তালশাঁস এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
তালশাঁস এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

তালশাঁস এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

 

গ্রীষ্মের অন্যতম একটি আরামদায়ক ফল হচ্ছে কাঁচা তাল অর্থাৎ তালের শাঁস। এশিয়ার দেশেগুলোতে গরমে কাঁচা তালের শাঁস খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার হিসেবে পরিচিত। তালের শাঁস খেতে অনেকটা নারকেলের মতই। কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা।

তালের বীজও খাওয়া হয় লেপা বা “তালশাঁস” নামে । তাল গাছের কাণ্ড থেকেও রস সংগ্রহ হয় এবং তা থেকে গুড়, পাটালি, মিছরি ইত্যাদি তৈরি হয়। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাসিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়াম সহ আরো অনেক খনিজ উপাদান। এর সাথে আরো আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও এ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান।

তাল শাঁসের মধ্যে বিদ্যমান উপাদানগুলো আপনার শরীরকে নানা রোগ থেকে রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

তালশাঁস এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • ক্যান্সারের মতো মরণ ব্যাধি রোগ থেকেও রক্ষা করে
  • স্মৃতিশক্তি ভালো রাখে এবং শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
  • বমি ভাব আর মুখের অরুচিও দূর করে।
  • দাঁতের জন্য অনেক উপকারি। দাঁতের এনামেল ভালো রাখে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
  • তালের শাঁস হাড়কে শক্তিশালী করে তোলে।
  • রক্তশূন্যতা দূরীকরণে দারুণ ভূমিকা রাখে।
  • তালের শাঁস খেলে লিভারের সমস্যা দূর হয়।
  • খাবারে রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • তালে শাঁস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানিশূন্যতা দূর করে।
  • দেহকে রাখে ক্লান্তিহীন।
  • তালে শাঁসে রয়েছে ভিটামিন সি ও বি কমপ্লেক্স যা শরীরের জন্য বিশেষভাবে উপকারি।
  • ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • তালশাঁস শরীরের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। এমনকি ক্ষয় হয়ে গেলে তা পূরণ করে।
  • তারুণ্য ধরে রাখে।
  • এতে চিনির পরিমাণ অতি অল্প মাত্রায় থাকে।
  • তালশাঁস ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়।
  • হাড়ের রোগ প্রতিরোধী হিসেবেও কাজ করে।

পুষ্টিগুণ:

তালের শাঁসকে নারিকেলের মতোই পুষ্টিকর বলে বিবেচনা করা হয়। মিষ্টি স্বাদের মোহনীয় গন্ধে ভরা প্রতি ১০০ গ্রাম তালের শাঁসে রয়েছে ৮৭ কিলোক্যালরি; ৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম; ৮৭.৬ গ্রাম পানি; ০.৮ গ্রাম আমিষ; ০.১ গ্রাম ফ্যাট; ১০.৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেটস; ১ গ্রাম খাদ্যআঁশ; ২৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম; ৩০ মিলিগ্রাম ফসফরাস; ১ মিলিগ্রাম লৌহ; ০.০৪ গ্রাম থায়ামিন; ০.০২ মিলিগ্রাম রিবোফাভিন; ০.৩ মিলিগ্রাম নিয়াসিন এবং ৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

১০০ গ্রামের একটি তালের শাঁসের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশই থাকে জলীয় অংশ, ক্যালরি থাকে ২৯, শর্করা ৬ দশমিক ৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৩ মিলিগ্রাম, খনিজ শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৪ মিলিগ্রাম। শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেওয়া এই তালশাঁস কতটা উপকারী, তা জেনে নেওয়া যাক।

মেডিকেলবিডি/আরএম/ ১৬ জুন, ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

5 + 11 =