
ডায়াবেটিস
এই স্লোগানে প্রতি বছরের মতো এবারো ১৪ নভেম্বর পালিত হয়েছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। সর্বসাধারণকে উদ্ধুদ্ধ করার জন্য জাতিসঙ্গের ঘোষিত এ দিবকে গুরুত্বসহকারে সারা বিশ্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়েছে। ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা ও পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো বিভিন্নভাবে।
আমরা জানি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সমস্যা ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৪১৫ মিলিয়ন লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ২০৪০ সালে ৬৪০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। স্বপ্ল ও মধ্যম আয়ের দেশের ওপর এই বোঝা এখন অনেক বেশি। ডায়াবেটিস রোগীদের অর্ধেকই নারী। ২০৪০ সালে এটি ৩১৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।
ডায়াবেটিসের সমপরিমাণ রোগী প্রি-ডায়াবেটিসে ভুগছেন। বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। খুশির খবর হলো, সঠিক সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে এদর ৫০ শতাংশ লোকের ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিশ্বের প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন নারী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। সাতজন গর্ভবতী মহিলার একজন গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এবং গর্ভের পরে ডায়াবেটিস থেকে যাওয়ার হার বাংলাদেশের আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। সাধারণত গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের রোগীরা ১০ বছরর মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মহিলাদের গর্ভকালীন জটিলতা অনেক বেশি থাকে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মা ও শিশুর অনেক ধরণের জটিলতা থাকে। সামগ্রিকভাবে এক জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব। সুস্থ শিশুর জন্য চাই সুস্থ মা। ছোটবেলা থেকে মেয়েদের স্বাস্থ্যের প্রজত্ন যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রলেন জন্য চাই সমন্বিত পরিকল্পনা। প্রতিটি সেবা প্রতিষ্ঠানে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সুযোগ থাকা দরকার। ডায়াবেটিস আক্রান্ত নারীদের ডায়াবেটিস সম্পর্কে উপযুক্ত শিক্ষা প্রয়োজন।
আসুন, আমরা সবাই মিলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সচেষ্ট হই। ডায়াবেটিস রোগীর কল্যাণে বিশেষ করে নারী ডায়াবেটিক রোগীদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসি। তাহলে এবারের বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের স্লোগান স্বার্থক হবে।
আরও পড়ুনঃ বিরল রোগ ট্রি ম্যান বা গাছে মানব
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
