বক্ষব্যাধি চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক

বক্ষব্যাধি চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক

আজকাল আমাদের দেশে বেশ নতুন নতুন কার্যকর এন্টিবায়োটিক এসেছে এবং আসছে, আমরাও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বক্ষব্যধিতে বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে চলেছি। প্রেসক্রিপশনের কোন বাধ্যবকতা নেই। তাই দেখা যায়, অনেক বিপত্তির সৃষ্টি করেন। বিভিন্ন ধরনের বক্ষব্যাধি রয়েছে এবং এগুলোর কিছু কিছু জীবানু সংক্রমণের ফলে হয়ে থাকে। আবার অনেক বক্ষব্যাধি রয়েছে যেগুলোর সঙ্গে জীবানু সংক্রমনের খুব একটা সংশ্লিষ্টতা থাকে না।

যেমন- ফুসফুসের ক্যান্সার, এমফাইসিমা, হাঁপানি প্রভৃতি। আবার জীবানুরও অনেক প্রকারভেদ রয়েছে। যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস ইত্যাদি। সাধারণত হাঁপানিতে তেমন কোন ভূমিকা নেই। ঠিক তেমনি এমফাইসিমা, ফুসফুসের ক্যান্সার, এলার্জিজনিত বক্ষব্যাধি, মিল-কারখানা বা পরিবেম দূষণজনিত বক্ষব্যাধিতে যদি জীবাণু সংক্রমণ না ঘটে তবে এন্টিবায়োটিকের কোন ভূমিকা নেই। যদিও এইসব রোগে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কফ কাশি লেগেই থাকে। ক্রনিক ব্রঙকাটিসের চিকিৎসায় সাধারণত এন্টিাবয়োটিকের প্রয়োজন পড়ে না। যদি কফ পেকে হলুদ হয়ে যায় তবে রোগীকে অবশ্যই এন্টিবায়োটিক খেতে হবে। ১৯৪০ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কৃত হবার পর নিউমোনিয়া চিকিৎসায় এক বিপ্লব আসে। পেনিসিলিন আবিষ্কৃত হবার পূর্বে নিউমোনিয়ায় প্রচুর রোগী মারা যেত। এখনও নিউমোনিয়ায় চিকিৎসকরা পেনিসিলিন জাতীয় ওষুধ লিখে ভালো ফল পান।

এন্টিবায়োটিকের ভালো ফল পেতে হলে প্রকৃত রোগ নির্ণয় করতে হবে। যদি জীবাণুর কারণে বক্ষব্যাধি হয়ে থাকে তবে কফের কালচার এবং সেনসিভিটি পরীক্ষা করে কার্যকর এন্টিবায়োটিক নির্ধারণ করতে হবে। আরেকটি ব্যাপার লক্ষ্য রাখতে হবে অথাব ফুসফুসের পর্দায় পুঁজ হলে আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্লোক্সাসিলিন লিখে দিয়ে থাকি। অনেকে আবার এমপিসিলিন এবং ক্লোক্সাসিলিন মিলিয়ে লিখে থাকেন। তবে যদি কফ বা পুঁজের কালচার এবং সেনসিভিটি পরীক্ষা করে নেই তাহলে চিকিৎসা খুব সহজ হয়ে দাঁড়ায়।

সেফালোসপোরিন আবিস্কৃত হবার পর বক্ষব্যাধি চিকিৎসায় বেশ সুবিধা হয়েছে। এই ওষুধটি অনেক ধরণের জীবাণু উপর সরাসরি কাজ করে। এই ওষুধটির পার্শ্বপ্রক্রিয়াও কাম। তাই অনেক দিন ধরে এই ওষুধটি খায়ানো যায়। ভাইরাস সংক্রমিত হয়ে বক্ষব্যাধি হলে এন্টিবায়োটিক দিয়ে কোন কাজ করা যায় না। শিুশুদের বিভিন্ন বক্ষব্যাধি ভাইরাস দিয়েই হয়ে থাকে। তাই সেখানে এন্টিবায়োটিকের ভূমিকাও কম। তবুও চিকিৎসকগণ লিখে থাকেন। কারণ শিশুদের বেলায় কোন ঝুঁকি নেবার ফুরসৎ থাকে না। তবে আমার দৃষ্টিতে এবং অভিজ্ঞতায় বক্ষব্যাধিতে এখনও টেত্রাসাইক্লিনের কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। কোট্রাইমোক্সজলও বক্ষব্যাধিতে খুব ভালো কাজ করে। মনে রাখতে হবে এই ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বেশি এবং বেশিদিন ধরে খাওয়ানো যাবে না। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এই এন্টিবায়োটিক দেয়া যাবে না।

আকজাল বক্ষব্যাধ বিশেজ্ঞগণ সিপ্রোফ্লোক্সাসিন নামক ওষুধটি বক্ষব্যধিতে প্রচুর লিখেছেন এবং বেষ সফলও হচ্ছেন। সিপ্রোফ্লোক্সাসিন বক্ষব্যাধিতে খুবই ফলদায়ক ওষুধ। তবে শর্ত থাকে যে, এই ওষুধটি যেন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কলম থেকেই লেখা হয়। কারণ এর মাত্রা এবং সময় নির্ধারণ করা হয় প্রকৃত রোগ নির্ণয়ের পর। আজকাল দেখা যাচ্ছে যে, রোগীরা নিজেরাই কফ, কাঁশি হলে দু’চারটি বড়ি খেয়ে বন্ধ কর দেন। ফলে এত উপকারী ওষুদটি রেজিস্ট্যান্ট হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ফুসফুসের গভীর অভ্যন্তরের সংক্রমণ অর্থ্যাৎ ফুসফুসের গভীর অভ্যন্তরের সংক্রমণ অর্থ্যাৎ লোয়ার রেসপিরেটরি ট্রাক্টে ইনফেকশন হলে সিপ্রোফ্লোক্সসিন খুবই আশাপ্রদ সুফল বয়ে আনে। সিপ্রোফ্লোক্সাসিন খাওয়া উচিত নয়। মৃদু থেকে মধ্যম ধরণের শ্বাসতন্ত্রের  নিম্নভাগের সংক্রমণ চিকিৎসায় ৫০০ মি. গ্রাম ১২ ঘন্টা অন্তর দিতে হবে। অনেক সময় এই রোগে আমরা ২-৪ সপ্তাহ দিয়ে থাকি।

এছাড়া, এমক্সিসিলিন, রোভামাইসিলিন, এজিথ্রোমাইসিন, এমক্সিসিলিন, ক্লাভোনিক বক্ষব্যাধি চিকিৎসায় ভালো কাজ করে। একটি কথা মনে রাখতে হবে সব এন্টিবায়োটিকেরই কিছু না কিছু পাশ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনকের যিনি ওষুধের ভালো গুনের চেয়ে খারাপ গুণটির কথা জানেন। তিনি এখানে খারাপ গুণ বলতে পাশ্বপ্রতিক্রিয়াকেই বুঝিয়েছেন। কখনই নিজে এন্টিবায়োটিক কিনে খাবেন না। সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ মতো এন্টিবায়োটিক খাবেন এবং এটা হওয়া চাই পূর্ণমাত্রায় এবং যথাযথ সময় ধরে।

আরও পড়ুনঃ যৌনরোগ থেকে বেঁচে থাকার উপায়।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*