সাওম বা রোজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ!! 

সাওম বা রোজা
০১. সাওম এর আভিধানিক অর্থ: বিরত থাকা
০২. পরিভাষিক অর্থ: সুবহেসাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রকার পানাহা ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা।

রোজার উদ্দেশ্য:
“লাআল্লাকুম তাত্তাকুন”- আশা করা যায় এর দ্বারা তোমাদের মধ্যে তাকওয়া (খোদাভীতির) গুণাবলীর সৃষ্টি হবে।

রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলতের কারণ:
০১. এ মাসেই কুরআন নাযিল হয়

০২. এ মাসেই রোজা ফরজ করা হয়েছে।

০৩. এ মাসেই এমন এক রাত রয়েছে যা কল্যাণ ও বরকতের দিক থেকে এক হাজার মাস থেকে উত্তম।

০৪. এ মাসে মুজাহিদী চেতনা বৃদ্ধি পায় এ জন্য যে,
এ মাসেই ইসলামের প্রাথমিক বিজয় সংগঠিত হয়,
এ মাসেই ইসলামের পরিপূর্ণ বিজয় হয়।

রমজান ও রোজার ফজিলত:
০১. রমজান মাসকে শাহরুল্লাহ বা আল্লাহর মাস বলে বিশেষ মর্যাদার স্বীকৃতি দেয় হয়েছে।

০২. রমজান মাস সকল মাসের সর্দার।

০৩. রমজান মুমিনের জীবিকা বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়।

০৪. রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের, মাঝের দশ দিন ক্ষমার এবং শেষের দশ দিন জাহান্নামের থেকে মুক্তি লাভের।

০৫. রমজান মাসের আগমনে আসমানের দুয়ার খুলে যায়।

০৬. রমজান মাস এলে রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়।

০৭. রমজান মাস এলে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়।

০৮. রমজান মাস এলে জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

০৯.রমজান মাস এলে শয়তানও অবাধ্য জীনগুলিকে শৃঙ্খলা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

১০. রমজান মাস এলে প্রতিরাতে আল্লাহর একজন আহ্বানকারী বলতে থাকেন “যারা কল্যাণ চাও তারা: সামনে এগিয়ে যাও, যারা মন্দ কাজে ল্পিত থাক তারা থাম”।

১১. যে ব্যক্তি রমজান মাসে একটি ফরজ আদায় করেন, সে অন্যান্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমান নেকীর অধিকারী হবেন।

১২. যে ব্যক্তি রমজান মাসে একটি নফল কাজ করে, সে অন্যান্য মাসের ফরজ ইবাদতের সমান নেকী লাভ করে।

১৩. যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে ঐ রোজাদারের সম পরিমাণ পুরষ্কার পাবে, তাতে ঐ রোজাদারের পুরষ্কারের কমতি করা যাবে না।

১৪. যে ব্যক্তি রমজান মাসে কেন রোজাদারকে ইফতার করাবে, তা তার গুণাহ মাফ এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে।

১৫. যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে তৃপ্তি সহকারে আহার করাবে আল্লাহ তাকে হাউজে কাউছার থেকে পানি পান করাবেন। এরপর জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত তার আর তৃষ্ণা পাবে না।

১৬. যে ব্যক্তি রমজান মাসে অধীণস্থদের উপর থেকে কার্র্যভার লাঘব করবে, আল্লাহ তাকে মাঝ করে দিবেন এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত দিবেন।

১৭. রোজা হচ্ছে একটি ঢাল

১৮. রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধির চাইতেও সুগন্ধিময়।

১৯. জান্নাতের রাইয়ান গেট দিয়ে রোজাদাররা ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

২০. আল্লাহ বলেন, “আদম সন্তানদেরকে তাদের নেক আমলের জন্য দশ থেকে সাতশত গুণ বিনিময় দেয়া হয়। তবে সাওমের কথা ভিন্ন। সাওম আমার ই জন্য, আমিই এর প্রতিান দিব। কারণ রোজাদার আমার জন্য প্রবৃত্তি এবং পানাহার বন্ধ রাখে।”

২১. রোজা আখিরাতে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে।

২২. রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের সময়। একটি হল ইফতারের সময় অপরটি তার প্রভুর সাথে সাক্ষাতের সময়।

২৩. যে ব্যক্তি ঈমান ও আত্নসমালোচনার সাথে রমজানের রোজা রাখবে তার পূর্বেকার গুণাহ খাতা মাফ করে দেয়া হবে।

২৪. যে ব্যক্তি ঈমান ও আত্নসমালোচনার সাথে রমজানের রাতে নামাজ পড়বে তার পূর্বেকার সমস্ত গুণাহ মাফ করে দেয়া হবে।

২৫. যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান ও আতœসমালোচনার সাথে ইবাদাত করবে তার পূর্বেকার সমস্ত গুণাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

রোজার শরয়ী মর্যাদা:
রোজা ফরজে আইন: যে তা অস্বীকার করবে সে কাফির, যে তা পালন করবেনা সে ফাসিক।

রোজার শ্রেণীভেদ:
০১. ফরজ রোজ: রমজানের রোজা।
০২. সুন্নাত রোজা:
আশুরার রোজা মহরমের ৯-১০ তারিখ
আরাফার রোজা: জিলহজ্বের ৯ তারিখ
আইয়ামে বীযের রোজা: চাঁদের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখ
০৩. ওয়াজিব রোজা- মানতের রোজা, কাফফারার রোজা
০৪. নফল রোজা:
শাওয়াল মাসের ৬টি রোজা
সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা
শাবানের ১৫ তারিখের রোজা
জিলহজ্ব মাসের প্রথম ৮ রোজা

রোজা ফরজ হওয়ার শর্ত:
০১. মুসলিম হওয়া
০২. বালিগ হওয়া
০৩. আকিল অর্থ্যাৎ বুঝ জ্ঞান হওয়া
০৪. রোজা রাখতে সক্ষম হওয়া

জেনে না রাখার নিয়ম:
০১. সফর
০২. রোগ
০৩. গর্ভধারণ
০৪. স্তন্যদান
০৫. ক্ষুধা-তৃষ্ণার আধিক্য
০৬. বার্ধক্য ও দুর্বলতা
০৭. জীবননাশের ভয়
০৮. জিহাদ
০৯. বেহুঁশ হওয়া
১০. মস্তিষ্ক বিকৃতি

রোজা রাখতে না পারলে করণীয়:
০১. কাযা করা- অনিচ্ছাকৃত ও শরীয়ত সমর্থিত কারণে রোজ রাখতে না পারলে বা রোজা ভেঙ্গে ফেলতে হলে পরবর্তীতে সুবিধাজনক- সময়ে কাযা করতে হবে। কাযা রোজার হুকুম হল- একটা রোজার বদলে একটা রোজা রাখা।
০২. ফিদিয়া দেয়া- কোন ব্যক্তি রোজা রাখতে স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে, তবে প্রতি রোজার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে ফিদিয়া দিবে।
০৩. কাফফারার হুকুম: গাফিলতা বশত রোজা না রাখলে বা রোজা নষ্ট হলে তার জন্য কাফফারা দেয়া ওয়াজি।

কাফফারার হুকুম:
– ধারাবাহিক ঘাট দিন রোজা রাখতে হবে
– রোজা রাখতে না পারলে-
ঘাট জন মিসকিনকে দুবেলা পেট পুরে খাওয়াতে হবে
ষাট জন মিসকিনকে খাবারের পরিবর্তে খাদ্যশস্য বা এর মূল্যও দেয়া যেতে পারে।
রোজা বনাম উপবাস:
শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকাকে প্রকৃত রোজা বলা যায় না। বরং তার নাম হবে উপবাস। আসল রোজা হচ্ছে তাই, যার সাহায্যে মানুষ তার মন-মস্তিষ্ক ও সকল যোগ্যতাকে আল্লাহর নাফরমানী থেকে মুক্ত রাখবে।

রসূল (সা:) বলেছেন-
০১. “তুমি যখন রোজা পালন করবে, তখন তোমার কর্তব্য হবে তোমার কান, চোখ, হাত, পা এবং সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত রাখা”।

০২. “রোজা অবস্থায় যে লোক মিথ্যা কথা বলা এবং মিথ্যা আচরণ থেকে বিরত হয় না, তার ক্ষুধা-তৃষ্ণার্ত থাকার আল্লাহর কেন প্রয়োজন ছিল না”।

০৩. “এমন রোজাদারও রয়েছে, রোজায় ক্ষুধা, তৃষ্ণা ভোগ করা ব্যতীত যাদের নেকীর পাল্লায় আর কিছুই পড়ে না”।

আরও পড়ুনঃ কোন চিকিৎসায় রোজা ভেঙে যায় আর কোন চিকিৎসায় রোজা ভাঙে না!

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*