কি করে মৃত্যু পথযাত্রী দুরারোগ্য রোগাক্রান্ত রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে জানাবেন ?

অ্যাবনরমাল ব্রিভমেন্ট

অ্যাবনরমাল ব্রিভমেন্ট

অ্যাবনরমাল ব্রিভমেন্ট রিঅ্যাকশনজনিত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরগুলো

তাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ যারা ডিফিকাল্ট ব্রিভমেন্টে ভোগেন তারা হলেন-

১. যারা মৃতব্যক্তির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বা সরাসরি নির্ভরশীল

২. শোকের সময় যারা অন্যান্য জটিল সমস্যায় ভোগে

৩. যারা দুর্বিষহ মুত্যযন্ত্রণার স্বাক্ষী ( যে সমস্ত্ ক্ষেত্রে চিকিৎসা রোগীর উপসর্গ প্রশমনে ব্যর্থ হয় ।)

৪. যারা রোগীর অযত্নের জন্য নিজেকে বা অন্যকে দায়ী ভাবেন।

৫. যারা মৃতব্যীক্তর প্রতি আবেগাপ্লুত হয়ে ক্ষমা প্রার্থী বা অপরাধবোধে ভোগে।

৬. যারা মৃতপূর্ববর্তী সময়ে মৃত ব্যক্তির শেষ কথা বা নিজের অব্যক্ত অনুভূতি প্রকাশ করার সযোগ পায় না যেমন- হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনা/সন্ত্রাসী

হামলায় মৃত্যু অথবা মৃত্যুর সময় উপস্থিত হতে না পারা ইত্যাদি ক্ষেত্রে।

 

এবার আসা যাক দ্বিতীয় প্রসঙ্গে অর্থাৎ কি করে মৃত্যু পথযাত্রী দুরারোগ্য রোগাক্রান্ত রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে জানাবেন ডাক্তার হিসেবে।
প্রথমেই মনে রাখবেন গরুতর অসুস্থ রোগীর সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আপনাকে খুবই সহনশীল হতে হবে। আপনার ব্যবহারে যেমন রোগীর প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি থাকে। আমরা যদি কল্পনায় রোগীর ব্রক্তিত্বে প্রবেশ করতে যাই তাহলে আমাদের প্রতিক্রিয়া পরিমার্জিত হয়ে অনুরূপ পরিস্থিতিতে আমরা পড়লে কি অনুভূতি হবে সেটা ভাবতে সেখাবে একেই বলে এমপ্যাথলি এটা খুবই সত্যি কথা যে আমরা সবসময় এমনটি ভাবতে পারি না কিন্তু এ প্রচেষ্টা আমাদের রোগের প্রতি রোগীর প্রতিক্রিয়া ও মনোভাব বুঝতে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে।

 

 

এটা আমাদের দায়িত্ব যে রোগী ও তার কোনো নিকটাত্মীয়কে রোগীর কি হচ্ছে এবং কি বোঝাচ্ছে তা অবহিত করণ। এতে অনেক সময়ই যে আরোগ্য লাভ সুদূরপরাহত, রোগী রোগের জটিলতায় ভুগছে অথবা ইনভেস্টিগেশনে গুরুতর সম্ভবত রোগের শেষ পর্যায় ইত্যাদি বোঝানো সম্ভব।
এধরনের পরিস্থিতিতে আপনি হয়ত একমাত্র ডাক্তার যিনি এ সমস্যা মোকাবিলায় দায়িত্ববান হতে পারেন।

সবসময় এ পরিস্থিতিতে শান্ত হয়ে ও রোগীর একান্ত ব্যক্তিগত এলাকায় আপনাকে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে কাউকে আপনার পরিপূরক বানিয়ে নেন যাতে আপনার কাজে কেনো ব্যাঘাত সৃষ্ঠি না হয়। সাধারণত খুব ভালো হয় যদি আপনি একজন নার্স নেন আপনার সাথে যাতে সে আপনার কথাটাকেই তার স ব সহকর্মীকে অবহিত করতে পারে।

 

 

হঠাৎ করে প্রথমেই রোগের ব্যাপারে কোনো কিছু অবহিত করা একেবারে অনুচিত। প্রথমে বুঝতে হবে রোগ সম্পর্কে রোগী কতটুকু জ্ঞান রাখে।
অনেক ডাক্তারই এই দুরূহ বিষয়টিকে অবহেলা করে থাকেন। অতীতে অনেক রোগীর রোগ জ্জানার ব্যাপারে অনীহা ছিল এবং কারও বেলায় এটা বলার ব্যাপারে বাঁধাও দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে রোগীরা সে তুলনায় অনেক জ্ঞানী অনেক সময় দেখা যায় তারা রোগ সম্পর্কে সরাবরি প্রশ্ন করেন ও আগ্রহের সাথে রোগের ব্রাপারে বিস্তারিত বিবরণ ও তার পরিণতি জানতে চান।

অনেক সময় রোগের জটিল ব্যাপারটা রোগীর কাছে লুকানো হয়। এটা আদৌ সঠিক নয়। কারণ রোগ সম্পর্কিত বিস্থারিত তথ্যাবলী একান্তই রোগীর তাই ডাক্তারের কোনো অধিকার নেই রোগীকে এই তথ্যাবলী থেকে বঞ্চিত করার ।
আবার স্বল্পসংখ্যক রোগী যারা রোগের বিস্তারিত তথ্যাবলী জানতে আগ্রহী নয় তাদেরকে জোর করে কিছু জানানোও ঠিক হবে না। মানুষে মানুষে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবশ্যই সমতা এবং স্পর্শকাতরতাকে বোঝা জরুরি। একেবারে কোনো বাঁধা ধরা নিয়ম মানা এক্ষেত্রে অনুচিত যেমন-আমরা প্রাত্যহিক জীবনে স্পর্শকাতর দুঃসংবাদ এড়িয়ে চলি। তাই আমদের রোগীর প্রতি আমাদের বিবেচক হতে হবে ও যতটা সম্ভব রোগের তথ্যাবলী তাকে জানতে দেয়া উচিত। তবে সতর্ক থাকতে হবে যেমন হুট করে হঠাৎ কোনো চরম দুঃসংবাদ বা চরম সত্য অন্য কেনো মানুষকে দেয়া না হয় কারণ মনে রাখবেন হঠাৎ করে কাউকে দুঃসংবাদ দেয়া আর না হয় কারণ মনে রাখবেন হঠাৎ করে কাউকে দুঃসংবাদ দেয়া আর ওই লোকটাকে শারীরিক নির্যাতন করা একই কথা।

 

 

হসপিটাল আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা সিসিলি স্যানতারসের মতে রোগীকে ডাক্তার, নার্স বা আত্মীয়-স্বজন নয় অবশ্যই নিজস্ব চাহিদা মোতাবেক শ্রুত তথ্যাবলীতে নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। আমাদের কর্তব্য হবে রোগীর অব্যাক্ত অনুভূতি, যন্ত্রণা উপলব্ধি করে সে অনুযায়ী কাজ করা রোগীর অভিব্যক্তি দিকে খেয়াল রাখতে হবে সেটাকে সতর্কতার সাথে পাঠোদ্বার করে যা বলতে চাই সেটা সংকেতের মাধ্যমে বোঝাতে হবে। সম্ভব হলে ভালো কিছু তথ্যাবলী দিয়ে কথা শুরু করতে হবে অথবা রোগী কেমন আছে সেটা রোগীকে বলতে দিন। এভাবে বলতে গিয়ে রোগী দেখবেন রোগ নিয়ে নিজেই আপনার সাথে আলোচনার সুযোগ নিয়ে নেবে।

আপনার প্রথম সম্ভাষণেই রোগী ব্যাপারটা এড়িয়ে কোনো প্রশ্ন নাও করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি নিজেই বিবেচনা করবেন যে অতীতের সংলাপ থেকে কেনো সুনির্দিষ্ট বিবৃতি রোগীকে দেয়া ঠিক হবে কি না বা তা পরবর্তীকালে বলার জন্য মুলতবি রাখবেন কি না। অনেক সময় অতিরিক্ত চিন্তামগ্ন বলার জন্য মুলতবি রাখবেনকি না।
অনেক সময় অতিরিক্ত চিন্তামগ্ন রোগী অস্থির হয়ে বলে আমি সব জানতে চাই অথচ তাদের চোখের ভাষা আপনার কাছে আশ্বাসবাণী শুনতে চায়। এক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই রোগীকে হুট করে দুঃসংবাদ দেয়া যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হয়ে রোগী চরম বিষন্নতা বা হিস্টেরিয়া রোগে ভুগতে পারে নিজের শারীরিক রোগের অতিরিক্ত।

 

 

 

তাই যতটা সম্ভব রোগীকে প্রশ্ন করতে দিতে হবে যাতে আমরা উত্তর দিতে পারি এবং এমনবাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যাতে তা রোগীর জন্য সহনশীল হয়। যে প্রশ্ন করা হয়নি তা উত্তর দেয়া থেকে বিরত থাকাই সমীচীন হবে।
যদি আপনি স্পর্শকাতর ও সহনশীল হন তাহলে বড় কোনো ভুলের সম্ভাবনা খুবই কম। যাদেরকে গুরুতর কোনো দুসংবাদ বলা হয়েছে পরে তাদেরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে প্রায়শই হতাশাজনক ভিন্ন উত্তর পাওয়া যায়। যদি অপ্রিয় সত্যটা তাদের অসহ্য হয় অনেক সময় অনেক রোগী রোগের প্রকৃতি পরিস্থিতি পূর্ণভাবে বোঝেন কিন্তু তা আপনার কাছে বিস্তারিত শুনতে আদৌ আগ্রহী নয়। এক্ষেত্রে রোগীর ইচ্ছাকে সম্মান দেখানো অবশ্যকর্তব্য।

কখনও কোনো আশা বা ভরসা ছাড়া রোগীকে ছেড়ে যাবেন না। যুদ দূরারোগ্য রোগে অপারেশন করা দূরূহ হয় তাহলে বলতে হবে অপারেশন করা এক্ষেত্রে উচিত না কিন্তু আমি তোমার যত্ন ও চিকিৎসা করে যাব।
মনে রাখবেন রোগের চরম দুঃসংবাদটা রোগীর চেয়ে রোগীর স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের জন্য অসহনীয় ব্যঅপার কারণ তারা শুধু রোগীর রোগ যন্ত্রণায় ব্যথিত হয় না বরং রোগীকে হারাতে হবে এই কষ্টটাও তীব্রভাবে অনুভব করে।
যাইহোক রোগ সম্পর্কিত তথ্যাবলী একান্তই রোগীর অধিকার আত্মীয়-স্বজনের নয়। তাই রোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে আত্মীয়-স্বজনকে নিতান্ত বিপদে না পড়লে তথ্যাবলী দেয়া উচিত নয় এটা নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি।

 

আকস্মিক মৃত্যু সংবাদে একজন শোকাহত মানুষের মনোজগতকে কি কি স্বাভাবিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

 

 

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*