
মিষ্টিকুমড়ার স্বাস্থ্যগুণ
মিষ্টিকুমড়ার স্বাস্থ্যগুণ (Health Benefits)
ভিটামিন এ-এর একটি সমৃদ্ধ উৎস হলো মিষ্টিকুমড়া। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সংরকষণের জন্য যে পরিমাণ ভিটামিন এ প্রয়োজন হয়, তার ২৪৬% প্রতি ১০০ গ্রাম মিষ্টিকুমড়ায় বিদ্যমান। মিষ্টিকুমড়াতে বিদ্যমান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ‘ভিটামিন এ (বিটা ক্যারোটিন), সি ও ই চোখের রেটিনার সুরক্ষা এবং বার্ধক্যজনিত রেটিনার ডিজেনারিটিভ চেঞ্জ রোধে অত্যন্ত কার্যকর।
মিষ্টিকুমড়াতে বিদ্যমান উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বর্পূ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি স্ট্রোক এবং বৃক্ক পাথুরির ঝুঁকি কমায়।
গর্ভধারণে অক্ষম মহিলাদের গর্ভধারণের সক্ষমতা বাড়ায় এবং দুগ্ধবতী মহিলদের দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি করে। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও মিষ্টিকুমড়া অনন্য।এ ছাড়া হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থুলতা, হাঁপানিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধেও রয়েছে মিষ্টিকুমড়ার জাদুকরী ভূমিকা।
মিষ্টিকুমড়া বীজ ও প্রোস্টেট গ্রন্থি
মিষ্টিকুমড়ার সমগ্র অংশ ব্যবহৃত হলেও ঔষধি গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ অংশটি হলো এর বীজ। প্রতি ১০০ গ্রাম মিষ্টিকুমড়া বীজে রয়েছে-
- কার্বোহাইড্রেট ৫৪ গ্রাম
- প্রোটিন ১৯ গ্রাম
- ফ্যাট ১৯ গ্রাম
- ডায়েটারি ফাইবার ১৮ গ্রাম
- অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে রয়েছে (প্রতি ৩২.৫ গ্রামে)
নিউট্রিয়েন্ট পরিমাণ :
ম্যাঙ্গানিজ ১.১৪ মিগ্রা
সোডিয়ম ৫.৮৫ মিগ্রা
পটাশিয়াম ২৯৮.৬ মিগ্রা
ফসফরাস ৩৯৭.৬৪ মিগ্রা
কপার ০.৪৩ মিগ্রা
ফসপরাস ৩৯৭.৬৪ মিগ্রা
ফসপরাস ৩৯৭.৬৪ মিগ্রা
ম্যাগনেসিয়াম ১৯০.৯২ মিগ্রা
জিঙ্ক ২.৫২ মিগ্রা
আয়রন ২.৮৪ মিগ্রা
সাধারণত ৪০-৪৫ বছর বয়সের পর পুরুষের বৈশিষ্ট্য প্রকাশক এস্ট্রোজেন হরমােন টেস্টোস্টে রন নামক হরমোনটি ধীরে ধীরে ডাই-হাইড্রো টেস্টোস্টেরনে DHT রূপান্তিরত হতে তাকে। এই ডাই-হাইড্রো টেস্টোস্টেরনের প্রতিক্রিয়ার ফলে পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থির কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতবাবে বিভাজিত হয় এবং অস্বাভাবিকভাবে মাথার চুল পড়তে থাকে। প্রোস্টেট গ্রন্থির এই বৃদ্ধি সাধারণত নির্দোষ প্রকৃতির হয়ে থাকে। ফলে ঘন ঘন প্রসাব হয়; কখনো বা ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্বাব হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে বলা হয় বিপিএইচ (Benign Prostatic Hyperplasia)। বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি একটি অতি সাধারণ ঘটনা । চুল পড়ার এই রোগটিকে বলা হয় এন্ড্রোজেনিক বা মেল প্যাটার্ন অ্যালোপেসিয়া, যাতে পুরুষের মাথার সামনের দুই পাশ থেকে চুল পড়ে ইংরেজি M অক্ষরের আকৃতি ধারণ করে (Androgenic or male pattern alopacia)।
মিষ্টিকুমড়া বীজের তেলে রয়েছে বিটা-সিটোস্টেরল (beta-sitosterol) এবং ডেলটা- ৭ স্টেরিন (Delta-7 sterine) নামক দু’টি সক্রিয় উপাদান। গবেষণায় প্রমাণিথ হয়েছে, বিটা-সিটোস্টেরল নামক ফাইটোস্টেরলটি, ৫-আলফ-রিডাকটেজ নামক এনটাইমের ক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে টেস্টোস্টেরন হরমোনটি ডাই-হাইড্রো টেস্টোস্ েটরনে রূপান্তিরত হতে পারে না। মিষ্টিকুমড়া বীজের অপর সক্রিয় ুপাদান ডেলটা-৭ স্টেরিন যা প্রোস্টেট গ্রন্থির গ্রাহক কোষে (Receptor cell) ডাই-হাইড্রো টেস্টোসেটরনের ব্লকার ব প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। এতে করে দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় থাকে। এতএব এ কথা নির্দ্ধিধায় বলা যায় নিয়মিত নির্ধারিত মাত্রায় মিষ্টিকুমড়া বীজ বা মিষ্টিকুমড়া বীজ জাত তৈরি ওষুধ সেবনে পুরুষের প্রোােস্ট গ্রন্থির গঠন এবং কার্যকারতিত স্বাভাবিক ও সুনিয়ন্ত্রিত থাকে।
বিপিএইচের চিকিৎসা
ক্যাপসুল ইরিপাম-দু’টি করে ক্যাপসুল দিনে দু’বার অথবা চিকিৎসকের পরামর্শমতো সেব্য ৩-৬ মাস পর্যন্ত। ক্যাপসুল সিলাজ-দু’টি করে ক্যাপসুল দিনে দু’বার অথবা চিকিৎসকের পরামর্শমতো সেব্য ৩ মাস ।
সিরাপ চিরল- তিন চামচ করে দিনে তিনবার অথবা চিকিৎসকের পরামর্শমতো সেব্য ৩ মাস।
আরও পড়ুন : চোখের চারপাশে কুঁচকে যাওয়া প্রতিরোধে
গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
