শিশুদের কতিপয় মানসিক সমস্যা (পর্ব – ১)

শিশুদের কতিপয় মানসিক সমস্যা

শিশুদের কতিপয় মানসিক সমস্যা

শিশুর একটি প্রাণখোলা হাসি, ওই হাসিতে ভরে যায় আপনার মন-প্রাণ-হৃদয়। আপনার শিশুর ওই হাসি কত না তৃপ্তি এনে দেয় আপনার মনে, যার তুলনা পৃথিবীর আর কোনো কিছুতে করা সম্ভব নয়। আপনার শিশুর এই প্রাণখোলা হাসির জন্য আপনি আকাশের চাঁদটি পর্যন্ত এনে দিতে চান। কিন্তু আপনি জানেন কি অন্যান্য শারীরিক অসুখের মতো মানসিক অসুখেও আক্রান্ত হতে পারে আপনার হৃদয়ের টুকরা।

এজন্য তার মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হবে না। আর এজন্য দায়ী কিন্তু আপনিই (পিতা-মাতা) হ্যাঁ বড়দের মতো শিশুরাও মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারে তবে শিশুদের প্রকাশভঙ্গি ও উপসর্গ ভিন্ন। শিশুদের কয়েকটি মানসিক রোগ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো-

ঘুমের মধ্যে হাঁটা

৪ থেকে ১০ বছর বয়সে এ রোগ প্রায়ই দেখা যায়। দেখা যায় ঘুমের ঘোরে সে বিছানা থেকে উঠেই তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে হেঁটে বেড়াতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠে সে আর কিছুই মনে করতে পারে না। এ শিশুদের রোগ দূরীকরণের জন্য পিতা-মাতার সাহচর্য অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুকে সার্বক্ষণিক প্রফুল্ল এবং শিশুটির কাজের প্রতি সন্তুষ্টির মনোভাব সৃষ্ঠি করা হলে এই সমস্যা থাকে না অযথা ঝাড়ফুঁক, জিনের আসর, পরী ধরা, বাতাস লাগা প্রভৃতি ভ্রান্ত ধারণা করা একটা কুসংস্কার মাত্র। এসব ধারণা না করে যদি শিশুটির মনের উৎফুল্লতা সষ্টি করা যায় তবে এ রকম সমস্যা থাকে না।

 

বিছানায় মূত্রত্যাগ

এটা শিশুদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। প্রায় এক-চতুর্থাশ শিশুর মধ্যে এই রোগের প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। এটা দিনেও হতে পারে, আবার রাতেও হতে পারে। এই রোগ দুই রকমবাবে দেখা যায়। জীবাণু ঘটিত মূত্রতন্ত্র এবং বিশেষ রকমের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত রোগ। এসব শিশুর অনেকেরই শারীরিক অবস্থার তুলনায় মানসিক বিকাশ ঘটে না, আবার অনেক সদস্যের মিশ্রিত পরিবার সেখানে শিশুদের যতেœর অভাব রয়েছে সেখানেই বেশি। আবার অনেক সময় বিশেষ ভয়, দুশ্চিন্তা, ত্রুটিমুক্ত স্বপ্ন, মূত্র জমা রাখা প্রভৃতি কারণেও বিছানায় মূত্রত্যাগ ঘটে।

 

রাত্রিকালীন ভয়

অনেক শিশুই রাতে ঘুম থেকে হঠাৎ ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে। আবার রাতে অনেক সময় জোনোকী পোকা দেখলেও ভয়ে মুখ কালো হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যেভাবেই হোকে শিশুটির মনের কোথাও না কোথাও ভয় পাওয়ার মতো কিছু একটা হয়েছে।

 

 

স্কুল পালানো

স্কুল পালানো দু’ভাবে সাধারণত পাওয়া যায়। প্রথমত কোনো শিশু স্কুল পলায়নে আনন্দ পায় এবং দ্বিতীয়ত, দেখা যায় শিশুটির পারিবারিক শিথিলতা অথবা অভিভাবকদের অমনোযোগিতা। এক্ষেত্রে শিশুকে মারধর বা বকাঝকা না করে সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে হবে। অতএব শিশুর মনে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে স্বাভাবিকবাবে নিয়ন্ত্রণ করলে এ অভ্যাস দূর করা সম্ভব।

আবার যদি চাপ সৃষ্টি বা ভয় দেখানো হয় তবে শিশুদের মনে এমন এক প্রকার অপরাধপ্রবণতা সৃষ্টি হতে পারে যা শিশুর আগামী দিনের জন্য হুমকিস্বরূপ।

আরও দেখুনঃ-শিশুকে খাওয়ানোর ব্যাপারে কিছু পরামর্শ ও সমস্যার সমাধান (পর্ব – ২)

 

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*