
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর উদ্যোগে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে থেরাপি ও পুনর্বাসন শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা চালু হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও এদেশে ফিজিওথেরাপি ও অন্যান্য পূনর্বাসন পেশাজীবীগণ স্নাতকডিগ্রী প্রাপ্ত হয়েও পেশাগত নিবন্ধন, স্বতন্ত্র চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় এবং সরকারীভাবে চিকিৎসা পেশাজীবী হিসেবে পদায়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। পেশাগত স্বীকৃতির জন্য কাউন্সিল বাস্তবায়নের জন্য অসংখ্য প্রচেষ্টা করা হয়েছে- যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের এখতিয়ারাধীন বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলে নিবন্ধনের আবেদন।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ০৯/০৪/২০১৩ ইং তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের ৩৮ তম সভার কার্য বিবরনীতে ৭ম আলোচ্য সূচির সিদ্ধান্তের থেরাপি এবং পূনর্বাসন পেশায় স্নাতক ডিগ্রীধারীগন কে পেশাগত নিয়ন্ত্রন বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানানো হয় এবং এই সকল পেশাজীবীগণের জন্য আলাদা কাউন্সিল গঠনের পক্ষে মত দেয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালে অটিজম ও স্নায়ুবিকাশ সম্পর্কিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর
চেয়ারপার্সন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অটিজম বিষয়ক শুভেচ্ছা দূত জনাব সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এর দিক নির্দেশনায় থেরাপি ও পূনর্বাসন সেবার নামে সাধারণ মানুষকে অপচিকিৎসার হাত থেকে রক্ষা করতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১৪/০৩/২০১৬ ইং তারিখে অটিজম ও স্নায়ুবিকাশ সম্পর্কিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির ১৩ তম সভায় ৪নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী থেরাপি ও পূনর্বাসন পেশাজীবীগণের জন্য কাউন্সিল আইন প্রতিষ্ঠাকল্পে খসড়া প্রনয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় বিভিন্ন ধাপে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণানালয়, এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর সম্মিলিত প্রয়াসে আইনটির খসড়া প্রণয়নে সরকারের বিদ্যমান “আন্ত:মন্ত্রনালয়ের এলোকেশন অব রুল অব বিজনেস অনুযায়ী সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের উপর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী যে কোন সময়ের চেয়ে এ দুইবছর সর্বস্তরের পূনর্বাসন পেশাজীবীগন সরকারের প্রতি আস্থাশীল হয়ে এই কাউন্সিল বাস্তবায়নের প্রতীক্ষা করছে।
সরকারের এই সাফল্য যাত্রাকে ম্লান করতে এবং দেশকে বিভ্রান্ত করতে স্টেক হোল্ডার নয় এমন কিছু সংগঠন তথা বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভ্রান্তিমূলক, অসত্য ও অযাচিত তথ্য ছড়াচ্ছে। গত ১৮/ ০২/ ২০১৮ ইং তারিখে দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্ট অনুযায়ী সংগঠনটি সংবাদ সম্মেলন করে এই আইনবাস্তবায়ন প্রকৃয়া রহিত করার দাবী জানান এবং পেশাজীবীদের অবনমন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে এলাইড হেলথ কাউন্সিল গঠন করার দাবী জানান। সংগঠনটির নেতারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কে ব্যবহার করে প্রভাবশালী মহল কে নিয়ে সরকারীভাবে পদায়িত হয়েও সরকারের মহতী উদ্যোগকে বাধা গ্রস্থ করছে।
শুধু তাই নয়, অকস্মাৎ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ২০১৮ সালের ২৪ মার্চ প্রহসন মূলক গেজেটের মাধ্যমে পুর্বতন গেজেটকতৃক স্বীকৃত ফিজিওথেরাপিষ্ট দের যোগ্যতা গ্রাজুয়েশন থেকে এইচএসসি তে নামিয়ে আনা ফিজিওথেরা পিচিকিৎসা পেশাকে ধংসের ষড়যন্ত্র বলেই প্রতীয়মান। অথচ, ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত পূনর্বাসন পেশাজীবীগণের ১ম আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অটিজম ও স্নায়ু বিকাশ সম্পর্কিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর চেয়ারপার্সন জনাব সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন প্রণয়নে সরকারকে অনুরোধ জ্ঞাপন করেনএবং স্বাস্থ্যখাতে চিকিৎসা পেশাজীবীগণের সমপর্যায়ে মর্যাদা প্রদান ও পদায়নের আহবান জানান। তাঁর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোঃ নাসিম সরকারের বর্তমান মেয়াদে এবং চলতি অধিবেশনেই এই আইনটি পাশ করানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন।
এমতাবস্থায় বাংলাদেশের সকল থেরাপি ও পূনর্বাসন পেশাজীবীগণ ১২ মে ২০১৮, শনিবার, জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিতশান্তিপূর্ণ মানববন্ধন আহবান করেছে। মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) এর প্রতিষ্ঠাকালীন উপদেষ্টাবীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ আলতাফ হোসেন সরকার, বি পি এ সভাপতি ডাঃ নাসিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন এবং বিপিএইসি সদস্যগণ সহ এক হাজার ফিজিওথেরাপিষ্ট, অকুপেশনাল থেরাপিষ্ট, স্পীচ এন্ড ল্যাক্সগুয়েজ থেরাপিষ্ট, সাইকোলজিষ্টসহ শিক্ষার্থী ও চিকিৎসা সেবা গ্রহীতা অংশ নিয়েছেন।এর মাধ্যমে পেশা জীবীগণ মাধ্যমে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৮ রহিত করার সকল অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানাবে এবং কাউন্সিল বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার উপর পূর্ণ আস্থা প্রদর্শন করবে।
এই পরিস্থিতিতে, পেশাজিবীগন তাদের নায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এর নির্দেশনা ও হস্তক্ষেপ কামনা করছে। পেশাজীবীগণের আশা এই আইন সরকারের বর্তমান মেয়াদে প্রতিষ্ঠা পাবে এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষ এবং ১৫ ভাগ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী সঠিক থেরাপি ও পূনর্বাসন চিকিৎসা পেয়ে দেশের গৌরবময় অগ্রযাত্রার অংশীদার হবে।
ডাঃ কে এমএমরান হোসেন, পিটি,
প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ)
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
