশের পাইয়োনিয়ার কোলোরেক্টাল সার্জন

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*