খাদ্য গ্রহণে শিশুর অনীহা
আমাদের কাছে যেসব মা তাদের শিশুদের নিয়ে আসেন তাদের মধ্যে অীধকাংশেরই অভিযোগ ‘ডাক্তার সাহেব আমার বাচ্চা একদম খেতে চায় না’ মায়েদের বুঝতে হবে যে, ক্ষুধা একটি প্রবৃত্তি, ক্ষুধা লাগলে কাউকে শিখিয়ে দিতে হয় না। শিশুটি খাদ্য গ্রহণের জন্য জোর না করে কিছুক্ষণ না খেয়ে রাখলে ভালো হয় যদি শিশুটি না খেতে চায়। ক্ষুধা লাগলে শিশুটি শেষ পর্যন্ত খাবেই। আবারও মনে রাখতে হবে কোনো কারণে শিশুকে খাবারের জন্য প্রলুব্ধ করা, ঘুষ দেয়া, প্রশ্রয় দেয়া বা অতিরিক্ত শাসন এবং জেদ করা হলে ভিষ্যতে শিশুটির ভেতরে অস্বাভাবিক আচরণগত ক্রটি গড়ে উঠতে পারে।
শিশুকে খাওয়ানোর ব্যাপারে কিছু পরামর্শ-
- আপনার অসীম প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং শিশুর প্রত্যাশা অনুযায়ী তাকে খেতে দিন। শিশুর খাওয়ার পরিমান কোনদিন কম, কোনদিন বেশি হবে। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।
- নিজের মতো খেতে দিন।
- অল্পঅল্প করে খাবার দেবেন।
- জোর-জবর দস্তি করবেন না।
- হৈ চৈ নয়, চাই শান্ত পরিবেশ
- শিশুকে খাওয়ানোর ব্যাপারে আগেভাগেই পরিকল্পনা করুন
- অযথা দুশ্চিন্তা করবেন না, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন
ঠিকমত কথা বলতে না পারা
শিশুরা আড়াই বছরের আগেই এ অসুখে পড়ে। বয়স অনুযায়ী যে ভাষা বলা প্রয়োজন সেই ভাষা প্রকাশ করতে পারে না। আবার কোনো কোনো শিশুর অকারণে চিৎকার ধ্বনি, হঠাৎ আনমনা হাসা বা কান্না দেখা যায়, আবার নিজের শরীরে আঘাত লাগাতে দেয়ালে মাথা ঠোকানো) দেখা গেছে। বেশিরভাগই এসব শিশু পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না।
দরকার মতো শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করলে এবং সেই সঙ্গে শিশুকে প্রফুল্ল রাখলে এরকম জটিলতা কেটে যায়।
দুষ্টামি বা অতি চঞ্চলতা
বেশিরভাগ শিশুই চঞ্চল। চঞ্চলতা বা দুরন্তপনার সঠিক কোনো মাপকাঠি নেই। তবে স্বাভাবিকের চেয়ে অত্যধিক হলে পিতা-মাতা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এক্ষেত্রে শিশুকে অতিরিক্ত শাসন তার মধ্যে বেপরোয়া বোধ সৃষ্ঠি করতে পারে। এসব শিশুর চুপচাপ থাকার প্রবণতা কম। মনে রাখতে হবে কোনো ধিক্কার বা ব্যর্থতা তাকে সমাজবিরোধী করে তুলতে পারে। কোনো কোনো শিশুর আবার স্নায়ুতন্ত্রের অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়ে থাকে।
নিদ্রাজনিত সমস্যা
পিতা-মাতার অভ্যন্তরীণ কোনো কোনো বিশেষ সমস্যা শিশুদের মনের ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। এসব শিশুর মধ্যে বিষণন্নতা, অনিন্দ্রা, জেদ, ক্ষুধাহীনতা, ক্লান্তি এবং এ রকম অনেক সমস্যা থাকে। অনেক শিশুর দেখা যায় ঘুম অত্যন্ত পাতলা। একটু শব্দতেই জেগে উঠলে আর ঘুমাতে চায় না। কখনও কাঁদতে থাকে আবার কোনো শিশু ভুল বকতে থাকে। আবার অনেক শিশু আছে বাব-মায়ের সঙ্গে না ঘুমালে ঘুমাতে পারে না। এমন লাজুক অবস্থায় বাবা-মাকে যথেষ্ট নমনীয় হতে হবে। এ সমস্যাগুলো বয়সের সাথে সাথে চলে যায়।
মোটকথা শিশুর সুন্দর মানসিক বিকাশের জন্য পিতা-মাতার সময় দেয়া একান্ত কর্তব্য।
আমরা জানি ইশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন দুটি উপাদান দিয়ে। একটি শরীর এবং অপরটি মন। তাই শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য শারীরিক এবং মানসিক দুটো দিককেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পিতা-মাতার আদর, ভালোবাসা, শিশুর সাথে সুন্দর ব্যবহার সর্বোপরি শিশুর মনকে উৎফুল্ল রাখা তার মানসিক বিকাশ সহায়ক। হয়তো আপনার এই শিশুটিই হয়ে উঠবে একদিন জাতির গর্ব।
অপরদিকে শিশুর সাথে জেদ করা, ধমক দেয়া, মারধর করা বা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করা হলে তার মানসিক বিকাশে জটিলতা বাড়তে পারে। ফলে সে হয়তো একদিন হয়ে উঠবে সমাজ, পরিবার তথা রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্কময় চরিত্র। যাকে সবাই ঘৃণা করবে।
তাই শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক বিকাশের প্রতিও আমাদের অবশ্যই দৃষ্টি রাখতে হবে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

